পদ্মা সেতু নির্মাণে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল সেতু নির্মাণের জন্য নয় হাজার ১৭২ কোটি টাকার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সেতু বিভাগ এ দরপত্র আহ্বান করে। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মিত হবে। নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো অর্থ সরকারের হাতে আছে। সেতু বিভাগ ও সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের ওয়েবসাইটে এই দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য প্রাকযোগ্য প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ঠিকাদাররাই এই দরপত্রে অংশ নিতে পারবেন।’ সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দৈনিক পত্রিকাতে এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেয়া হবে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও দরপ্রস্তাব পাওয়া যাবে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য ছয় হাজার ৮৫২ কোটি টাকা ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ সেতুর দৈর্ঘ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ৭ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টম্বর বিকাল ৩টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেয়া যাবে। দরপত্রের সঙ্গে অফেরতযোগ্য এক লাখ টাকা জমা দিতে হবে। ৯ সেপ্টম্বর বিকাল সাড়ে ৩টায় আগ্রহী বা তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে। পদ্মা সেতু প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্পের প্রাকযোগ্য প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক তালিকায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ছিল। বিশ্বব্যাংক অযোগ্য ঘোষণা করায় চায়না কমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডকে কিছুদিন আগে বাদ দেয়া হয়েছে। পদ্মা সেতুর জন্য শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও মুন্সীগঞ্জে দুই হাজার ৪৫২ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ২৬০ একর জমি হুকুম দখল করা হয়েছে। জমির মালিকদেরকে দাম বাবদ এক হাজার ১৪ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সংশয় পদ্মা সেতু প্রকল্পে দরপত্র ডাকার পর গতকাল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা দরপত্র আহ্বান করেছি, কিছু কৌশলও নিয়েছি। আশা করি, ঠিকাদাররা আসবে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যাদেশ দিতে পারবো কি না তাতে সন্দেহ আছে।’ অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা এমনভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গে করছি, যাতে পরবর্তীতে যে সরকারই আসুক না কেন, এই কাজটি যেন অব্যাহতভাবে চলতে পারে। ঠিকাদারদের আস্থার জন্য সরকার ১২০ কোটি ডলারের আলাদা একাউন্ট খুলবে। যাতে কাজ করলে টাকা পাবে না, এমন কোনো সংশয়ে তারা না ভোগে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক অর্থের যোগান দেয়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখন ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ আছে। এই বিশাল রিজার্ভ থেকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার পদ্মা সেতুর জন্য আলাদা একাউন্টে রাখলে কোনো সমস্যা হবে না। বিশ্ব ব্যাংক প্যানেলের প্রতিবেদনের জবাব দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের রিপোর্ট পাওয়ার ২/৩ দিনের মাথায় জবাব দিয়েছি। আমার চিঠি বিশ্ব ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দিতে বলেছি। যদি তারা না দেয়, তাহলে তিনি নিজেই তা জনসম্মুখে প্রকাশ করবেন বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।