সুপার কাপে সেরা মোহামেডান

এক দিকে শেখ রাসেলের জাহিদ-এমিলি জুটি। অন্য দিকে মোহামেডানের ওয়াহেদ-মোবারক জুটি, লড়াইটা ছিল তাদের মধ্যেই। যারা সুযোগ কাজে লাগাবে ফাইনালটা তারাই জিতবে। লড়াই হয়েছিল এদের মধ্যেই। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে দুই দলের স্ট্রাইকার এমিলি ওয়াহেদ দু’ জনইে গোল করেছেন। কিন্তু সুপার কাপ ফুটবলের ফুটবলময় এক ফাইনালে ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে টাইব্রেকারে। ভাগ্যের উপর ভর করে মোহামেডান টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে শেখ রাসেলকে হারিয়ে শিরোপা উত্সব করেছে। ভালো খেলা হলে যে কোনো ফাইনালই ফুটবল মুগ্ধতা এনে দিতে পারে। মোহামেডান শেখ রাসেলের ম্যাচ সে কথারই প্রমাণ রেখে গেছে। দুই দলের আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের ছন্দময় ফুটবল অনুরাগীদের শিহরিত করেছে। ১৩০ মিনিটের লড়াইয়ের প্রতিটি ক্ষণ ছিল যেন শ্বাসরুদ্ধকর। নির্ধারতি সময়ের ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হলে, অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটের খেলায় কোন গোল হয়নি। ট্রাইব্রেকারে মোহামেডান ফাইনাল জিতে। সুপার কাপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করা যতটা না গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার চেয়ে বেশি, মোহামেডানের একটা শিরোপার প্রয়োজন ছিল। কারণ পেশাদার লিগের ষষ্ঠ আসর পর্যন্ত মোহামেডান শিরোপার মুখ দেখতে পারেনি। ২০০৯ সালে প্রথম সুপার কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দ্বিতীয় আসরে সেটা হারিয়েছে। চোখ রেখে ছিল লিগের উপর। গত তিন বছরে সেখানেও ব্যর্থ হয়েছে মোহামেডান। ভালো দল গড়েও শিরোপাহীন থাকতে হয়েছে সাদাকালো শিবিরকে। অবশেষে সাদাকালো মোহামেডান শিবিরে হাসি ফুটেছে। উত্সব এনে দিয়েছে সুপার কাপ ফুটবল তৃতীয় আসর। অন্যদিকে স্বপ্ন হাতছানি দিচ্ছিল শেখ রাসেলের সামনে। কিন্তু ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না। ইতিহাস গড়তে পারেনি দেশের তারকা ফুটবলার নিয়ে গড়া দল শেখ রাসেল। এমন সুযোগ আর কোনো দিন পাবে কিনা সেই প্রশ্ন নিয়ে কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে ফিরেছেন ফুটবল অনুরাগীরা। এই মোহামেডান সুপার কাপে খেলবে না জানিয়ে দিয়েছিল। তাদের নানা সমস্যা ছিল। বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে মোহামেডান অনেক ঝামেলায় ছিল। নানা কারণে মোহামেডানের সুপার কাপে আগ্রহ ছিল না। কারণ মোহামেডানের মতো দল নামকাওয়াস্তে খেলে দুর্নাম কুড়াতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত সুপার কাপে নাম এন্ট্রি করে মোহামেডান খেলল চ্যাম্পিয়নদের মতো খেলা। আবার আলো জলমল সাদাকালো দলে। ৯০ মিনিটের খেলায় শেখ রাসেল এমিলির গোলে ম্যাচে এগিয়ে ছিল ২৭ মিনিটে ১-০। জাহিদের দারুণ একটা ক্রসের বল আলতো পা লাগিয়ে গোল করেন এমিলি। গোল শোধের একটা সুযোগ পেয়েছিল মোহামেডান। গোলকিপার বিপ্লব সেই বলটা ফিস্ট করে দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন। হাল না ছাড়া মোহামেডান ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেই নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ক্ষীপ্রগতির স্ট্রাইকার ওয়াহেদ আহমেদের শট শেখ রাসেলের গোলকিপার বিপ্লবকে ফাঁকি দিয়ে পোস্টের গোড়ায় লেগে ফিরে আসে। মোহামেডানের সব চেষ্টা সফল হয় ৫৪ মিনিটে। ওয়াহেদ বল নিয়ে ঢুকে গোলপিকার বিপ্লবকে ডজ দিয়ে মাটিতে ফেলে ডিফেন্ডার উত্তমকে কাটিয়ে বল গোল লাইনের ওপাশে পাঠান ১-১। ম্যাচটা ৯০ মিনিটেই জিততে পারতো মোহামেডান। ৮৯ মিনিটে মোহামেডান ডিফেন্ডার মিন্টু শেখের দুর্দান্ত এক শট শেখ রাসেলের গোলকিপার বিপ্লব গোল লাইনের উপর দাঁড়িয়ে কোনো রকমে ঠেকান দারুণ দক্ষতার সাথে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ম্যাচ গড়ায়। মোহামেডানের মোবারক এবং শেখ রাসেলের এমিলি গোল করেন। রজনী বিপ্লবের হাতে তুলে দেন। জুনিয়র ফুটবলার নাহিদের শট সহজেই ঠেকান মোহামেডানের গোলকিপার মামুন খান। মেজবাবুল মানিক গোল করে এগিয়ে দেন ২-১। শেখ রাসেলের আরেক জুনিয়র ফুটবলার সবুজ সাইড পোস্টে বল লাগান। মোহামেডানের সোহাগ ব্যবধান বাড়ান ৩-১। রাসেলের মিঠুন ব্যবধান কমান ৩-২। শেষ শটে মোহামেডানের মিন্টু শেখ গোল করলে ৫০ লাখ টাকার শিরোপা নিশ্চিত হয় মোহামেডানের ৪-৩। মোহামেডানের উল্লাসে শেখ রাসেলের খেলোয়াড়রা হতাশায় মাটিতে শুয়ে পড়েন। চ্যাম্পিয়ন রানার্সআপ ২০১৩ মোহামেডান শেখ রাসেল ২০১১ আবাহনী মোহামেডান ২০০৯ মোহামেডান আবাহনী