প্রকৌশলী থেকে নাট্যনির্মাতা

হতে পারতেন তিনি একজন বড় প্রকৌশলী। সেই লক্ষ্যে পড়াশোনাও করেছেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে, অথচ হয়ে গেলেন নাট্যনির্মাতা। রচনা ও পরিচালনা করছেন নাটক, টেলিফিল্ম। নাটকের মধ্য দিয়ে তুলে আনছেন জীবনচিত্র, সমাজ বাস্তবতা কিংবা মানুষের ঘুরে দাঁড়াবার স্বপ্ন। এ যাবত্ বানিয়েছেন দর্শকপ্রিয় প্রায় অর্ধশতাধিক নাটক, টেলিফিল্ম এবং ধারাবাহিক। তার মূল গন্তব্য চলচ্চিত্র নির্মাণ। এ জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। বর্তমানে বেশকিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। যার কথা বলছি, তিনি আলভী আহমেদ—এ সময়ের একজন জনপ্রিয় নাট্য রচয়িতা ও নির্মাতা। এক সান্ধ্য আড্ডায় কথা হয় তার সাথে। বাংলাদেশের নাটক, গান, বর্তমান ব্যস্ততা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। সেই গল্পটি লিখেছেন পংকজ দেবনাথ ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু ‘নতুন কিছু একটা করব ক্রিয়েটিভ ফিল্ডে—এ তাড়না থেকেই নাটকে জড়িয়ে পড়া। ইঞ্জিনিয়ারিং ফিল্ডটা আমার সে রকম ক্রিয়েটিভ মনে হয়নি।’ এভাবেই নিজের শুরুর গল্পটি জানালেন। প্রকৌশলী হওয়ার কথা ছিল তার। পড়াশোনা করেছেন বুয়েটে। অথচ স্বপ্রণোদিত হয়ে পা রেখেছেন নাট্যাঙ্গনে। তবে সৃজনশীলতার প্রতি নিছক মোহ নয়, গুরুত্ব উপলব্ধিই আলভী আহমেদকে করেছে নাট্য রচয়িতা ও নির্মাতা। হয়তো এ কারণেই তার কাজগুলো দর্শকদের নজর টেনেছে, তাকে দিয়েছে জনপ্রিয়তা। কর্মই মানুষকে অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ করে। আলভী আহমেদের কাছে তার সঞ্চিত অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথম নাটকের অভিজ্ঞতাটি ছিল খুবই বাজে। ছয় বছর হলো চ্যানেল এখনও সব টাকা পরিশোধ করেনি।’ তবে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা কম নয়, আর এ কারণেই নাটক আঁকড়ে পথ চলতে পারছেন বলে জানালেন তিনি। আশাবাদও ব্যক্ত করলেন বর্তমান বাংলা নাটক সম্পর্কে। তার ভাষ্য ছিল, ‘এদেশের নাটকের বর্তমান অবস্থাটা বেশ ভালো। সংখ্যায় বেশি বলে বাজে কাজ বেশি। কিন্তু ভালো কাজও অনেক।’ এরপরই দুই বাংলার নাটকের তুলনামূলক অবস্থাটা জানিয়ে বলেন, ‘ওরা অনেক ড্রামাটাইজ্ড। তাদের নাটকে দেখা যায়, প্রত্যেকের দুই-তিনটা বিয়ে...। আর এদিক দিয়ে আমরা অনেক জীবনঘনিষ্ঠ।’ তার মত, মূলত গল্প বলার ধরনের কারণেই একটি নাটক বা চলচ্চিত্র সফলতার মুখ দেখে। আর সাধারণ দর্শকরা বিনোদনমূলক নাটকের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হয়। এরপর তার কাছে জানতে চাইলাম, একই সাথে রচনা এবং পরিচালনা—কাজ দুইটি সমন্বয় করেন কীভাবে? করার সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জানতে চাই? তার উত্তর ছিল, ‘নাটক রচনা করার সময় আমি পরিচালনার ভিজ্যুয়ালটা দেখতে পাই। নির্মাতা রচনা করতে জানলে, তার নিজেরই রচনা করা উচিত। লেখার সময়ই ভিজ্যুয়ালটা দেখে ফেলা যায়। কাজ অর্ধেক হয়ে যায়। আর একজন নির্মাতার চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজের মতো করে নিজের কথা বলা। অন্যেরটা ধার করে নয়।’ নাটকের পর আড্ডার আলোচনা গড়াল চলচ্চিত্রে। মানুষ একটু একটু করে আবার ফিরে আসছে হলে, সিনেমা দেখতে। মানুষকে হলমুখী করতে আরও কী কী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন? তিনি বলেন, ‘মানুষকে শিক্ষিত করা উচিত। সিনেমা যে একটা উচ্চমানের বিনোদন—এটা মানুষকে বোঝাতে হবে।’ এ প্রসঙ্গেই চলে এল আলভী আহমেদের চলচ্চিত্র অভিযানের বিষয়টি। মিডিয়ায় খবর ছিল, ‘প্লাবনকাল’ নামে একটা সিনেমা বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কাজ অনেকটা গুছিয়েও নিয়েছিলেন। এটি কবে থেকে শুরু হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি স্রেফ বললেন, ‘জানি না।’ উল্লেখ্য, আলভী আহমেদ বর্তমানে ঈদের নাটক এবং একটি সিরিয়ালের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। ঈদের নাটকগুলোর মধ্যে ‘ফুড চেইন’, এবং ‘পথ নেই পালাবার’-এর কাজ চলছে। এ ছাড়াও এরই মধ্যে সিরিয়াল ‘টিট ফর ট্যাট’ উনচল্লিশ পর্বের শুটিং সম্পন্ন করেছেন। এভাবে নাটক আর কাজের ভেতর দিয়েই এগিয়ে চলেছেন আলভী আহমেদ। আর কিছু নয় একজন পরিপূর্ণ নাট্যকার হিসেবেই সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। আমরাও চাই বাংলা নাটকের ইতিহাসকে তিনি সমৃদ্ধ করবেন নিজের ব্যতিক্রমধর্মী কাজ দিয়ে।