আরেকটা সুযোগ পাচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দেনা পাওনা নিয়ে ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), তথা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সম্পর্কে তিক্ততর অবস্থায়ই পৌঁছেছে। সর্বশেষ বিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যেসব দল মালিক এখনও পর্যন্ত খেলোয়াড়দের পাওনা ও বিসিবির পাওনা নিয়ম মতো পরিশোধ করেনি, তাদের মালিকানা বাতিল করে চিঠি দেয়া হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটু নমনীয় হয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। গতকাল তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ফ্রাঞ্চাইজিগুলোকে আরেকটু সময় দেয়া যেতে পারে। সেই সময় দেয়া হবে কি না, সেটা ঠিক হবে আগামী রবিবার, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এক বৈঠকে। গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা গতকাল এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। দলগুলোকে পাওনা পরিশোধের জন্য আরেকটু সময় বাড়িয়ে দেয়াটা আসলে মালিকদের অনুরোধেই হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিপিএলের অধিকাংশ দল মালিকই বলছেন, যেটুকু সমস্যা আছে, তা মেটাতে আরেকটু সময় আসলেই তারা চান। অনেক মালিক অবশ্য আবার এখনও পুরো ব্যাপারটার জন্য বিসিবির আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায় দিচ্ছেন। দায় যারই হোক, বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই যে তাদের পাওনা টাকা এখনও বুঝে পাননি, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। সিলেট রয়্যালস, খুলনা রয়েল বেঙ্গলস ও বরিশাল বার্নার্সের তিন খেলোয়াড় যেমন গতকাল বলছিলেন, তারা পাওনা পাচ্ছেন না। সেই সঙ্গে যার যার মালিক পক্ষের কাউকে ফোনেও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। এসব অভিযোগ আগে গোপনে করলেও খেলোয়াড়রা গত কিছুদিন ধরে প্রকাশ্যেই করছিলেন। আর এর ফলে তৈরি হওয়া জটিলতা মেটাতে বিসিবি এক পর্যায়ে এই পাওনার জামিনদার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মানে, ফ্রাঞ্চাইজিগুলো টাকা না দিলে বিসিবি টাকা দিয়ে দেবে। সেভাবে বিসিবি কিছু ক্ষেত্রে টাকা দিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে দেয়নি। তবে যেসব ক্ষেত্রে দিয়েছে, তা এখনও সংশ্লিষ্ট ফ্রাঞ্চাইজির কাছ থেকে আদায় করতে পারেনি বিসিবি। একই সঙ্গে অধিকাংশ ফ্রাঞ্চাইজি এখনও বার্ষিক ফি পরিশোধ করেনি। এসব কারণেই বিসিবি প্রথমে দলগুলোকে নোটিস পাঠিয়েছে এবং সর্বশেষ সে নোটিসের জবাব না পেয়ে মালিকানা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ অবস্থায় আবার একটু মত বদলেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। এই মত বদলানো প্রসঙ্গে আফজালুর রহমান সিনহা বলছিলেন, ‘অনেক দল অনুরোধ করেছে, তাদের কথা শোনার জন্য, তাদের নাকি কিছু বলার আছে। অনেকে আবার সময় চেয়েছে। আমরা রবিবার একটা মিটিংয়ে বসবো, সেখানে সিদ্ধান্ত নেব, তাদের আরেকটু সময় দেয়া হবে কি না। আরেকটু সময় তাদের দেয়া হতে পারে।’ বরিশাল বার্নার্সের মালিক মোহাম্মদ আজিমুল ইসলাম বলছিলেন, তারা একটু সময় চান। তিনি সময় চাওয়ার যুক্তিটা দিলেন এভাবে, ‘টুর্নামেন্ট চলা অবস্থায় আমরা নিয়মমতো সব টাকা পরিশোধ করেছি। পরে তো আসলে নানারকম জটিলতা হয়েছে। আমরা অনেক বিষয় পরিষ্কার হতে পারিনি। বিপিএলের ভবিষ্যত্ নিয়েও শঙ্কা আছে। তবে ভবিষ্যত্ যাই হোক, খেলোয়াড়দের একটা টাকাও আমি বাকী রাখবো না। তবে আমরা চাই আকসুর রিপোর্ট পাওয়ার পর বিসিবি আমাদের পরিষ্কার করে বিপিএল সম্পর্কে জানাক এবং আরেকটু সময় দেয়া হোক।’ বিসিবির কাছে কিছু ব্যাপারে পরিষ্কার ব্যাখ্যা চাইছেন দূরন্ত রাজশাহী দলের মালিক মুশফিকুর রহমান মোহনও। তিনি বলছিলেন, ‘আমি নিয়মমতোই টাকা পরিশোধ করেছি। কিন্তু কিছু খেলোয়াড়ের দেনা-পাওনা নিয়ে বিসিবির ব্যাখ্যা পাওয়ার দরকার আছে। আমি সে ব্যাখ্যা চেয়েছিও বিসিবির কাছে। কিন্তু এখনও ব্যাখ্যা পাইনি। সেটা পেলেই সবার পাওনা টাকা পেয়ে যাবে।’ চিটাগং কিংস দলের মালিক সামির কাদের চৌধুরী বলছিলেন, তার পক্ষ থেকে প্রায় শতভাগ পাওনা পরিশোধ হয়ে গেছে। যে অল্প কয়েক লাখ টাকা বাকী, সেটাও ওই বিসিবির কিছু ব্যাখ্যার জন্য আটকে আছে। একইরকম আশাদাবী হওয়ার চেষ্টা করছে এখন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলও। তবে আশাবাদী হলেও বিপিএল চেয়ারম্যান, একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে দিলেন যে, মুখে যে যাই বলুন, অধিকাংশ দলই নিয়মমতো পাওনা দেয়নি, ‘এখন তো নাম ধরে, কার কাছে কতো পাওনা বলতে পারছি না। রবিবার মিটিংয়ের পর না হয় জানিয়ে দেব! কিন্তু এটুকু নিশ্চিত থাকেন যে, অধিকাংশ দলই যা দেয়ার কথা, সেটুকু পাওনা পরিশোধ করেনি।’