ভুতের ছানা ভুতলা
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৩, ২৩:১৪
বোরহান একদিন সন্ধ্যায় তেঁতুলগাছের নিচে দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখছে। আর সে মনে মনে কল্পনা করছে— যদি চাঁদে যেত পারতাম! সেখানে ইচ্ছে মতো ঘুরে বেড়াতে পারতাম। হঠাত্ তেঁতুলগাছ থেকে ধপাস করে কি যেন একটা পড়ে গেলো। বোরহান তাকিয়ে দেখে হালকা অন্ধকারে কী যেন একটা নড়াচড়া করছে। একটু এগিয়ে সামনে দাঁড়াইতেই ধোঁয়ার মতো একটি কুণ্ডুলি বলল, ‘আমি ভূতের ছানা ভুতলা, তুমি সন্ধ্যাবেলা একা একা এই তেঁতুলগাছের নিচে কি করছো?
বোরহান বলল, ‘আমি একটু চাঁদ দেখতে এসেছিলাম, চাঁদটা দেখে আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছে চাঁদে যেতে।’
‘তুমি তো মানুষ, তোমার পক্ষে চাঁদে যাওয়া সম্ভব নয়, এই দেখো না আমি মাত্র চাঁদ থেকে ঘুরে এলাম। আমরা ভূত!
ইচ্ছে করলেই আকাশ, পাতাল, গৃহ নক্ষত্র সব জায়গাই এক নিমিষেই ঘুরে আসতে পারি।’
‘তাহলে তুমি কি আমায় চাঁদে নিয়ে যাবে?’
ভুতলা বলল, ‘তোমাকে এভাবে হঠাত্ করে চাঁদে নিয়ে যাওয়া যাবে না।’
‘আমায় কি করতে হবে?’
তোমাকে কিছু শর্ত মেনে এক বছর অপেক্ষা করতেহ বে।’
ছানাবড়া চোখে বোরহান জিজ্ঞেস করলো, ‘আমায় কি কি শর্ত পালন করতে হবে?’
ভুতলা বলল, রাত্রি হয়ে যাচ্ছে। আমার সময় নেই। তুমি কাল সন্ধ্যাবেলায় এখানে চলে এসো।’
এই বলে ভুতলা শূন্যে মিলিযে গেল। বোরহান পা টিপে টিপে পড়ার ঘরে গিয়ে বসলো।
এখন তার একটু ভয় ভয় লাগছে, আর মনে মনে ভাবছে রাত্রে ভুতলা ঘাড় মটকায় কিনা?
চিন্তা করতে করতে টেবিলের ওপরে মাথা রেখে সে ঘুমিয়ে পড়লো।
কতক্ষণ পর মা এসে রাতের খাবারের জন্যে ডাক দিলো। বোরহান জেগে উঠে মিটমিট করে তাকিয়ে বলল, ‘মা আমার খিদে নেই, এখন খাবো না।’
মা বলল, ‘তোর কি হয়েছে, আজ খিদে নেই?’
‘মা আর বলো না, আমি ভুতলার সাথে চাঁদে যাবো, ভুতলা আমাকে এক বছর পরে চাঁদে নিয়ে যাবে।’
‘ভুতলাটা আবার কে?’
আর বলো না মা আজ সন্ধ্যাবেলায় তেঁতুলগাছের নিচে হঠাত্ করেই ভুতেরচানা ভুতলার সাথে আমার পরিচয় হলো। তোকে না আগেই মানা করেছিলাম সনধ্যাবেলায় তেঁতুলগাছের নিচে যাবি না। সন্ধ্যা হলেই তেঁতুলগাছে ভূতের আড্ডা বসে। ভাগ্যিস ভূতগুলো আজ তোর ঘাড় মটকায়নি। গত বছর এখানেই ভূতেরা কাজের বুয়া রহিমার মার ছোট ছেলে মামুনের ঘাড় মটকে ছিলো।
একথা শুনে বোরহান ভযে কাঁপতে লাগলো তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসলো। কাঁদতে কাঁদতে বোরহান বলল, ‘মা আমি ভূলেও আর কোনোদিন তেঁতুলগাছের ত্রিসীমানায় যাব না, তোমার কথা না শুনে আমার ভুল হয়ে গেছে। আর কখনো তোমার কথা অমান্য করবো না।’
মা হাসল। হেসে মনে মনে বললো, ছেলেটা বড্ড দুষ্টু হয়েছে।
ওর মধ্যে একটা ভয় ধরিয়ে দেওয়া দরকার। নইলে পড়াশোনা বাদ দিয়ে বনবাদাড়ে ঘুরে সময় নষ্ট করবে।
মায়ের হাসি দেখে বোরহান প্রশ্নে করে, ‘মা তুমি হাসলে যে! কেন হাসলে মা!’
হাসলাম তার কথা ভেবে। কারণ, ভূতরা সব সময় দুষ্টু ছেলেদের সাজা দিতে নানা ফন্দিফিকির করে। কিন্তু তুই তা তেমন নস। ভূত কেন, ভূতের বাবাও তোর ক্ষতি করতে পারবে না।
‘ঠিক বলেছ মা। দেখবে এবার থেকে আমি সত্যি সত্যি আর দস্যিপনা করবো না।’
বোরহানের কথা শুনে মা আবারও মিষ্টি করে হাসলো।