আতিফ জালকে ক্রেডিট দিতে চায়নি, তাই তাকে আমরা বহিষ্কার করি

মু খো মু খি জাল। পাকিস্তানের এই জনপ্রিয় ব্যান্ডদল এখন লন্ডনে। ‘আদাত’, ‘ওহ লামহে’র মতো জনপ্রিয় গান দিয়ে শুধু পাকিস্তান নয়, ভারতীয় উপমহাদেশে এখন পরিচিত নাম। লন্ডনের এই সামারে বাড়তি উষ্ণতা নিয়ে হাজির হয়েছে জাল। সম্প্রতি লন্ডনের সবচেয়ে বড় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় তাদের কনসার্ট। সেখানেই জাল ব্যান্ডের সদস্যদের সাথে জমেছিল আলাপচারিতা। তাদের এই সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন লন্ডন বেতার বাংলার জনপ্রিয় ব্রডকাস্টার ইকবাল ফেরদৌস ঁজালের জনপ্রিয়তার পেছনের কারণ কী? গহর :আসলে আমাদের জনপ্রিয়তার মূল কারণ আমরা তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই আমাদের গানগুলো করার চেষ্টা করি। গানের লিরিকগুলো সময়োপযোগী করার চেষ্টা করি। আর এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, আমাদের ব্যান্ড লাইনআপে যারা আছে তাদের ঐকাত্মিক চেষ্টা আর আন্তরিকতা। উর্দু গানে আপনারা বাড়তি কি সংযোজন করেছেন যে, এই গান এখন দেশ-বিদেশে এত জনপ্রিয়? গহর :রাগপ্রধান অনেক উর্দু গান আছে, যেগুলো এখনও পুরো উপমহাদেশে সমান জনপ্রিয়। আমরা উর্দু গানে সুফিয়ানার আর ওয়েস্টার্ন রকের মিশেল ঘটানোর চেষ্টা করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, ওই তরুণ প্রজন্ম যারা পাশ্চাত্য মিউজিক শোনে আবার দেশকেও ভালোবাসে। তাদের জন্য আমরা প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের এই ফিউশন রক মিউজিক করা শুরু করি। তারপর দেখলাম আমাদের এই এক্সপেরিমেন্টকে শ্রোতারা খুব ভালোভাবেই গ্রহণ করল। আমরা জানি, আপনাদের এই ব্যান্ড দলটি এক যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে আপনাদের ব্যান্ডের লাইন-আপে অনেকবারই পরিবর্তন হয়েছে। আতিফ আসলাম বের হয়ে যাওয়ার আসল কারণ কী? জাল কখনোই ভেঙে যায়নি। আমি বলব, ব্যান্ডের লাইনআপের খানিকটা পরিবর্তন হয়েছে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরের দিকে। আমাদের আদাত গানের অসম্ভব জনপ্রিয়তার পর আতিফ আসলামের সাথে আমাদের ব্যান্ড মেম্বারদের কিছু বিষয়ে মতের অমিল তৈরি হয়। আমি আগেও বলেছি এ কথা আবারও বলছি, ‘আদাত’ গানটি আমার লেখা ও সুর করা ছিল। কিন্তু আতিফ এই গানটি ভারতে রিমেক করে। আতিফ জালকে ক্রেডিট দিতে চায়নি। তাই আমরা তাকে বহিষ্কার করেছি। যদিও পরবর্তীতে আমরাই এই গানের স্বত্ব পেয়েছি। আর নাদিম নিজে অন্য একটি ব্যান্ড করবে বলে বের হয়ে যায়। এই দুই জন বাদে আমরা সবাই এক ছিলাম আছি। আমাদের এতটা বছর ব্যান্ডের সাথে আছি। সম্ভবত এর কারণ আমরা সবাই মিউজিক ভালোবাসি, অনেক ভালো গান করার ইচ্ছা রাখি। গহর, এবার আসি, আপনাদের গানে। আপনাদের ব্যান্ডদলটির নাম তো ‘জাল’, বাংলায় জল বা পানি, ইংরেজি নাম ওয়াটার। নামকরণের গল্পটা কী? কীভাবে এমন একটা নাম নিয়ে ব্যান্ড মিউজিকে আপনারা যাত্রা শুরু করলেন? গহর :জালের যাত্রা শুরু ২০০১ সালে। আমি তখন পাকিস্তানের লাহোর পিএএফ কলেজের স্টুডেন্ট। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করছিলাম। ছোটবেলা থেকেই আমি গান ভালোবাসতাম। ছেলেবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল একটা রক ব্যান্ড করার। কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করতাম। নিজেই গান লিখতামও। আতিফ আসলাম, একই কলেজে পড়ত, আমার দুবছর জুনিয়র ছিল। কলেজের একটা অনুষ্ঠানে আতিফের একটি গান শুনে মুগ্ধ হলাম। ওকে ব্যান্ড করার কথা বললাম ও রাজি হয়ে গেল। তার পর তো, লাহোরে আমরা জনপ্রিয় হতে থাকি। বের হলো ‘আদাত’ গানটি। এর পরের ইতিহাস তো আপনাদের সবারই জানা। গহর, আপনারা তো উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে কনসার্ট করেছেন, ইউরোপেও এসেছিলেন, এবারই প্রথম লন্ডনের ওটু-তে কনসার্ট করছেন। কেমন লাগছে লন্ডন? গহর :আমরা এরমধ্যেই আমেরিকা, ইউরোপ, দুবাইয়ের সারজায় বিভিন্ন স্পটে কনসার্ট করেছি। পাঁচ বছর আগে, লন্ডনে কনসার্ট করে গেছি। তবে, এবারই প্রথম লন্ডনে ও-টু ইন্ডিগোতে শো করলাম। খুব ভালো লেগেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মতো লন্ডনে অসংখ্য ভক্ত আছে আপনাদের। ঢাকায় তো আপনারা বেশ কয়েকবার গেছেন, ঢাকার দর্শক-শ্রোতাদের সম্পর্কে বলুন। ঢাকায় আমরা বেশ কয়েকবার শো করেছি। ওখানকার মানুষ অনেক ভালো রক মিউজিক বুঝে, ভালোবাসে। আমার মনে হয়েছে এরাই তো আসল রক মিউজিকের ভক্ত। ঢাকার মানুষ অনেক আতিথেয়তা পরায়ণ, আমি মুগ্ধ। বাংলাদেশের মিউজিক সম্পর্ক আপনার মূল্যায়ন কী? আমার কাছে বাংলাদেশ ক্রিকেটও অনেক প্রিয়। ওরা ক্রিকেট এবং রক মিউজিক দুটোতেই অনেক এগিয়েছে। বিশেষ করে জেমসের গান। অসম্ভব ট্যালেন্টেড তারা। জেমস তো এখন আন্তর্জাতিক মানের শিল্পী। এ ছাড়াও সাবিনা ইয়াসমিন আর রুনা লায়লার গান আমার ভালো লাগে। পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলুন। এখন সেখানকার মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কী? পাকিস্তানের পার্লামেন্ট নির্বাচন একটা জাগরণ তৈরি করেছে। তরুণরা এখন অনেক সচেতন। ইমরান খানের মতো যোগ্য রাজনীতিবিদরা, রাজনীতিতে এখন অনুপ্রেরণা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশের মুদ্রার মান বাড়িয়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে, পাকিস্তানের মিউজিক দ্রুতই এগিয়ে যাবে। আমি আশাবাদী।