রূপগঞ্জে সাড়ে চার বছরে দুইশ কোটি টাকার উন্নয়ন, প্রচারণা নেই

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন খাতে গত সাড়ে চার বছরে প্রায় দুই শত কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। তবে এলাকায় প্রচারণা নেই। এ উন্নয়নের বিপরীতে বরাদ্দের মধ্যে এলজিইডি থেকে যোগাযোগ খাতে ১৩৫ কোটি টাকা। ৯৮ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণে ৮৯ কোটি টাকা। মুড়াপাড়া এলাকায় শীতলক্ষ্যা ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণে ৭৬ কোটি টাকা। শিক্ষা ভবন নির্মাণে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ১২ কোটি টাকা। ইউনিয়ন পরিষদের ভবন ও উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণে ৪ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। সার্ভার নির্মাণে ৫০ লাখ টাকা। প্রথম তিন বছরে শুধু মাত্র এলজিইডি থেকে রূপগঞ্জের উন্নয়নের জন্য ১৫২ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ উন্নয়ন ছাড়াও সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সিটি গ্রুপের সহায়তায় রূপসী-গর্ন্ধবপুর ৪ লেন বিশিষ্ট সড়ক নির্মাণে ৭ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এদিকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের আওতাধীন ১ হাজার ৭৬৫ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য বরাদ্দ আসে। তাতে ২০৪টি ছোট বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ১১০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হয়। তাতে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সর্ব সাধারণের জমির দাম বৃদ্ধিসহ আনুসাঙ্গিক উন্নীত হয়েছে। গ্রামী অবকাঠামো রক্ষণা-বেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ৭৩৪ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য ও ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। তাতে ৫৪৪টি ধর্মীয় সামাজিক ও ছোট বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ৯০ লক্ষ টাকায় উপজেলার প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টয়লেট ও বাউন্ডারী দেয়ালসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়। ২০১১-১২ অর্থ বছরে টিআর এর ৩০০ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য ১০২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ডেস্কটপ কম্পিউটার ও প্রিন্টার, ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৯টি মাদ্রাসায় ল্যাপ্টপ, ২২টি মাধ্যমিক ও ২টি কলেজে ল্যাপ্টপ এবং মাল্টি মিডিয়া প্রজেক্টর দেয়া হয়। তাতে এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মান অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ত্রাণ ও পুর্নবাসন অধিদপ্তর থেকে পাওয়া ৯১ লক্ষ ২১ হাজার ২৫৭ টাকায় ৫টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এডিপি থেকে পাওয়া ১ কোটি ৬ লক্ষ ১৮ হাজার টাকায় ২ হাজার ২শ মিটার নতুন পাকা সড়ক, ৩৫০ মিটার ড্রেন নির্মাণসহ মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন করা হয়েছে। নারায়নগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে ৩ কোটি ৬৪ লক্ষ ২৪ হাজার ৮০ টাকায় ৭ হাজার ৫শ মিটার পাকা সড়ক ও ১ হাজার ২শ মিটার ড্রেন নির্মাণসহ মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল ১% থেকেও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। গত সাড়ে চার বছরে কালনী হিরনাল নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রগতি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাজী নুরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী এখলাস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় এমপিও ভূক্তি করা হয়েছে। কাঞ্চন ভারত চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, নবাব আশরাকারী উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী নুরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, আমদীয়া কৃষক শ্রমিক বিদ্যালয়, ভুলতা উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী আয়েত আলী উচ্চ বিদ্যালয়, দেবই কাজীরবাগ আলিম মাদ্রাসা, নতুন ভবন নির্মাণে ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ৬ কোটি ২৬ লক্ষ টাকায় রানীপুরা সিনিয়র মাদ্রাসা, বড়ালু পাড়াগাঁও বাতিনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রূপসী ইসলামীয়া দালিখ মাদ্রাসা, রূপসী নিউ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, মুজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, নব কিশোলয় উচ্চ বিদ্যালয়, সাত্তার জুট মিল উচ্চ বিদ্যালয়, মহর আলী শাহানুর বানু উচ্চ বিদ্যালয়, গর্ন্ধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সহিতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নুরুল হক উচ্চ বিদ্যায়ের নতুন ভবন র্মািণ করা হয়েছে। শিগগিরই ১ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মুড়াপাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মডেল স্কুল হিসাবে বাস্তবায়ন করা হবে। রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই রূপগঞ্জের ব্যাপক উন্নয়ন হয়। ৯৬ সালেও রূপসী-কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়ক ও ডেমরা-রূপগঞ্জ-কালীগঞ্জ সড়ক এবং খিলক্ষেত-ইউসুফগঞ্জ-রূপগঞ্জ সড়ক পাকা করা হয়েছিল। যা বিএনপি সরকারের আমলে সংস্কার পর্যন্ত করা হয়নি।