চিকিত্সা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে মানুষের গড় আয়ু ক্রমাগত বাড়ছে। আগের চেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকছে মানুষ। মানুষের মধ্যে এক ধরনের ইচ্ছা থাকে যে, সে কীভাবে মারা যাবে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষের সেই ইচ্ছা পূরণ হয় না। কিন্তু ইংল্যান্ডের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘অ্যান্ড অব দ্য লাইফ কেয়ার’ জানিয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যু নিয়ে খোলাখুলি কথা বললে মানুষ কীভাবে, কোথায় মৃত্যু চায় সেই ইচ্ছা পূরণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
দাতব্য প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের ৫৮ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয় হাসপাতালে, ১৮ শতাংশের মৃত্যু হয় বাড়িতে, ১৭ শতাংশের মৃত্যু হয় বৃদ্ধাশ্রমে এবং ৪ শতাংশের মৃত্যু হয় পুনর্বাসন কেন্দ্রে। যদিও বেশিরভাগ মানুষ নিজের বাড়িতেই মৃত্যু চায়। স্বজনদের জন্যও এটা বড় ধরনের এক তৃপ্তির বিষয়। তাদের প্রিয়জনের ইচ্ছামতো সব হয়েছে, এটা ভেবেই তারা স্বস্তি বোধ করে। কোথায় মৃত্যু হবে সেই ইচ্ছার পাশাপাশি আজকাল ব্রিটেনের বহু মানুষ ইচ্ছা প্রকাশ করে যান যে, তার মৃতদেহের সত্কার কীভাবে হবে।
১৯৬০ এর দশকে এসেই ব্রিটেনে কবর দেওয়ার চেয়ে দাহ বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত দাহ প্রথার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ হয়ে যায়। সেই থেকে সেখানে ৭৫ শতাংশ মৃতদেহ দাহ করা হয়। ২০১৭ সালে এসে দাহ করার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ শতাংশ।
মজার বিষয় হচ্ছে, অধুনা ব্রিটেনের মানুষ মৃত্যুর পর গ্রিন কবরস্থানের কথা ভাবছেন। ব্রিটেনে এখন শত শত ‘গ্রিন’ কবরস্থান বা প্রাকৃতিক কবরস্থান রয়েছে যেখানে কফিন বা শবাধার তৈরি হতে হবে এমন উপাদান দিয়ে যা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। এছাড়া কবরের ওপর ইট বা পাথরের কোনো স্মৃতিফলক বসানো যাবে না। চাইলে স্বজনদের কবরের ওপর একটি গাছ পোঁতার অনুমতি দেওয়া হয়। গ্রিন কবরস্থান সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে বহু মানুষ জীবদ্দশায় পরিবেশের ওপর তার মৃত্যুর প্রভাব নিয়েও চিন্তাভাবনা করছে।
এখন পরিবেশ সচেতন কিছু মানুষ সত্কারের নতুন এক বিকল্পও গ্রহণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ক্যানাডার কিছু এলাকায় এই পরিবেশবান্ধব ‘পানি-দাহ’ প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড দিয়ে একটি ক্ষারের দ্রবণ তৈরি করে শবদেহ তার ভেতরে রাখা হয়। মাংস গলে শুধু কঙ্কাল থেকে যায়। সেই কঙ্কাল শুকিয়ে গুঁড়ো করে চাইলে তা স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
যারা দাহ করার ইচ্ছা পোষণ করে যান, তারা বা তাদের স্বজনরা শবদেহের ছাই কী হবে সেই ইচ্ছাও জানাতে পারেন। কেউ সেই ছাই দিয়ে ভাইনাইল রেকর্ড তৈরি করে ঘরে রাখার ইচ্ছা পোষণ করেন, কেউবা কাচের পেপার ওয়েটের ভেতরে ছাই ভরে রাখতে কিংবা কেউ আতস বাজিতে ভরে তা আকাশে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন মৃত্যুর আগে। -বিবিসি