শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

ক্ষমতার লোভ হ্রাস করে বিবেকের দায়বদ্ধতায় কল্যাণমূলক জনসেবার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছেন- ক্ষমতা মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে কিন্তু চরম ক্ষমতা মানুষকে চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত করে। বলা যায় ক্ষমতা এমন এক মোক্ষম হাতিয়ার যার মাধ্যমে একটি জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারে আবার এর অপব্যবহার অবনতির চরম শিখরে নামিয়ে আনে। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে সে দেশের দক্ষ জনবল এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্থিতিশীলতার উপর। এই প্রেক্ষিতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। উক্তিটি যথার্থই বলা চলে। কেননা সুষ্ঠু নির্বাচন যেমন গণতন্ত্র চর্চার পূর্বশর্ত তেমনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ক্ষমতা হস্তান্তর একান্ত জরুরি। (সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ১২৩ এর (৪))। যার উপর দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে। যা উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু আফসোস। ক্ষমতার লোভ আমাদের প্রবল। ফলে এখন জনসেবার অঙ্গীকার গৌণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দলের স্বার্থে এবং নিজেদের স্বার্থকে ঊর্ধ্বে রেখে দেশটাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা শুধু নিজেদের ক্ষমতা এবং পকেট ভারি করার জন্য জনগণকে ব্যবহার করছে। মুখে জনগণের কথা আর ভিতরে নিজেদের দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করলে জনগণের কখনো কল্যাণ হতে পারে না। ঢিল ছুঁড়ে মারার মত জনগণ ভোটের সময় ভোট দেয় কিন্তু পরবর্তীতে তাদের তেমন কিছুই করার থাকে না। ভোটের সময় রাজনীতিবিদরা ভোট ভিক্ষা চায় আর ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরায়। এই অপসংস্কৃতি থেকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থেই বেরিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে বিরোধী দল ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বিরাজমান সাংঘর্ষিক আচরণ, ক্ষমতার লোভ ও বিপরীত নীতি দূর করা একান্ত প্রয়োজন। মো. খোবায়েব হোসাইন মাস্টার্স, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দীন মার্কা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি আবার ভেঙে পড়বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে না তোলা যায় তাহলে ফখরুদ্দীন ও মঈনউদ্দীন মার্কা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে ৩ মাসের জায়গায় ২ বছর ক্ষমতায় থাকার পাঁয়তারা করবে। তাই আমাদের দুই বড় রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই আগামী নির্বাচন সংবিধান সম্মতভাবে করুন না হলে দেশ ও দেশের জনগণ গণতান্ত্রিক ধারা থেকে পিছিয়ে পড়বে। গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন অত্যাবশ্যকীয়। গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর দেশের মানুষ আশা করে। আবার দেশের মানুষ এটাও বুঝে “দেশ গেলো দেশ গেলো” বলে যেসব বুদ্ধিজীবী কথা বলেন সেসব বুদ্ধিজীবী সুযোগ পেলে ক্ষমতার লোভে অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হয়ে বসে থাকবেন। বুদ্ধিজীবীদের উচিত দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সুষ্ঠুপথে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়াস চালানো তা না করে যদি ক্ষমতার জন্য তারাই ওত পেতে বসে থাকেন তখন দেশ কোন দিকে যাবে এটা কি কারো বুঝার বাকি থাকে। এস.এম হূদয় রহমান এইচএসসি ফলপ্রার্থী, শান্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সবখানে অশান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যখন সবখানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারব, তখন উন্নত হতে পারব। বুঝব আমরা অতীতের তুলনায় উন্নত হয়েছি। শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ সুগম করে। কেননা নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ না হলে, অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। সাধারণত কোন নির্বাচনে সংঘাত না হলে, আমরা ধরে নেই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়। যদি কোন ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ নিয়মগুলো মেনে চলা হয়, তবে আমাদের ভাষায় তা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর। আর কোন দেশের উন্নয়নের জন্য শর্তগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা সহজেই অনুমেয়। কেননা শর্তগুলো মানা হলে নির্বাচনকালীন কোন সংঘাত হবে না। ব্যালট বাক্স চুরি হবে না, সময়, সম্পদ নষ্ট হবে না। মানুষ মরবে না। তাছাড়া এরকম নির্বাচনে সত্ প্রার্থী নির্বাচিত হবে এবং তারা দেশের ও মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করবে। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে দ্রুতগতিতে। আমরা আশা করি ২০১৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর দেখতে পাব। মো. আ. রহমান হাওলাদার বিএসএস (অনার্স) ২য় বর্ষ, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পালাক্রমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয় কিন্তু হয় না জনগণের ক্ষমতায়ন, অর্জিত হয় না কাক্ষিত উন্নয়ন। এতদসত্ত্বেও তবু ক্ষমতা নামক অতি আশ্চর্যজনক জিনিসটি যদি শান্তিপূর্ণ উপায়ে হস্তান্তর হতো তাহলেও দেশ ও জনগণের জন্য কিছুটা হলেও ভাল হতো। ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সবসময়ই বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে হারার পরদিন থেকেই শুরু করে জ্বালাও-পোড়াও হরতালের আন্দোলন। বর্তমান সময়ে বিরোধী দল রেকর্ড সংখ্যক হরতাল পালন করেছে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য। অথচ একদিনের হরতালে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয় অর্থনীতির। ব্যাহত হয় মোট দেশজ উত্পাদন (জি.ডি.পি), দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ। যা অর্থনীতিকে অন্ধকার গুহার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার এই বিষয়ে নির্বিকার চিত্তে আছেন। অথচ ১৯৯৬ সালে যখন বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মেনে নিতে চায়নি, তখন তাঁরাই (বর্তমান সরকার) বাংলাদেশের স্মরণকালের ইতিহাসে একবছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড সংখ্যক হরতাল দিয়েছিল। সর্বোপরি ইতিহাসের খেরো খাতা খুললেই দেখা যাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নানান ধরনের ফন্দি-ফিকির, হরিলুট, অপরদিকে বিরোধী দল এটাকে ইস্যু বানিয়ে দেশের অভ্যন্তরে মাত্স্যনায় অবস্থা সৃষ্টি করে দেশকে স্থবির করে দেয়। তাই ক্ষমতা হস্তান্তরের বিকল্প শুধু শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরই, যা অর্থনীতির গতি প্রবাহকে ব্যাহত করবে না। ধৈর্য ইংরেজি বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ, সরকারি সা’দত কলেজ, করটিয়া, টাংগাইল