মংলায় ৩৮ বছরেও নির্মাণ হয়নি শহর রক্ষা বাঁধ

দীর্ঘ ৩৮ বছর অতিবাহিত হলেও দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর শহর মংলায় কোন শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ হয়নি। এ অবস্থায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের অমাবশ্যা আর পূর্ণিমার সময়ে জোয়ারের পানিতে কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায় শহরটি। এ সময় প্রতিদিন শহরটি জোয়ারের পানিতে ডুবে যায় আর ভাটায় জেগে ওঠে। পৌরবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ের সরকার আর পৌর কর্তৃপক্ষ জোয়ারের পানির প্লাবনের হাত থেকে মংলাবাসীকে রক্ষার নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। জানা গেছে, ১৯৭৫ সালের ১ ডিসেম্বর মংলা পোর্ট পৌরসভা তৃতীয় শ্রেণি থেকে যাত্রা শুরু হয়ে এটি এখন প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। এ পৌর শহরে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। পশুর ও মংলা নদীসহ অসংখ্য খাল রয়েছে এ শহরটি ঘিরে। শহররক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের অমাবশ্যা আর পূর্ণিমা ছাড়াও নিম্ন ও লঘু চাপের প্রভাবে নদী ও খালের পানি কয়েকগুণ বেড়ে তা সমগ্র শহরে সয়লাব হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী পৌরবাসী অভিযোগ করে জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ের সরকার ও পৌর কর্তৃপক্ষ জোয়ারের পানির প্লাবনের হাত থেকে শহরবাসীকে রক্ষায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কিছুই। পৌর কর্তৃপক্ষ বিকল্প পন্থায় জোয়ারের পানির প্লাবন রোধে শহরের প্রধান প্রধান রাস্তাঘাট কয়েক দফা উঁচু করলেও তাতে কোন কাজে আসছে না। রাস্তাঘাট উঁচু করার সাথে পাল্লা দিয়ে যেন প্রতি বছর জোয়ারের পানি বাড়ছে। এ অবস্থায় জোয়ারের পানি প্রবেশ রোধের অন্যতম উপায় শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরে জোয়ারের প্লাবন রোধে ২০১১ সালে শুরু হওয়া ভেড়ি বাঁধ নির্মাণ কাজও মাঝপথে এসে থেমে গেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে নদীর তীরে বেড়ি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিলেও নানা জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। ঐ বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ইউজার কমিটিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এখন আর আদৌ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যে কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই তা অনায়াসে শহর ও শহরতলীর বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবেশ করছে। ফলে শহররক্ষা ভেড়ি বাঁধ নিয়ে একদিকে হতাশা বাড়ছে আর অপরদিকে শহরবাসীকে জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়ার আতংকে থাকতে হচ্ছে। জোয়ারের পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে পুরো নাগরিক জীবন। অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, খোদ পৌরসভা ভবন চত্বরেই জোরের পানিতে থৈ-থৈ করে। এছাড়া জোয়ারের সময় পানির নিচে তলিয়ে যায় শহরের প্রধান প্রধান রাস্তাঘাট, বাজার, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন আবাসিক এলাকা। পানির তোড়ে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে আসে স্থবিরতা। শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। ময়লা-আবর্জনার সাথে জোয়ারের পানি মেশায় দেখা দেয় নানা রোগ। কয়েক ফুট পানিতে প্লাবিত হওয়ায় শহরের রাস্তার খানা-খন্দ ও গর্তে পড়ে যানবাহন চালক ও পথচারীদের আহত হবার ঘটনা ঘটে অহরহ। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জোয়ারের পানি জমে থেকে তা স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নেয়। এ কারণে দেখা দেয় পরিবেশ বিপর্যয়। এ ব্যাপারে পৌর প্যানেল মেয়র-১ মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, খালে স্লুইস গেট ও রাস্তা উঁচু করে মংলা শহরকে জোয়ারের প্লাবনের হাত থেকে রক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, আপাতত পৌরবাসীর জোয়ারের দুর্ভোগ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, ৫০ বছরের ব্যবহার উপযোগী করে আগামী ১ বছরের মধ্যে শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ হাতে নেয়া হবে।