জিএসপি সুবিধা স্থগিত হতে পারে আজ
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০১৩, ২২:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। আজ শুক্রবারের মধ্যে এ বিষয়ে বারাক ওবামা প্রশাসন সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে পারে। তবে পণ্য রফতানিতে বাংলাদেশকে দেয়া জিএসপি সুবিধা পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে না। এ সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশের জন্য কিছু করণীয় নির্ধারণ করে দেয়া হবে। এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হলে জিএসপি সুবিধা পুনরায় বহাল করা হবে। জিএসপি সুবিধা পর্যালোচনার সাথে জড়িত একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ওবামা প্রশাসন এ ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে না। এ সিদ্ধান্তের সাথে কিছু রোডম্যাপ জুড়ে দেয়া হবে। রোডম্যাপ অনুযায়ী বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতির উন্নতি হলে সাময়িক স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে। উল্লেখ্য, জিএসপি সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনা শুল্কে পাঁচ হাজারেরও বেশি পণ্য রফতানি করতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পাঁচ হাজার রকম পণ্যের মধ্যে বাংলাদেশ খুব কম পণ্যই উত্পাদন করে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য রফতানি করে জিএসপি সুবিধার অধীনে তার এক শতাংশেরও কম পণ্য রফতানি হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি জিএসপি সুবিধা বাতিল করে তাহলে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পায় তাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। শ্রমমানের বিষয়টি তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকেও (ইইউ) বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করার কথা বলতে পারে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সিংহভাগ জিএসপি সুবিধার অধীনে রফতানি হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সালাম মূর্শেদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় না। পাটজাত ও সিরামিকসহ কিছু অপ্রচলিত পণ্য এ সুবিধার আওতায় রফতানি করা যায়। তারপরও জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে সেগুলো সরকার এবং আমরা মিলে মানার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, কারখানার নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বিজিএমইএ কাজ করছে। শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা স্থগিত করলে তা বাংলাদেশের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হবে বলে তিনি মনে করেন।
প্রসংগত, বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার লংঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসন গত জানুয়ারিতে জিএসপি সুবিধার বিষয়টি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধার বিষয়ে প্রথম প্রশ্ন উঠে ২০০৭ সালে। এরপর শ্রমিকদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ, সংগঠন করার অধিকার ও প্রাপ্য মজুরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংগঠনগুলোর আপত্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশের এ সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে শুরু করে মার্কিন বাণিজ্য দফতর। সবশেষ শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যাকাণ্ড আর তাজরীনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এ সুবিধা নিয়ে নতুন করে শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপের মুখে পড়ে মার্কিন প্রশাসন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের বক্তব্যও জানতে চাওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তাদের মতামত দাখিল করে।
বিষয়টি নিয়ে শুনানির মধ্যেই গত ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প¬্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩০ জনের মৃত্যু হয়, যাদের অধিকাংশই পোশাক শ্রমিক। ভবন ধসের পর ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছিলেন, এ ঘটনা জিএসপির শুনানিতে প্রভাব ফেলতে পারে।