সব বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড ও কার্গো হ্যান্ডেলিং যৌথভাবে
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০১৩, ২২:৫৩
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সবগুলো বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড এবং কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ বিদেশি কোম্পানির সাথে যৌথভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ লক্ষ্যে বিমান ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র তথা আরএফপি আহ্বান করেছে। আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে আগ্রহী বিদেশি এয়ারলাইন্স এবং কার্গো কিংবা কুরিয়ার হ্যান্ডেলিং এজেন্টদের প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে গ্রাউন্ড ও কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের ‘লাভজনক’ কাজ বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে বিমান শ্রমিক লীগ গতকাল বৃহস্পতিবার বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
প্রসঙ্গত, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ শুরু থেকেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করে আসছে। আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের মান অনুযায়ী যাত্রীরা ফ্লাইট থেকে নেমে ল্যাগেজ এরিয়ায় আসার আগেই মালামাল কনভেয়র বেল্টে ওঠার কথা। কিন্তু শাহজালাল বিমান বন্দরে হচ্ছে এর বিপরীত। এ নিয়ে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স বিমানের ওপর ক্ষুব্ধ। এই বিমানবন্দরে অবতরণকারী যেকোন এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের বিমান থেকে নেমে ল্যাগেজ হাতে পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং কাজের মান উন্নত করার জন্য বিভিন্ন পর্যায় থেকে বিমানকে বার বার তাগিদ দেয়া হয়। কিন্তু এ খাতে বছরে বিমান প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, গাড়ি ও দক্ষ জনবলের অভাবে কাজের মান উন্নয়ন সন্তোষজনক পর্যায়ে নিতে পারেনি। এছাড়া কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের কার্যক্রমও প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আসা মালামাল এই বিমানবন্দরে সংরক্ষণের কোন সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। মূল্যবান মালামাল উন্মুক্ত আকাশের নীচে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়। এতে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মালামাল নষ্ট হলেও তা দেখার কেউ নেই। আমদানিকৃত এসব মালামাল অহরহ চুরি হচ্ছে।
গত মার্চ মাসে জাতীয় পতাকাবাহী বিমানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে একজন বিদেশি নাগরিককে নিয়োগ দেয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিমানকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিমানকে লোকসান থেকে লাভজনক করার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। এরমধ্যে গ্রাউন্ড ও কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ কোন বিদেশি কোম্পানির সাথে যৌথভাবে পরিচালনার প্রস্তাব অন্যতম। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও এ প্রস্তাবে সায় দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় গ্রাউন্ড ও কার্গো হ্যান্ডেলিং কাজে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া। গত ২৩ জুন এ দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর প্রতিবাদে বিমান শ্রমিক লীগের (সিবিএ) উদ্যোগে গতকাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গ্রাউন্ড ও কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। এই বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে বিমানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন জন স্টীল সমবেত কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে চাইলে একশ্রেণির কর্মচারী তার ওপর চড়াও হয়।