শপথ নিলেও দায়িত্ব পাচ্ছেন না চার সিটির ৭২ কাউন্সিলর
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৩, ২২:৫৫
আইনজ্ঞরা বলছেন আইনের চরম বিশৃঙ্খলা
এক ওয়ার্ডে থাকবেন দুই কাউন্সিলর
চার সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা শপথ নিলেও কাউন্সিলররা দায়িত্ব পাচ্ছেন না। এর মধ্যে নতুনভাবে নির্বাচিত সংরক্ষিতসহ সাধারণ ওয়ার্ডে ৭২ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। এরা হচ্ছেন খুলনার ২১ জন, বরিশালের ১৯ জন, রাজশাহীর ২৫ জন এবং সিলেটে ২১ জন। এসব ওয়ার্ডের পুনর্নির্বাচিত এবং পরাজিত কাউন্সি-লরদের নিয়েই করপোরেশন নতুনভাবে গঠিত হবে। যা আইনের চরম বিশৃঙ্খলা বলে উল্লেখ করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত খুলনা সিটি করপোরেশনে ১০টি সংরক্ষিতসহ ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২১ জন, বরিশালে ৪০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৯ জন, সিলেটে ৩৬ ওয়ার্ডের মধ্যে ২১ জন এবং রাজশাহীতে ৩৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৫ জন কাউন্সিলর নতুন নির্বাচিত হয়েছেন।
আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ গতকাল বুধবার ইত্তেফাককে বলেন, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে (৫ বছর) কাউকে উপযুক্ত কারণ ছাড়া পদ থেকে অপসারণের আইনানুগ সুযোগ নেই। যেসব কাউন্সিলর নতুন নির্বাচিত হয়েছেন, পুরাতন কাউন্সিলরদের মেয়াদ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পাবেন না। তবে মেয়ররা যেহেতু পদত্যাগ করেছেন সেজন্য তাদের শূন্য পদে নতুনদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোন আইনগত বাধা নেই। তিনি বলেন, নবনির্বাচিত কাউন্সিলররা যেদিন থেকে দায়িত্ব নেবেন সেদিন থেকেই তাদের ৫ বছরের মেয়াদকাল গণনা করা হবে।
অপরদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান ইত্তেফাককে বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। এই মতামত যেভাবে দেয়া হবে সেভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
গত ১৫ জুন বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৪ জুন নির্বাচন কমিশন নির্বাচিতদের নামে গেজেট প্রকাশ করে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনানুযায়ী আগামী ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে নবনির্বাচিতদের শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে শপথ না নিলে তাদের পদ থাকবে না।
আইনগত জটিলতা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে গত ২০ জুন মেয়র ও কাউন্সিলরদের দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তিনটি বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত জানতে চাওয়া হয়।
যেসব বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয় তা হলো প্রথমত, যেহেতু রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও বরিশালের বর্তমান প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলরগণের মেয়াদ ভিন্ন ভিন্ন তারিখ পর্যন্ত (সর্বশেষ আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত) বলবত্ আছে সেজন্য তাদের নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত স্বপদে অধিষ্ঠিত থেকে সিটি করপোরেশন পরিচালনা করবেন কিনা?
দ্বিতীয়ত, নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরের শপথ গ্রহণের অব্যবহিত পরে তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা যাবে কিনা এবং সেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কাউন্সিলরগণের অবস্থান কি হবে?
তৃতীয়ত, বর্তমান প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলরগণের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরগণের নিকট সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হস্তান্তর করা যাবে কিনা? সেক্ষেত্রে গঠিত সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আইনগত কোন সমস্যা আছে কিনা?
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী এ বছরের ৭ অক্টোবরের মধ্যে বরিশাল, ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজশাহী ও সিলেট, ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলনার নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা ছিল।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৬ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ‘করপোরেশনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর এবং তা নির্ধারণ হবে করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে। আর এই মেয়াদ অবসানের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করারও বিধান রয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই চার মেয়রকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছে। তবে কাউন্সিলরদের পদত্যাগ করতে হয়নি। নতুন করে ফের জয়ী বা পুরাতন যারা পরাজিত হয়েছেন সেসব কাউন্সিলর মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকতে পারবেন।’
আইনের ৭ ধারার উপধারা ২-এ উল্লেখ রয়েছে, গেজেট প্রকাশের এক মাসের মধ্যে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরকে শপথ গ্রহণ করতে হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে তারা শপথ না পড়েন তাহলে তাদের পদ শূন্য ঘোষিত হবে।