সোহেল রানা ও গার্মেন্টস মালিক উভয় পক্ষই দায়ী

সাভারে মর্মান্তিক রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে হতাহতের ঘটনায় ভবনের মালিক সোহেল রানা ও ভবনে অবস্থিত ৫টি গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের দায়ী করেছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র গঠিত তদন্ত কমিটি। দুর্ঘটনার জন্য তাদের আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। সেই সঙ্গে ভবনের ওপরে জেনারেটর স্থাপনের অনুমোদন দেয়ায় কলকারখানা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাভার পৌরসভা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকেও দায়ী করা হয়। গতকাল বুধবার রাজধানীর বিজিএমইএ-তে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি ও তদন্ত দলের প্রধান এস এম মান্নান কচি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সংগঠনের সভাপতি আতিকুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে ভবন ধসের জন্য ৯টি কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ৬টি সুপারিশও করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ভবন মালিক ৬ তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে অবৈধভাবে ৯ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করেন। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করেন। এছাড়া দুর্ঘটনার আগেরদিন ভবনের ফাটল দেখা যাওয়ার পরও কারখানা মালিকদের পরেরদিন ‘১০০ বছরেও ভবনের কিছু হবে না’ বলে কাজ করাতে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি চাপ সৃষ্টি করা হয়। অন্যদিকে বিজিএমইএ’র নির্দেশ অমান্য করে কারখানা মালিকরা কাজ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় তাদের দায়ী করা হয়। এ ঘটনার জন্য বিজিএমইএ’র কোন দায় নেই বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ দায় মালিকদের। কারণ তারা আমাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে কারখানা চালু রাখে। তদন্ত দলের প্রধান এস এম মান্নান কচি বলেন, ছয় তলা ভবন নির্মাণের জন্য পিলারের ভার বহন ক্ষমতা কমপক্ষে ৩ হাজার ৫০০ পিএসআই থাকার কথা। কিন্তু রানা প্লাজায় তা ছিল মাত্র ২ হাজার ৩০০ পিএসআই। তার ওপরেই তোলা হয়েছে ৯ তলা! এছাড়া ফ্লোরে জেনারেটর স্থাপনসহ আরো কিছু কারণ উল্লেখ করা হয় রিপোর্টে। বিজিএমইএ সভাপতি জানান, রানা প্লাজায় আহত শ্রমিকরা অন্তত ১০ লাখ টাকা করে পাবেন। নিহতদের পরিবারবর্গকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। দায়ী কারখানার সদস্যপদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। রানা প্লাজার ৯ তলা ভবনে তিন তলা থেকে আট তলা পর্যন্ত পাঁচটিতে গার্মেন্টস কারখানা ছিল। এগুলো হলো নিউ ওয়েভ বটমস লিঃ, নিউ ওয়েভ স্টাইল, ফ্যান্টম অ্যাপারেল, ফ্যান্টম ট্যাক লিঃ ও ইথার টেক্স লিঃ। ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১২৯ জন শ্রমিক প্রাণহারায় যা কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের গার্মেন্টস খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা। দুর্ঘটনার পর পরই দায়ী গার্মেন্টস মালিকদের গ্রেফতার করা হয়। তারা এখন জেলহাজতে রয়েছেন। গ্রেফতার করা হয় ভবনের মালিক রানাকেও।