জরাজীর্ণ ফেরি:চরখালিতে যান পারাপার বিঘ্নিত
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৩, ২০:৪৮
জরাজীর্ণ যান দিয়ে সার্ভিস দিতে গিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পিরোজপুরের চরখালীর কচা নদীর ফেরি সংযোগ বার বার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। জোড়াতালি দিয়ে চালাতে গিয়ে চলতি জুন মাসের ২৫ দিনের ১২ দিনই সিডিউল রক্ষা পায়নি এ ফেরি সার্ভিসের। গত চার সপ্তাহে এই ফেরিঘাটে প্রায় অর্ধেক সময় ফেরি পারাপার সম্পূর্ণভাবে চালু রাখা যায়নি। যার মধ্যে সাতদিন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সড়ক অধিদপ্তরের বরিশাল ফেরি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ১০ বছর মেয়াদী ফেরিযান আর পন্টুন-গ্যাংওয়ে দিয়ে ২৫/২৬ বছর ধরে সার্ভিস দিতে হচ্ছে বলে ফেরি সংযোগের এই বেহাল দশা। ১৫ বছর আগে চরখালীতে যে ফেরিযান ও পন্টুন-গ্যাংওয়ে স্থাপন করা হয়েছিল সেখানে প্রতিস্থাপিত হয়নি নতুন কোন অবকাঠামো। জানা গেছে, গত ২৫ বছরে দেশে কোন নতুন ফেরি ইঞ্জিন আমদানি হয়নি। ফলে মেয়াদ শেষের ১৪/১৫ বছর পর ইঞ্জিন মেরামত করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সড়ক অধিদপ্তরের ফেরি সার্ভিস। ফেরি ইজারাদার কর্তৃপক্ষের ম্যানেজার সোহরাব হোসেন জানান, চরখালী ফেরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও মাত্র দুটি ফেরি যান এ ঘাটে রয়েছে। দৈনিক ৪০টি ট্রিপ দিতে যা যথেষ্ট নয়। তারপর ফেরি দুটি পুরনো। প্রায়ই ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। কচা নদী খরস্রোতা বলে স্রোতের বিপক্ষে চলা ও ঘাটে ভিড়তে গিয়ে বেগ পেতে হয়। মাঝে মাঝে একটি ইঞ্জিন দিয়েও ফেরি চলে। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গাড়ি ও যাত্রী নিয়ে নদীতে ভেসে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। ফেরির ড্রাইভার দেলোয়ার হোসেন জানান, ফেরি দুটি সড়ক বিভাগের ইউটিলিটি-১ টাইপ। ১৯৯৮ সালে তত্কালীন যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র সময় ফেরি দুটি এখানে আনা হয়। সেই থেকেই তা চলাচল করছে। প্রতিটি ফেরিতে দুটি করে ইঞ্জিন রয়েছে। এর মধ্যে ২৫নং ফেরির প্রতিটি ইঞ্জিন ২২৫ অশ্ব শক্তি সম্পন্ন এবং ৩৩নং ফেরির প্রতিটি ইঞ্জিন ৩১৫ অশ্ব শক্তি সম্পন্ন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বরিশাল ফেরি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল হক বলেছেন, এসব ইঞ্জিনসহ ফেরি যানগুলো ৯০ দশকের শেষে আমদানিকৃত ও প্রস্তুত। যার বয়স গড়ে ১০ বছর। অথচ এগুলো বয়সের দ্বিগুণেরও বেশি সময় ধরে চলাচল করতে গিয়ে এখন শক্তি অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফেরির সুপারভাইজার হায়দার আলী বলেন, এছাড়া চরখালী প্রান্তের পন্টুনের মধ্যবর্তী স্থানে ৪/৫টি বড় বড় ফাটল রয়েছে। যার ফলে যে কোন সময় পানি ঢুকে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে উক্ত পন্টুনটির। দুই প্রান্তের দুটি পন্টুনেই মরিচা পড়ায় ফেরির ধাক্কায় তা প্রতিনিয়ত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে ছিদ্রের সৃষ্টি হচ্ছে। টগরা প্রান্তের গ্যাংওয়ের সংযোগে ১২টি লকের স্থলে সংযোগ রয়েছে মাত্র ৭টি লক। অন্যদিকে ৩৩নং ফেরিটির নিম্নাংশে বড় ফাটল থাকায় গাড়ি ওঠার পর প্রায়শই পানি ঢুকে পড়ে। ২৫নং ফেরিটিতে পানি ওঠে, জীবনাশংকার মধ্যে গাড়ি ও যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে ফেরি চালাতে হয় বলে জানান ড্রাইভার দেলোয়ার।