প্রতি ৩০ মিনিটে ডুবে
মরছে একটি শিশু
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০১৩, ২২:৩৯
দেশে প্রতি ৩০ মিনিটে একটি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এই হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। সেই অনুযায়ী প্রতিবছর দেশে পানিতে ডুবে মারা যায় প্রায় ১৮ হাজার শিশু। এদের বয়স শূন্য থেকে ১৭ বছর। বেসরকারি সূত্রে এ তথ্য পাওয়া যায়। মূলত পরিবারের অসচেতনতার কারণে এ মৃত্যু হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার ক্রমাগত বাড়ছে। বেসরকারি পর্যায়ে কিছু প্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে এই ব্যাপক সংখ্যক শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে কাজ করলেও সরকারি পর্যায়ে তেমন কোন উদ্যোগ নেই।
সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ডুবে যাওয়া মৃত শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যায়। ইন্টারন্যাশনাল ড্রাউনিং রিসার্চ সেন্টার-বাংলাদেশ (আইডিআরসি-বি) ও বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভের (বিএইচআইএস) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে ২২ হাজার মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে ১৮ হাজারই শিশু। সবচেয়ে বেশি পানিতে ডুবে মারা যায় ৫ বছর বয়সী শিশুরা। এশিয়া মহাদেশে প্রতিবছর ৩ লাখ ৫০ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলেও পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। বেশিরভাগ পানিতে ডোবার ঘটনা ঘটছে পুকুর, খাল এবং নদীতে। বিশেষজ্ঞরা পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু বাড়ার কারণ হিসেবে জলাবদ্ধতা, অতিবৃষ্টি, বাড়ির চারপাশে ছোট-বড় গর্ত এবং বন্যাকে দায়ী করে বলেন, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে প্রথমত দরকার অভিভাবকের সচেতনতা। শিশুদের সাঁতার শেখার ওপরও জোর দেন তারা। বাড়ির আশপাশে শিশুর নাগালের কাছে ডোবা বা পুকুর থাকলে তার চারপাশে ঘেড়া দেয়া প্রয়োজন আছে বলে তারা জানান।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মঞ্জুর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, শিশু ডুবে গেলে পানি প্রথমত শিশুর ফুসফুসে চলে যায়, এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। যার কারণে শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, ফলে শিশুর দ্রুত মৃত্যু হয়। মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার, কামরাঙ্গীর চর, মোহাম্মদপুর বস্তি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এখানকার কয়েকজন শিশু পানিতে তলিয়ে গেছে বা স্রোতে ভেসে গেছে বলে এলাকবাসী জানায়। তাছাড়া বস্তির শিশুরা সারাবছরই নদী কিংবা পুকুরের পানিতে গোসল করে। এ সময় অন্য শিশুদের দেখাদেখি সাঁতার না জানা শিশুটিও পানিতে নামে এবং দুর্ঘটনা ঘটে।