গ্যাস ব্যবহারের অগ্রাধিকার নীতিমালা আজো চূড়ান্ত হয়নি

গ্যাস ব্যবহারে অগ্রাধিকারভিত্তিক নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভবিষ্যত্ বা সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার কথা চিন্তা না করেই দেশে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। অনুত্পাদনশীল খাতে বাড়ছে গ্যাসের ব্যবহার। জানা গেছে, গ্যাস ব্যবহারের পথ নির্দেশনা বা নীতিমালার খসড়া তৈরি করছে জ্বালানি বিভাগ; কিন্তু সেটা গতকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত করা হয় নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিকট ভবিষ্যতে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে দেশ নানা দিক দিয়ে সংকটে পড়বে। এ অবস্থায় যে গ্যাস আছে তার সর্বোত্তম ব্যবহার এখন থেকেই জরুরি। তাদের মতে, কোন খাতে কতটুকু গ্যাস ব্যবহার হবে অর্থনৈতিক বিবেচনায় তা ঠিক করা উচিত। প্রতিদিন কি পরিমাণগ্যাস উত্তোলন করা হবে তা এখনই ঠিক করতে হবে। তবে বিভিন্ন সময়ে গ্যাস ব্যবহারের নীতি ঠিক করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হলেও সেসব কমিটির সুপারিশ কোন সরকারই বাস্তবায়ন করেনি বলে তারা অভিযোগ করেছেন। পথ নির্দেশনায় যা রয়েছে- জ্বালানি বিভাগের গ্যাস ব্যবহার পথ নির্দেশনার খসড়ায় বলা হয়েছে, অনুত্পাদনশীল খাতের চেয়ে উত্পাদনশীল খাতকে গুরুত্ব দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার কারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা অত্যাবশ্যক। অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়াতে গ্যাস সরবরাহ বিবেচনা করা আবশ্যক। আবাসিক গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, এ খাতে গ্যাসের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে নিরুত্সাহিত করতে হবে। এছাড়া বিকল্প জ্বালানি হিসেবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এলপিজির সরবরাহ বাড়ানো এবং সহনীয় দামে তা গ্রাহক পর্যায়ে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে এলপিজির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাস ব্যবহার নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে তার কোনটাই মেনে চলা হচ্ছে না। পথ নির্দেশনায় সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হলেও বিদ্যুতের কথা বলে বছরে পাঁচ মাসই বন্ধ রাখা হচ্ছে সার কারখানা। এর অংশ হিসেবে গত ১ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ঘোড়াশাল, পলাশ, কর্ণফুলী সার কারখানা (কাফকো) এবং চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতে (সিইউএফএল) গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে কোন সংকট তৈরি হলেই সাভার- আশুলিয়া এলাকায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের নতুন শিল্পাঞ্চল এবং ইপিজেড এই এলাকায় অবস্থিত। শিল্পাঞ্চল হিসেবে এই অঞ্চলকে বিশেষ কোন বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে না। গ্যাসের অভাবে দেশের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানী ও এর আশপাশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও একই সঙ্কটে রয়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শিল্প এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলো। কারখানা মালিকরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান। আবার অনেক কারখানা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ উত্পাদন করে ধুঁকে ধুঁকে চলছে। এ অবস্থায় শিল্পখাতে নতুন বিনিয়োগ তো হচ্ছেই না বরং বিদ্যমান উত্পাদন বিপর্যয় ঠেকাতেই হিমশিম খাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। পথ নির্দেশনায় আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ না দিয়ে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলা হলেও এলপিজির দামের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে না। আবার সিএনজির দাম বাড়িয়ে যানবাহনে গ্যাস ব্যবহার কমানোর পরিকল্পনা করা হলেও সিএনজি চালিত গাড়ি আমদানি করা হচ্ছে ইচ্ছেমত। একই সাথে প্রতিদিন নতুন নতুন গাড়ি সিএনজিতে রূপান্তরও বাড়ছে।