কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৭

চট্টগ্রামে রেলের টেন্ডার সন্ত্রাসের ঘটনায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও তার ছয় সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও চট্টগ্রাম পুলিশ। গতকাল বুধবার ভোরের দিকে গুলশান-১ নম্বরের নিকেতন এলাকার একটি বাসা থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে ডিবির একটি দল। গ্রেফতার হওয়া অন্যরা হলেন- পলাশ দাশ, শাহ আলম, রবি দে, মাজহারুল ইসলাম ও প্রেমাশীষ মুত্সুদ্দি ওরফে ছোটন বড়ুয়া। গতকাল দুপুরেই গ্রেফতারকৃতদের চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি দল ঢাকায় এসে তাদের নিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা হয়েছে। চট্টগ্রামে গ্রেফতারকৃত আসামির নাম আনোয়ার হোসেন আনু। গত সোমবার চট্টগ্রামে রেলের দরপত্র জমা দেয়া নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে শিশুসহ দু’জন নিহত হন। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ৪৪ জনকে রিমান্ডে নিয়েছে চট্টগ্রাম পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, গ্রেফতারের পর তাদের প্রথমে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। এরপর সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে গতকাল দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের সবাইকে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম পুলিশের অনুরোধে ডিবি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করেছে। গত সোমবার চট্টগ্রাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ৯৬ লাখ টাকার দরপত্র জমা দেয়া নিয়ে নগরের সিআরবির সাতরাস্তা মোড়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এ সময় শিশু আরমান হোসেন (৮) ও যুবক সাজু পালিত (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিবুর রহমান ওইদিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক সাইফুল আলম লিমনসহ ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় ৩০/৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলার ৫৩ নম্বর আসামি হলেন হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর। সংঘর্ষের পর নগরীর সিআরবি, নন্দনকাননসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের মধ্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক সাইফুল আলম লিমন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর টিপু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জমির উদ্দিন, কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসমত আলী রাসেলসহ ৪৪ জনকে ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এরা সবাই মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বর্তমান যুবলীগ নেতা দিদারুল আলমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েল অ্যাসোসিয়েটসের পক্ষে দরপত্র জমা দিতে সিআরবিতে গিয়েছিলেন। সেখানে হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, দায়েরকৃত মামলার ৮২ নম্বর আসামি আনোয়ার হোসেন আনুকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার রাতে আনুকে নগরীর কদমতলি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কামরুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান। বুধবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত আনুসহ মামলার ৫৯ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।