অসুস্থ সালাহউদ্দিন কাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৩, ২৩:০১
অসুস্থ থাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ আগামী রবিবার পর্যন্ত মুলতবি করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তবে ওই দিন সালাহউদ্দিন কাদের অসুস্থ থাকলে বা সাক্ষ্য দিতে না পারলে দ্বিতীয় সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করা হবে। একইসঙ্গে আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে বাকি চারজন সাফাই সাক্ষীর তালিকা দাখিলের জন্য তার আইনজীবীকে নির্দেশ দেয় বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার উপরোক্ত আদেশ প্রদানের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে সাফাই সাক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সর্বশেষ সংশোধনীর ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতার বিষয়টি আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ মামলার কার্যক্রম মুলতবি রাখা এবং প্রসিকিউশনের জব্দ তালিকার ৩১ নম্বর ডকুমেন্টটি অগ্রহণযোগ্য ঘোষণার আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার সাফাই সাক্ষ্য দানের এক পর্যায়ে সালাহউদ্দিন কাদের অসুস্থ হয়ে পড়লে বিচার কাজ বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য গতকাল গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে বেলা পৌনে ১২ টার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কিন্তু অসুস্থবোধ করায় তিনি ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় ইজি চেয়ারে শুয়ে ছিলেন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর ট্রাইব্যুনাল বসলে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম জানান, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী চরম অসুস্থ। ২০০৪ সাল থেকে তার হার্টে পাঁচটি রিং বসানো আছে। এ কারণে আজ তিনি সাক্ষ্য দেয়ার অবস্থায় নেই। এরপর ট্রাইব্যুনাল সালাহউদ্দিন কাদেরকে এজলাসকক্ষে আনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক ৬/৭ জন পুলিশ সদস্য নিচ তলার হাজতখানা থেকে ইজি চেয়ারে করে সালাহউদ্দিন কাদেরকে দ্বিতীয় তলার এজলাসকক্ষে নিয়ে আসেন। এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির জানতে চান তিনি জবানবন্দি প্রদানের মত অবস্থায় আছেন কি-না? তখন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী কোন কথা বলতে পারছিলেন না। এরপর ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ সিমনকে কাছে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে বলেন। কাছে গেলে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদকে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, তার প্রেশার ওঠানামা করছে। মাথা ঘুরছে। সবকিছু ঠিকমত দেখতে পাচ্ছেন না। গতকালও নামাজের সময় তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। কয়েকবার স্প্রে নিয়েছেন। এ পর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থা ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করলে তাকে হাজতখানায় নিয়ে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়।
এরপর সালাহউদ্দিন কাদেরের সঙ্গে কারাগার থেকে আসা মেডিক্যাল এসিসট্যান্টকে তলব করে ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের জিজ্ঞাসার জবাবে আতিকুর রহমান বলেন, যখন কারাগার থেকে রওনা দেই তখন তিনি সাক্ষ্য দেয়ার মত অবস্থায় ছিলেন। তবে ট্রাইব্যুনালে আসার পর তিনি অসুস্থ হন। বুকে ব্যথার কথা বলেন। তাকে হূদরোগের ডাক্তার দেখানো উচিত। এরপর ট্রাইব্যুনাল স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিত্সা দেয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। কারা কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন তাহলে তাকে হাসপাতালে নেবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়। আদেশের পর ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম বলেন, জেলখানা থেকে তার সাথে একজন মেডিক্যাল এসিসট্যান্ট পাঠানোর বিষয়টি প্রমাণ করে তাকে যখন নিয়ে আসা হয় তখন তার শারীরিক অবস্থা ভাল ছিল না। অথচ জেল কর্তৃপক্ষ এক প্রতিবেদনে বলেছে যে, তিনি সুস্থ আছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অসঙ্গতি এই বাংলাদেশেই সম্ভব।