কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ

হাতে-কলমে শিখতে গিয়ে

শিখতে ‘মাঠকর্ম’ একাডেমিক শিক্ষার হাতে-কলমে রূপ দিয়ে থাকে। মাঠকর্ম আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় যোগ করে থাকে এক বড় মাত্রা। এবং শিক্ষার্থীর মনে আনে আত্মিক প্রশান্তি। মাঠকর্ম একাডেমিক শিক্ষা তথা তাত্ত্বিক শিক্ষার প্রয়োগিক ক্ষেত্র। আর নৃবিজ্ঞানের মত বিষয়ে মাঠকর্মের ভূমিকা বলে শেষ করা যায় না। মাঠকর্ম সম্পাদন ছাড়া নৃবিজ্ঞান শেখা যায় না বলে তো বলেই দিয়েছেন নৃবিজ্ঞানের বড় বড় পণ্ডিতরা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী বেলাল হোসাইন বলেন, ‘মাঠকর্ম সম্পাদন ছাড়া নৃবিজ্ঞান এটাতো কল্পনাই করা যায় না। আর নৃবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জানার ও বোঝার স্তর বেড়ে যায়।’ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগ একটা নবীন বিভাগ। মাত্র চারটি ব্যাচ আছে এই বিভাগে। এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা সবাই মাঠকর্মের সাথে পরিচিত কম নয় বেশি বেশি বলা যায়। কারণ এখানের প্রতিটি শিক্ষার্থীর আছে মাঠকর্ম সম্পাদনের অনেক অভিজ্ঞতা। এই বিভাগে সব সময়ই মাঠকর্মের ছোঁয়া লেগেই থাকে এমনটি জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থী ঊর্মি ও মাহাদি। এইতো জুনের ২ তারিখ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত শিক্ষকসহ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নেত্রকোনা গিয়েছিলেন বাংলাদেশ রিসার্চ সেন্টার ফর ইন্ডেজেনিয়াস নলেজ (বারসিক) এর মাঠকর্ম পরিদর্শনের জন্য। বারসিক একটা উন্নয়নমূলক সংস্থা যার কাজ হলো সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে। আর সমাজ যেহেতু মানুষ নিয়ে, সেখানে নৃবিজ্ঞানতো মানুষ নিয়েই গবেষণার বিষয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যায়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ বারসিক-এর সাথে একটা স্বল্প মেয়াদি চুক্তি করে, যার জন্য এই মাঠকর্ম পরিদর্শন। তারা বারসিকে তিনটি কাজ পরির্দশন করে যথা— এগ্রিকালচার, রিসার্চ ম্যানেজমেন্ট, গারো আদিবাসীদের জেন্ডার কনসেপ্ট। বারসিক কি ধরনের কাজ করে তা দেখাই ছিল পরিদর্শন পর্বের উদ্দেশ্য। বারসিকে গবেষণায় সহযোগিতার জন্য বারসিক নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাথে এই চুক্তি করে। ‘মাঠকর্ম নৃবিজ্ঞানের প্রাণ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সমাজ, গোষ্ঠীর সম্পর্কে জানা ও বোঝা যায় যা জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়।’ বলছিলেন বিভাগের ৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিফ আফতাব। মানুষ কি করে? কেন করে? কিভাবে করে? এই করার সাথে অন্যটার সম্পর্ক কি? কি করলে সমস্যার সমাধান আসবে? এই সমাধান কতটুকু স্থায়ী হবে? এই যদি হয় নৃবিজ্ঞানের পড়াশুনা তা হলে তো শিক্ষার্থীকে মাঠকর্ম সম্পাদন করতেই হবে। মানুষ হলো এক কৌতূহল প্রিয় প্রাণী, এই কৌতূহলের শেষ নেই। বিভিন্ন সমাজের সাথে পরিচিত হওয়ারও একটা সুন্দর মাধ্যম। নৃবিজ্ঞানের ৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, ‘আপনি যদি নৃবিজ্ঞানী হতে চান তো মানুষের কাছে ছুটে যান কারণ আপনি তো এটাই পড়ছেন। আর মাঠকর্মে গেলে বুঝবেন যে আপনি কি শিখতে পেরেছেন।’ মাঠকর্ম সম্পর্কে বিভাগের শিক্ষক এন, এম. রবিউল আওয়াল চৌধুরী বলেন, ‘নৃবিজ্ঞানী হিসেবে দাবি করতে হলে মাঠকর্মের বিকল্প নেই। নৃবিজ্ঞান বিষয়টা মাঠকর্ম ছাড়া সম্ভব না।’