চট্টগ্রামে মেডিক্যালে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ডেন্টাল চিকিত্সা

ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ২০ বেডের ডেন্টাল বিভাগে চিকিত্সাসেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি কয়েক বছরের মধ্যে দেয়ালে ও ছাদের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা দেখা দেয়ায় কর্তৃপক্ষ চিকিত্সা কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অপর ভবনে ডেন্টাল ইউনিটে বহির্বিভাগ রোগীদের চিকিত্সাসেবা চলছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ১৯৯০ সালে ডেন্টাল ইউনিট চালু হয়। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য বহির্বিভাগে চিকিত্সা কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু জায়গা না থাকায় অন্তঃবিভাগ চালু করা যায়নি। ২০০৪ সালে একাডেমিক ভবনের পাশে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অন্তঃবিভাগ চালু করতে তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এতে ২০ বেডের অন্তঃবিভাগ চালু করা হয়। কিন্তু দুই বছর যেতে না যেতেই নির্মাণ ত্রুটির কারণে ভবনটিতে ফাটল সৃষ্টি হয়। ভবনের অন্যান্য স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হলেও ঝুঁকির মধ্যে আরো কয়েক বছর চিকিত্সাসেবা চালানো হয়। গত মে মাসে অন্তঃবিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে জটিল দন্ত রোগীরা চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চট্টগ্রামে বেসরকারি ও সরকারি আর কোন ডেন্টাল হাসপাতাল নেই। বর্তমানে একাডেমিক কার্যক্রম ও বহির্বিভাগ একতলা যে ভবনে পরিচালিত হচ্ছে সেটিও অনেক আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এই ভবনে বহির্বিভাগের রোগীদের চিকিত্সাসেবা দেয়া হচ্ছে। শিক্ষকরা একাডেমিক কার্যক্রম এই ভবনে বসে পরিচালনা করেন। চিকিত্সকরা জানান, বহির্বিভাগে ডেন্টাল ইউনিটের ৬টি বিভাগের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগীকে প্রতিদিন চিকিত্সাসেবা দেয়া হয়। একাডেমিক কাজের জন্য ৫ তলা ভবন নির্মাণ করা হলেও বিদ্যুত্, গ্যাস, পানি ও আসবাবপত্র এবং লিফটসহ অবকাঠামোগত সুবিধা এখনো করা হয়নি। ফলে একাডেমিক কার্যক্রম নতুন ভবনে স্থানান্তর করা যাচ্ছে না। চিকিত্সকরা জানান, চট্টগ্রামে দক্ষ ডেন্টাল চিকিত্সক থাকলেও আধুনিক ও উন্নতমানের চিকিত্সা সরঞ্জাম না থাকায় অত্র অঞ্চলের দন্ত রোগীরা উন্নত চিকিত্সা পাচ্ছে না। ১৯৯০ সালে ১০টি ও ২০১১ সালে ১০টি ডেন্টাল চেয়ার প্রদান করা হয়। কিন্তু ৯০ সালে কেনা চেয়ারগুলো অনেক আগেই ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় সার্জারি দন্তরোগীরা চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যালের নাক, কান, গলা বিভাগের সার্জারি ইউনিটে সপ্তাহে একদিন ডেন্টাল সার্জারি রোগীদের অপারেশন করা হয়। ডেন্টাল ইউনিটে চার ব্যাচে ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। চিকিত্সা সরঞ্জাম না থাকায় তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিক্যালের ডেন্টাল ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোর্শেদ মওলা ইত্তেফাককে বলেন: ‘ডেন্টাল ইউনিটের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও রোগীদের উন্নত সেবা প্রদানের জন্য চট্টগ্রামে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল হাসপাতাল প্রয়োজন।