‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হিসাবে দেখছে আওয়ামী লীগ

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ! সদ্য সমাপ্ত খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে পরাজয়ের কারণে সঙ্গত কারণেই এই নির্বাচনকে ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ’ মনে করছে দলটি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে মেয়র পদে জয়ী হতে পারলে দল ও সরকারের ইমেজ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিশেষ করে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে জয় পেলে, তাতে দল ও সরকারের জনপ্রিয়তা কমেনি— এটাও প্রমাণ করা যাবে। এ কারণে নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র পদটি নিজেদের ঘরে তুলতে সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিগত সিদ্ধান্ত হচ্ছে- বর্তমান সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি নির্বাচন যেভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিতর্কমুক্ত হয়েছে, একইভাবে গাজীপুর নির্বাচনও প্রশ্নমুক্ত রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। নির্বাচনে কোথাও দল ও প্রশাসনের অনৈতিক হস্তক্ষেপের ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের ভেদাভেদ ও মান-অভিমান ভুলে ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এডভোকেট আজমত উল্লাহ খানকে জয়ী করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার জন্য কেন্দ্র থেকে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহর সামনে বড় বাধা ছিল জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত্ করে আজমত উল্লাহর পক্ষে সমর্থন দিয়ে জাহাঙ্গীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে নির্বাচনে জয়-পরাজয় বড় কথা নয়। আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। আমাদের কাছে গণতন্ত্রই বড় কথা। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, গাজীপুর নির্বাচনকে একাধিক কারণেই ‘বাড়তি গুরুত্ব’ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে, তা কাটানোর জন্য গাজীপুরে জয় প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের কথা অনুযায়ী আসন্ন রোজার ঈদের পরেই ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা। গাজীপুর রাজধানীর পাশের এলাকা হওয়ায় এর প্রভাব ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন, এমনকি আগামী সংসদ নির্বাচনেও পড়বে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের জন্য বিরোধী দল যে দাবি জানাচ্ছে-সেটিকে অযৌক্তিক প্রমাণ করতেও গাজীপুরের জয় ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এ ব্যাপারে ইত্তেফাককে বলেন, ভোটাররা নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে ভোট দেবেন। ভোটারদের কাছে আমাদের দাবি- তারা যেন সত্, যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীকে নির্বাচিত করেন, টাকার কাছে যেন বিক্রি না হন। তিনি বলেন, আজমত উল্লাহ এর আগে পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে সততা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাই এবারের নির্বাচনেও তার জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। হানিফ অভিযোগ করেন, বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর (অধ্যাপক এম এ মান্নান) পক্ষে ভোটারদের নানা প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। ধর্মের নানা অপব্যাখ্যাও করা হচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি গাজীপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজমতের পক্ষে প্রচারণায় জাহাঙ্গীর গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমত উল্লাহ খান লড়ছেন ‘দোয়াত-কলম’ প্রতীক নিয়ে। এতদিন তার জয়ের সামনে অন্যতম বাধা হিসেবে ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম। তবে গত ১৮ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের পর রবিবার গাজীপুরে গিয়ে তিনি আজমত উল্লাহকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। সোমবার তিনি আজমত উল্লার পক্ষে বিভিন্ন স্থানে প্রচারণায়ও অংশ নেন। গতকালও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপির সঙ্গে ট্রাকে করে জাহাঙ্গীর ব্যস্ত ছিলেন আজমতের প্রচারণায়। এ ব্যাপারে আজমত উল্লাহ খান বলেন, জাহাঙ্গীর নির্বাচন থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তার কর্মী বাহিনী নিয়ে বর্তমানে আমার জন্য কাজ করছেন। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছি, আমাদের জয় হবেই।