স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে প্রতারণা বিমানবন্দর থেকে ফিরছে শ্রমিক

বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার আগে শ্রমিকদের মেডিক্যাল চেকআপের (স্বাস্থ্য পরীক্ষার) নামে চলছে ভয়াবহ প্রতারণা। এক শ্রেণির জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান (আদম বেপারি অফিস) বৈধ মেডিক্যাল সেন্টারের নামে শ্রমিকদের ভুয়া কিংবা অবৈধ মেডিক্যাল সেন্টারে ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ করান। শ্রমিকদের কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই ওই ভুয়া মেডিক্যাল সেন্টারগুলো বৈধ মেডিক্যাল সেন্টারের নামে এবং তাদের প্যাড ব্যবহার করে প্রত্যয়নপত্র দেন। এই ধরনের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র নিয়ে বিদেশ গিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের বিমানবন্দরে ফেঁসে যাচ্ছে শ্রমিকরা। বিমানবন্দরে আরেক দফা স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধরা পড়ে নানা অসুখ বিসুখ ও শারীরিক সমস্যা। শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে থাকা মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখালে ধরা পড়ে এটি জাল। পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সেখান থেকেই দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন শ্রমিকদের। এতে ক্ষুণ্ন হচ্ছে দেশের সুনাম। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, একটি প্রতারক চক্র এভাবে প্রতারণা করে নিরীহ লোকজনকে বিদেশে পাঠিয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মন্ত্রী দাবি করেন এখন আগের চেয়ে প্রতারণা অনেক কমে এসেছে। তিনি বলেন, প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণার প্রমাণসহ কোন অভিযোগ থাকলে তার বরাবর অভিযোগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্ত্রী জানান। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও ভিসা নিয়ে শ্রমিকরা বিদেশে এক ফ্লাইটে যায় এবং অপর ফ্লাইটে কিংবা ৪/৫ দিন পর তারা খালি হাতে ফিরছেন। প্রতিদিনই প্রায় শতাধিক বাংলাদেশি এভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে দেশে ফিরছেন। ঢাকায় আসার পর তাদের কান্না দেখলে বিমানবন্দরে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেঁদে ফেলেন। জানা গেছে, রাজধানীতে প্রায় একডজন মেডিক্যাল সেন্টার স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে জাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। এই মেডিক্যাল সেন্টারগুলোর মন্ত্রণালয় কিংবা দূতাবাসের অনুমোদন নেই। এ সব মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নেই কোন যন্ত্রপাতি। বৈধ মেডিক্যাল সেন্টারের প্যাড জাল করে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। ভুয়া সেন্টারগুলো প্রতি শ্রমিকের কাছ থেকে ফি হিসেবে নেয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে। কখনো তার চেয়ে বেশি। শ্রমিকদের রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্তসহ নমুনা ঠিকই সংগ্রহ করে কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য বলে সার্টিফিকেট দেয় তারা। গত রবিবার ফকিরেরপুল আল হামাদ মেডিক্যাল সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক শামসুর রহমান মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেছেন। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন রবিউল আলম ও মো. আলম তার আল হামাদ মেডিক্যাল সেন্টারের সিল, প্যাড ও স্বাক্ষর জাল করে অনেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট দিয়েছে। ওই জাল সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশ গিয়ে বহু মানুষ দেশে শূন্য হাতে ফেরত এসেছে। আল হামাদ মেডিক্যাল সেন্টারটি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত। এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের মান অক্ষুণ্ন রাখার জন্য প্রতিটি জাল সার্টিফিকেটের জন্য এক হাজার ডলার করে জরিমানা দিয়ে আসছে। একইভাবে পুরানা পল্টন কালভার্ট রোডস্থ ইউরেকা ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিক্যাল সেন্টারের সিল, প্যাড ও স্বাক্ষর জাল করে একটি প্রতারক চক্র জর্ডানে অনেক নারী শ্রমিককে ভুয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার সার্টিফিকেট দিয়ে পাঠিয়েছে। তারা দেশে পুনরায় শূণ্য হাতে ফিরে আসে।