আষাঢ়েও পানি নেই বংশাই ও লৌহজং নদীতে

আষাঢ় মাসেও বংশাই ও লৌহজং নদীতে পানির দেখা নেই। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দুইপাশ দিয়ে বয়ে চলা এককালের খরস্রোতা বংশাই ও লৌহজং নদী উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। নদী দু’টি বালু এবং পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ভরাট হয়ে যাওয়া নদীর বুকে আবাদ করা হচ্ছে ইরি- বোরোসহ বিভিন্ন ফসল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুই নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুই নদীর সেই যৌবন আর নেই । খরসে্রাতা নদী এখন মৃত । উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, জেগে উঠা চর সরকারিভাবে লিজ দিয়ে খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এদিকে এই সুযোগে একটি চক্র আইন অমান্য করে চর দখল করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে, আবার মাটি চোররা মাটি ও বালি কেটে নিয়ে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে । এতে একদিকে নদী দখল হয়ে যাচ্ছে অপরদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । এলাকা ঘুরে আরও দেখা গেছে, বংশাই নদীর কোদালিয়া, হাঁটুভাংগা, লতিফপুর, চাকলেশ্বর, থলপাড়া, ফতেপুর, এবং লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, চরপাকুল্যা, গুনটিয়া, উফুলকী, দেওহাটা, বহুরিয়া, ওয়ার্শী ও নাগরপাড়ায় জেগে উঠা চরে ইরি- বোরো, সরিষা, গম, আলু, কালাই, রসুন, পিঁয়াজ, বাদাম এবং বিভিন্ন প্রজাতির সবজির আবাদ হচ্ছে। ৬০ বছরের বৃদ্ধ আসক আলী এবং ৭০ বছরের বৃদ্ধ মোবারক হোসেন জানান, এক সময় এই নদী দুইটি দিয়ে পাল তোলা নৌকা এবং ছোট বড় লঞ্চ-ষ্টিমার সারা বছর চলাচল করতো। নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এছাড়া এই দুটি নদীতে মাছ শিকার করে মির্জাপুর, বাসাইল, সখীপুর ও দেলদুয়ার উপজেলার কয়েক হাজার জেলে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হত। কিন্তু এখন নদীতে অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। এতে নদী দুটি এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় ড্রেজিংয়ের দাবি জানান এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভরাট হওয়া নদী খননের জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন সে পরিমাণ অর্থ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যায় না। ফলে নদীতে ড্রেজিং করা সম্ভব হচ্ছে না । তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে । এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আকতার চৌধুরী বলেন, প্রশাসন থেকে ৬টি চর চিহ্নিত করে বালু উত্তোলনের জন্য সরকারিভাবে লিজ দেয়া হয়েছে।