সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শহর সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের সাংস্কৃতিক ইতিহাস খুবই প্রাচীন। এ জেলায় জন্ম নেয়া অসংখ্য গুনী মনিষী বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেকে সমৃদ্ধ করেছে। বিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকেই নাটক মঞ্চস্থ হয় এ জেলায়। ১৯০০ সালে নির্মিত হয় নাট্যভবন। স্বাধীনতা পরবর্তীতে এ ভবনটির নাম পরিবর্তিত হয়ে ভাসানী মিলনায়তন নামকরণ করা হয়। যা এখনো সে নামেই রয়েছে। শহরের সমস্ত যাত্রা নাটক সংগীত নৃত্যনাট্য মঞ্চস্থ হত এ ভবনে। পরবর্তীতে ইভিনিং ক্লাব নামের সাংস্কৃতিক সংগঠনটি নাটক মঞ্চস্থ করত। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ১৯৫০ সালে আমলাপাড়ার কয়েক যুবকের নেতৃত্বে আমলাপাড়া ক্লাব নামে নাট্য সংগঠন গড়ে ওঠে। ১৯৫৭ সালে গড়ে ওঠে খেয়ালী সাংস্কৃতিক সংগঠন। এ বছরের শেষের দিকে শিল্পীচক্র নামের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলেন সাংস্কৃতিক মোদীরা। ১৯৬৩ সালে প্রকাশ পায় ঝংকার সাংস্কৃতিক সংঘ। ১৯৬৪ সালে মিতালী সংঘ, ১৯৬৬ সালে বর্নালী সংসদ, ১৯৬৯ সালে আমরা কজন নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে সমকাল নাট্য পরিষদ, ১৯৭৪ সালে চৌচির নাট্য সমপ্রদায়, ১৯৭৭ সালে আডেন্ট নাট্য পরিষদ, ১৯৭৮ সালের ১৯ জুলাই তরুন সমপ্রদায় নামে সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৮১ সালে রুপক নাট্যগোষ্ঠী, ১৯৮৩ সালে সিরাজগঞ্জ থিয়েটার, ১৯৯০ সালে অনুস্বর থিয়েটার, ১৯৯৩ সালে প্রসূন থিয়েটার, ১৯৯৪ সালে জহির রায়হান থিয়েটার, ১৯৯৬ সালেণ সংগ্রামী নাট্য দল, ১৯৯৯ সালে নাট্যলোক, ২০০০ সালে থিয়েটার মঞ্চ, ২০০১ সালে নাট্যচক্র, ২০০৩ সালে কলেজ থিয়েটার প্রতিষ্ঠালাভ করে। এছাড়াও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কথক থিয়েটার, দুর্বার নাট্যগোষ্ঠী, মৃত্তিকা নাট্যদল, বাঙাল সাংস্কৃতিক সংগঠন, শেকড়, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ, মানবাধিকার নাট্য পরিষদ, স্বাধীন বাংলা শিল্পীগোষ্ঠী, কামারখন্দে যুগান্তর শিল্পীগোষ্ঠী, শাহজাদপুর থিয়েটার, বাসন্তী অপেরা, মুকুল ফৌজ, সরগম, রবীন্দ্র সংগী সম্মিলন পরিষদ, নজরুল একাডেমী, ভাসানী সংগীত বিদ্যালয়, উল্লাপাড়া থিয়েটার সহ প্রায় শতাধিক নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সিরাজগঞ্জের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে। এ সকল সংগঠনের অসংখ্য শিল্পী ও অভিনেতা জাতীয় পর্যায়ে সুখ্যাতি লাভ করেছে। এদের মধ্যে, টিভি ব্যক্তিত্ব ফতেহ লোহানী, ফজলে লোহানী, কামাল লোহানী, আজকারুল হক, চলচিত্র পরিচালক দেওয়ান নজরুল, ইবনে মিজান, আজিজ মেহের, তোজাম্মেল হক বকুল, আব্দুল জব্বার, নাট্যকার মান্নান হীর, নাট্যাভিনেতা তৌকির আহম্মেদ, জাহিদ হাসান পূলক, চলচিত্র নায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জল, আব্দুল মান্নান, আলীরাজ, জাম্বু, চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক আমানুল হক, আব্দুল লতিফ বাচ্চু, আনোয়ার হোসেন বুলু, চলচিত্র প্রজোজক আফজাল এইচ চৌধুরী, নৃত্যশিল্পী আমানুল হক, আলোকচিত্রী শামসুল ইসলাম আলমাজী, ঠান্ডু রায়হান, কণ্ঠশিল্পী শাকিলা জাফর, কনক চাপা উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও এ জেলার নাট্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে বেগবান করতে কাজ করেছেন আনোয়ার হোসেন রতু, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, আনু ইসলাম, শিল্পী ও সুরকার আমিনুল ইসলাম, খ.ম আখতার, মোয়াজ্জেম হোসেন, আসাদ উদ্দিন পবলু, মমিন বাবু, আছির উদ্দিন মিলন, গীতিকার হাসান আনোয়ার, দীনবন্ধু দাস, আলাউদ্দিন আলা, ফজল-এ-খোদা লিটন, সূর্যবারী, রেজাউল করিম, মাহবুব এ খোদা টুটল, হীরক গুন, হাফিজুর সামাদ, ইমরান মুরাদ, স্বপন চন্দ্র দাস, নৃত্য শিক্ষক তৌহিদ, পাপড়ী, লরেন্স, মিলন চন্দ্র মন্ডল, প্রদীপ, ঠান্ডু বয়াতী, আব্দুল্লাহ বয়াতী প্রমূখ।