বিপন্ন রূপগঞ্জের জামদানি শিল্প
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৩, ২১:২৩
রূপগঞ্জের জামদানি পল্লীর ঐতিহ্য এখন বিপন্ন। এক সময় নোয়াপাড়ার জামদানি জগিবখ্যাত ছিল। এখন আর সেই ঐতিহ্য নেই। প্রায় বিলুপ্ত হতে চলছে এই শিল্প। তাঁতীদের দুর্দিন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো এলাকা জুড়ে খুপরিঘর। বেশিরভাগই তৈরি বেড়ার। প্রতি ঘরে গাদাগাদি অবস্থান। মাথার উপর বাঁশের বেড়া। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ে। ঐ রকম জীর্ণ ঘরেই জামদানি তৈরি হচ্ছে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ চলে। কেউ তাঁত টানে, কেউ সুতা ভরে। কেউবা সুতা কাটে। আবার কেউবা কাপড়ের গায়ে নকশী তোলার কাজে ব্যস্ত। ওদের অক্লান্ত পরিশ্রমে হরেক রকমের ডিজাইনের জামদানি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। কাজের সময় ফিরে তাকানোর ফুসরত নেই। পরিবারের সকলেই ব্যস্ত। রূপগঞ্জের রূপসী, উত্তর নোয়াপাড়া, নোয়াপাড়া, দক্ষিণ নোয়াপাড়া, গঙ্গানগর, কাহিনা, মীরগদাই, মাছিমপুর, কাজীপাড়া, গন্ধর্ব্বপুর, হরিণা নদীরপাড়, মীরকুটিরছেওসহ অর্ধশত গ্রামের লোকজন কোন না কোনভাবে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। জামদানির কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া ও প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে না পারায় অনেকেই এখন পাওয়ার লুমের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। বাকিরা কেউবা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে। কেউ শাড়ি বুনছে। কেউ সুতা বিক্রেতা, কেউ মহাজন। কেউ পাইকারি ক্রেতা। আবার কেউবা শাড়ি রপ্তানির কাজে জড়িত। বিত্তশালীরা দাদন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে পাখি, প্রকৃতি, মাছ, ফুল, ফলসহ নানা রকম নকশা ফুটিয়ে তোলেন জামদানির জমিনে। একটি শাড়ি বুনতে ২জন শিল্পীর প্রয়োজন হয়। ডান পাশে বসেন মূল কারিগর। বাম পাশে বসেন সহযোগী। বর্ষায় শীতলক্ষ্যার পানি উপচে পড়ে জামদানি পল্লীতে। বর্ষা শেষে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকে না। ১৯৯২ সালে জামদানি পল্লী প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেয় সরকার। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র তাঁত ও কুটির শিল্প সংস্থা এ দায়িত্ব নেয়। এখানে প্রকৃত তাঁতীদের চেয়ে মহাজনরা প্লট পায় বেশি। তাঁতীদের অনেকেই প্লট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। পুরো জামদানি পল্লী এখন সচ্ছল ও মহাজন লোকজনদের দখলে। নোয়াপাড়ার জামদানি তাঁতী আনোয়ার ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জামদানি তাঁতীদের কারো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তারা বংশানুক্রমে কাজ করতে করতে এ জ্ঞান অর্জন করেন। নানা প্রতিকূলতায় এখানকার জামদানি তাঁতীরা পৈতৃক পেশা ছাড়তে শুরু করেছে। এ শিল্প রক্ষা করতে হলে এখনই উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।