পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতি

কয়েকদিন পরেই শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। মোমেন-মুত্তাকি বান্দারা এই মাসটির অপেক্ষায় দিন গুনতে থাকে। তারা শুধু ভাবে কবে থেকে শুরু হচ্ছে রমজান মাস। রমজান মাসের জন্য আগে থেকেই তারা নিজেকে প্রস্তুত করে তোলে। তারা একটি রুটিন তৈরি করে পূর্বের রমজান থেকে এবারের রমজানে কি কি নেক আমল বেশি করবে। গত রমজানে যদি একবার পবিত্র কুরআন খতম দিয়ে থাকে তাহলে এবার ইচ্ছা রাখে দুইবার দেয়ার। অর্থাত্ সব কিছুতেই মু‘মিন চায় পূর্বের তুলনায় বেশি ইবাদত বন্দেগীতে রত থাকতে। তাই এক জন মোমেন রমজান আসার পূর্বেই নিজেকে রমজানের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। বাহ্যিক ভাবে আমরা যেমন স্কুল-কলেজের পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করার জন্য অনেক পূর্বে থেকেই নিজেকে গড়ে তুলি আর সব সময় মাথায় পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের চিন্তা ঘুরপাক করে ঠিক তেমনি যারা মোমেন তারা রমজানকে শ্বাগত জানানোর জন্য অনেক পূর্বে থেকেই তৈরী হয়ে থাকে। রমজানের দিনগুলো কিভাবে কাটাবে তা তারা আগে থেকেই ঠিক করে খোদার কাছে দোয়া করতে থাকে যার ফলে আল্লাহতায়ালা তাদের দোয়া কবুল করেন এবং তাদেরকে সুস্থ্য রেখে রমজানের ইবাদত করতে সাহায্য করেন। আমরাও যদি এখন থেকে পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতি নিতে থাকি আর আল্লাহতায়ালার কাছে এখন থেকেই দোয়া করতে শুরু করি যে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সুস্থ্য রাখ আমি যেন আগত রমজানে পুর্বের তুলনায় অনেক বেশি ইবাদত-বন্দেগী, দান-খয়রাত, কুরআন পাঠসহ সব পূণ্য কর্ম বেশি বেশি করতে পারি। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি ইবাদতে রত থেকে কাটানোর যদি ইচ্ছা থাকে আর আল্লাহকে লাভ করার আশা থাকে তাহলে অবশ্যই এখন থেকেই নিয়ত করে সে অনুযায়ি প্রস্তুত হয়ে যাওয়া উচিত্। আর না হয় রমজান চলে আসবে আর মনে মনে ভাববো যে, হায়! রমজান মাস চলে আসলো আর আমি এর জন্য তৈরীই হয়নি। শুধু রোজা রাখলেই কি রমজান মাসের সার্থকতা? রোজাও রাখতে হবে এবং বেশি বেশি নফল ইবাদতও করতে হবে। আমরা যদি এখন থেকে রমজানের প্রস্তুতি না নেই তাহলে দেথা যাবে আমরা তারাবির নামাজে অংশ নিতে পারছি না নানান ব্যস্ততার কারনে, মসজিদে পবিত্র কোরআনের দারস শুনতে যেতে পারছি না অন্য কোন কাজের চাপে, ঠিক মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাজামাত আদায় করতে পারছি না, রাতে দেরিতে ঘুমানোর জন্য তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারছি না, এছাড়াও আরো অনেক নেক কর্মে অংশ নিতে পারছি না। আর এভাবে ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে রমজান মাস অতিবাহিত হয়ে গেল। পরে আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তাই এখন থেকেই যদি সবাই চিন্তা করে রাখেন যে আমি আমার অফিসের কাজ এভাবে এতোটার মধ্যে গুছিয়ে নিব যেন আমি তারাবির নামাজে, দারসে অংশ নিতে পারি। যারা ব্যবসা করেন তারাও ঠিক করে নিতে পারেন এতটা থেকে আমাকে মসজিদে অবস্থান করতেই হবে। যারা ছাত্র রয়েছেন তারাও এখন যদি পড়া-লেখা কিছুটা বেশি করেন তাহলে রমজানের ইবাদতে সুবিধা হবে। এভাবে আমরা যে যেই স্থানেই আছি না কেন আমরা যদি এখন থেকেই নিজেকে রমজানের জন্য প্রস্তুত করে তুলি তাহলে আমরা দেখবো রমজানের রাতগুলো কত সুন্দর ইবাদতে কাটে। পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন ‘রমজান সেই মাস যাতে নাজেল করা হয়েছে কুরআন যা মানবজাতির জন্য হেদায়াতস্বরূপ এবং হেদায়াত ও ফুরকান (হক্ ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী) বিষয়ক সুস্পষ্ট প্রমাণাদি। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাসকে পায়, সে যেন এতে রোজা রাখে, কিন্তু যে কেউ রুগ্ন এবং সফরে থাকে তাহলে অন্য দিন গণনা পূর্ণ করতে হবে, আল্লাহ তোমার জন্য স্বাচ্ছন্দ্য চান এবং তোমাদের জন্য কাঠিন্য চান না, এবং যেন তোমরা গণনা পূর্ণ কর এবং আল্লাহ্র মহিমা কীর্তন কর, এই জন্য যে, তিনি তোমাদেরকে হেদায়াত দিয়েছেন এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সূরা আল্-বাকারা ঃ ১৮৪) এই আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে তিনি আমাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য চান আমাদের জন্য কাঠিন্য চান না। আল্লাহ জানেন রমজান আমাদের জন্য কোন কষ্টের কারণ নয় বরং আনন্দের। কিন্তু আমরা যারা দুর্বল তারা মনে করি রমজান মাস কষ্টের মাস। আসলে এটা যারা ভাবি তারা অনেক বড় ভুল করে থাকেন। আল্লাহ আমাদের জন্য কাঠিন্য চান না। এছাড়া হযরত রাসূল করিম (স.) রমযানের পূর্বে শাবান মাসে অনেক বেশি ইবাদত করতেন আর তিনি (স.) রমজান ছাড়াও প্রতি মাসে নফল রোজা রাখতেন আমরাও যদি তাঁর সুন্নত অনুযায়ি প্রতি মাসে কয়েকটি করে নফল রোজা রাখাতাম তাহলে আর রমজানের রোজা কোন কষ্ট মনে হতো না।