সুবর্ণগ্রাম : যেখানে স্বপ্নের শুরু
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৩, ২১:২৭
শৈশব থেকেই সোনারগাঁওয়ের ছেলে শাহেদ কায়েস সমাজসেবামূলক ব্যতিক্রম কিছু করার চেষ্টা করত। সচ্ছল পরিবারের ছেলে সে। ছোটবেলা থেকে শিল্প-সংস্কৃতি ও সাংগঠনিক কাজের সঙ্গে জড়িত। কবিতা লেখেন। বইও প্রকাশিত হয়েছে দু’টি। স্কলারশিপ নিয়ে ভারতের মাদ্রাজের আন্না ইউনিভার্সিটি থেকে সাফল্যের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিতে এমএস করে ওখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগদানও করেন, কিন্ত তার মন পড়েছিল সোনারগাঁওয়ের মাটিতে। তাই একবছরের মধ্যেই দেশে ফেরা।
২০০৩-এ ললাটিতে শিশুদের জন্য স্বল্পব্যয়ে উন্নত শিক্ষাদানের জন্য গড়ে তোলেন ‘বিদ্যানিকেতন’। পরে নাম পরিবর্তিত হয় ‘সুবর্ণগ্রাম আইডিয়াল স্কুল’ নামে। বর্তমানে এখানে প্লে থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত ২৬০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও উদ্যোগ বাড়ানোর জন্য ২০০৪-এর জুলাইয়ে সমবায় আন্দোলনে যোগ দেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন ‘সোনারগাঁও বেনিফিট ফান্ড’। ২০০৮-এর মার্চে সমাজের অবহেলিত চর্মকার জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য পানাম নগরীর নিকটস্থ বাগমুসা গ্রামে গড়ে তোলেন ‘ঋষিপাড়া মন্দির পাঠশালা’।
বর্তমানে শাহেদের সব কার্যক্রম চলছে সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশনের অধীনে। উল্লেখ্য, ২০০৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে চলছে এর কার্যক্রম। তবে গত সেপ্টেম্বরে এশিয়া ফাউন্ডেশন প্রদান করেছে তিন লাখ টাকা মূল্যমানের বই। এছাড়া যোগসূত্র ফাউন্ডেশন বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। সমপ্রতি সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশনের এসব কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. সামছুর রহমান এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা। এসেছিলেন জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেত। জেলা প্রশাসক অনুদান হিসেবে বেদে নারী ও শিশুদের জন্য বেশ কিছু শিক্ষা উপকরণ ও বস্ত্র দিয়েছেন।
শাহেদ ও তার সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন এলাকায় বেশ আলোচিত একটি নাম। এই প্রতিষ্ঠানটি তার কম সামর্থ্য নিয়েও অনেক কাজ করে চলেছে। তাহলে তারা কি কেবল সোনারগাঁওয়েই তাদের কাজ সীমাবদ্ধ রাখবে। শাহেদের জবাব, ‘না, তবে আমরা নিজেদের তৈরি করছি। যখন সামর্থ্য হবে, তখন সারা দেশের জন্যই কাজ করব।’