ড. ইউনূস নিজেই নিজের আইন লঙ্ঘন করেছেন
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৩, ২২:৪৩
শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই নিজের তৈরি আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ে গত সোমবার ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে (বিবিসি) দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এই মন্তব্য করেন। বাংলদেশ সময় দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে এ সাক্ষাত্কার প্রচারিত হয়।
সরকার কেন গ্রামীণ ব্যাংক ভাঙ্গতে চাইছে-বিবিসি’র উপস্থাপিকা লিন্ডা ইউহি’র এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, অধ্যাপক ইউনূস সমাজের সর্বস্তরে সম্মানিত একজন ব্যক্তি। তিনি নিজেই একটি আইন করেছিলেন; যা জাতীয় সংসদে পাস হয়েছিল। আইন অনুযায়ী ৬০ বছর বয়সের পর কেউ গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী থাকতে পারবেন না। কিন্তু ড. ইউনূস নিজেই তা লঙ্ঘন করেছেন। তবে একে অন্যকে আঘাত না করেই বিষয়টি সমাধান করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, একটি বিশেষ আইনে ১৯৮৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। বয়সসীমা পেরুনোর কারণ দেখিয়ে ২০১১ সালে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ড. ইউনূস এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গেলে রায় তার বিপক্ষে যায়। এ পটভূমিতে ২০১১ সালের ২ মে পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন ড. ইউনূস। সম্প্রতি তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যাংকটির আইনি কাঠামো পরিবর্তন করতে চাইছে সরকার। তার প্রেক্ষিতেই বিবিসি ড. আতিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বিবিসিকে আরো বলেন, তিনি নিজে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তিনি মনে করেন গ্রামীণ ব্যাংক অসাধারণ কাজ করেছে। সাক্ষাত্কারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ড. আতিউর। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পাঁচ হাজার গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে; এগুলোর সবগুলো দেখাশোনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বেশির ভাগ কারখানায়ই কমপ্লায়েন্স রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামে পণ্য পাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকলে কারখানাগুলোর পক্ষে মান উন্নয়নের জন্য কোনো পথ থাকে না। তবে এ বিষয়ে ‘বিশ্ববিবেক’ জাগ্রত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ড. আতিউর রহমান।