গরীবের বন্ধু হলে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে নগ্ন খেলা বন্ধ করুন

গ্রামীণ ব্যাংক তদন্ত কমিশনের সুপারিশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার ব্যাংকের অখণ্ডতা রক্ষায় কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংক ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আবেদন জানিয়ে বলেনঃ ‘আপনি যদি সত্যিই গরিবের বন্ধু হন, বাংলাদেশ ও বাংলার জনতাকে সত্যিই ভালোবেসে থাকেন, তাহলে গরিবের এই ব্যাংকটি নিয়ে নগ্ন খেলা বন্ধ করুন। সমিতির সভাপতি মো. সামশুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন রেজা স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়। গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক চুরাশি লাখ মহিলা। তাদের ব্যাংকে কর্মরত রয়েছে ২৬ হাজার কর্মচারী। সবমিলিয়ে ৪ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ ব্যাংকের সাথে জড়িত। বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তের সাথে সাথে আগামী নির্বাচনে এ জনগোষ্ঠী তাদের ভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের এতটা অসহায় ভাবা ঠিক হবে না। পৃথিবীতে কারো ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতা পরিবর্তনশীল। আমাদের শান্তিতে থাকতে দিন। আমরা কারো পাকা ধানে মই দেইনি। আগামী ২ জুন গ্রামীণ ব্যাংক পুনর্গঠনে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, কর্মশালাটি বন্ধ করা না হলে ঐদিন বাংলাদেশের ২৫৫৫টি গ্রামীণ ব্যাংক শাখায়, ২৬৬টি এরিয়া অফিসে, ৪০টি জোনাল অডিট অফিসসহ সকল অফিস ও যত গাড়ী রয়েছে সবত্র কালো পতাকা উড়বে। সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐদিন কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। আমরা বেঁচে থাকতে আমাদের ব্যাংককে কেউ সরকারি ব্যাংক বানাতে পারবে না, উনিশ টুকরা করতে পরবে না। তারা উল্লেখ করেন আমরা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আদর্শে পরিচালিত। তিনি চলে যাওয়ার পরও গ্রামীণ ব্যাংক ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের কোন অনিয়ম নেই। যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনিয়মে জর্জরিত সেগুলোর জন্য কমিশন গঠন করার আহ্বান জানানো হয়।