তিতুমীর কলেজের দুই ছাত্র গ্রেফতার

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিতুমীর কলেজের দুই ছাত্র গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন—মাহবুবুল আলম ওরফে মাহবুব ও আকিল মাহমুদ ওরফে আকিল। এর মধ্যে আকিল কেন্দ ীয় ছাত্রদল ও মাহবুব মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সদস্য। গত সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাদেরকে বেইলী রোড ও রূপনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল মঙ্গলবার আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। ছাত্রদল কেন্দ ীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের নির্দেশেই তথ্যমন্ত্রীর বাসায় ককটেল নিক্ষেপ করার কথা তারা স্বীকার করে। মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম একথা জানান। তিনি জানান, গত ৯ জুন দুপুরে জামায়াতের হরতালের আগেরদিন রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় তথ্যমন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে পর পর কয়েকটি হাতবোমা ফাটানো হয়। এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়েরের পর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (পশ্চিম) এর ৭ নম্বর টিম পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পর গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৫ দিন পর ককটেল নিক্ষেপে অংশ নেয়া মাহবুব ও পুরো ঘটনার তদারকির কাজে থাকা আকিলকে সোমবার রাত ৯টায় রাজধানীর বেইলি রোড ও রূপনগর থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার অভিযান পরিচালনাকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি ( পশ্চিম) মশিউর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের সম্পৃক্ততা, সহযোগীদের নাম প্রকাশসহ বোমা হামলার ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে। জানিয়েছে, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, মন্ত্রীর বাসায় নিয়োজিত পুলিশ গার্ডকে ভীত-সন্ত্রস্ত্র ও ঘটনার পরের দিন আহূত হরতাল সফল করার জন্য ছাত্রদলের হাই-কমান্ডের নির্দেশে এ বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। আর হামলার পরিকল্পনা করে ছাত্রদলের কেন্দ ীয় শাখার সভাপতি আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ঢাকা নগর (উত্তর) শরিফ উদ্দিন জুয়েল। অপারেশনের দায়িত্ব দেয়া হয় মাহবুবুল আলম ওরফে মাহবুব, তার সহযোগী মাসুদ, রবিন ও মিমকে। তারা দুইটি মোটর সাইকেল যোগে হামলা চালায়। অপারেশন তদারকি করে গ্রেফতারকৃত আকিল ও তার সহযোগী ফিরোজ। জয়েন্ট কমিশনার জানান, ঘটনার দিন দুপুর ২ টা ১৫ মিনিট থেকে ২ টা ২০ মিনিট পর্যন্ত রবিন, মাহবুব, মিম ও মাসুদ নামে চার ছাত্রদল কর্মী দু’টি মোটর সাইকেলে করে তথ্যমন্ত্রীর বাসার পাশে অবস্থান নিয়ে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এ সময় আকিল ও ফিরোজ পাশে থেকে তদারকি করেন। আর ছাত্রদল নেতা হিমেল ও কমলাপুরে বসে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল মোবাইল ফোনে পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন। ককটেল নিক্ষেপের পর তারা সবাই মহাখালীর ডিওএইচএস-এ এক ছাত্রদল নেতার অফিসে মিলিত হন। সেখান থেকে তারা গুলশান চলে যান। তিনি আরও জানান, দুপুরে বোমা নিক্ষেপের আগে এবং পরে ছাত্রদল সভাপতি জুয়েলের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যবেক্ষণ করে ককটেল নিক্ষেপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নম্বর সংগ্রহ করে ডিবি পুলিশ। নম্বর ট্র্যাক করে দেয়া যায়, ছাত্রদল কেন্দ ীয় সভাপতি বেলা পৌনে তিনটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। মনিরুল ইসলাম জানান, মাহবুবের বাড়ি পাবনা জেলায়। সে সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে মাস্টার্স করেছেন। বিএনপি’র গুলশান অফিসের সিও ইঞ্জিনিয়ার জসিমউদ্দিনের প্রাইভেট সেক্রেটারী। তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী। গ্রেফতারকৃত আকিল মাহমুদ ওরফে আকিল সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করছেন। তিনি ইঞ্জিনিয়ার জসিমউদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পটেনশিয়াল-এ কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত। আকিল বিএনপি’র গুলশান অফিসের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রোগ্রাম সম্পর্কিত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কেন্দ ীয় ছাত্রদলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলায়। ঘটনায় জড়িত অন্যদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদেরকে ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। এ অভিযানে অংশ নেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র এসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও সিনিয়র এসি আবু তোরাব শামসুল রহমান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিসিডিবি (পশ্চিম) মনিবুল রহমান, এডিসি মশিউর রহমান।