দুই প্রার্থীই কঠিন পরীক্ষায়

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট সমর্থিত প্রার্থীর জন্যই কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই প্রার্থীই রয়েছেন প্রচণ্ড চাপে। ভাবছেন, শেষ পর্যন্ত কী পারবেন জোটের হাতে জয়ের মালা তুলে দিতে। এদিকে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জোট বা দল নয়, জয়-পরাজয় নির্ভর করছে অন্য ইস্যুতে। দুই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণী খেলায় তিনটি বিষয় ভূমিকা রাখবে। এগুলো হলো দ্রুত বর্ধমান গাজীপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা-যানজট এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা। নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানো মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়টিকে কেউ কেউ বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে অনেকে বলছেন, নির্বাচনে তিনি তেমন একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন না। গাজীপুর ও টঙ্গীর আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামীতে গাজীপুরে সংসদীয় আসন ধরে রাখতে ও জাতীয় রাজনীতির মাঠে আরো ভালো অবস্থানে থাকতে নির্বাচনে জয় লাভ করতে হবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে। সাবেক টঙ্গী পৌরসভার তিনবারের নির্বাচিত মেয়র ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান এই নির্বাচনে জিততে না পারলে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি তাকে এখানেই টানতে হতে পারে। হারাতে পারেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটিও। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম আগামীতে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ কিংবা গাজীপুর-৫ আসনে মনোনয়ন দেয়া হবে এমন আশ্বাসেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তাই আজমত উল্লা সিটি নির্বাচনে জয় আনতে না পারলে জেলার পদও চলে যেতে পারে জাহাঙ্গীরের পকেটে। এছাড়া গাজীপুর-২ (টঙ্গী) আসনেও আজমত উল্লার মনোনয়ন পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত। কারণ এখানে জাহিদ আহসান রাসেল এমপি অনেক জনপ্রিয়। তাই সিটি নির্বাচন আজমত উল্লা খানের জন্য রাজনৈতিক মাঠে টিকে থাকার কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই অবস্থা বিএনপি নেতৃত্বধধীন ১৮ দলীয় জোট সর্মথিত প্রার্থী ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এমএ মান্নানেরও। ১৯৯১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গাজীপুর সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। হজ্বের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই সরকারের শেষ সময়ে এসে তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে আহসান উল্লাহ মাস্টারে কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যান তিনি। মান্নান ২০০১ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি জোট প্রার্থীর হাসান উদ্দিন সরকারের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। এতে জোট প্রার্থী হাসান উদ্দিন নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। এরপর তত্কালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ২০০৪ সালে গাজীপুর-২ সদর উপ-নির্বাচনে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে নির্বাচন করে জাহিদ আহসান রাসেলের কাছে বিপুল ভোটে হেরে যান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মান্নান। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রহমত আলীর কাছে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে হেরে যান অধ্যাপক এম এ মান্নান। তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকট এ নিয়ে ৫টি নির্বাচনেই পরাজিত হন। বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া অধ্যাপক মান্নানকে গাজীপুর-৩ থেকে সরিয়ে গাজীপুর সিটির মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য মনোনীত করেন। সেখানে নতুন প্রার্থীর খোঁজ করছেন তিনি। জানা গেছে, গাজীপুরের লোকজনের সবচেয়ে ভোগান্তির কারণ অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও যানজট এবং জলাবদ্ধতা। এই বিষয়গুলোর কোন কার্যকর সমাধান করেনি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কিংবা স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। তাই এগুলো নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর নির্বাচন হচ্ছে বর্ষাকালে। এসময় নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে, আনাচে-কানাচে ছোট-বড় সকল রাস্তায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে যানজট জটিল আকার ধারণ করে। বৃষ্টির কারণে পায়ের জুতা পথচারীদের মাথার উপরে ওঠে যায়। কেউ কেউ বলছেন, বৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি আজমত উল্লা খানের। কারণ বৃষ্টি মানেই ভোগান্তি, আর তখনই সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীর বিগত সময়ের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। এমন কথা নির্বাচনী মাঠে প্রচার আছে, নির্বাচনের আগের রাতে বৃষ্টি হলে, ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এম.এ.মান্নানের ভাগ্য খুলে যেতে পারে।