অর্থবছর ২০১১-১২
লেনদেন ও শেয়ার
দরসহ সব ক্ষেত্রেই
অবনতি
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৩, ১৮:৪৩
২০১০ সালের ডিসেম্বরে শেয়ারবাজারে দরপতন শুরু হওয়ার পর থেকে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও তা স্থায়ী হয়নি। তবে গত এক মাস ধরে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতার ঝলক দেখা যাচ্ছে। বাড়া ও কমার মধ্য দিয়ে সূচকের গতি ঊর্ধ্বমুখী হলেও লেনদেন নিয়ে আশাবাদি হওয়া যাচ্ছে না। দুয়েকদিন লেনদেন ভালো হলে এরপরই আবার বড় ধরনের পতন ঘটে। বাজার স্থিতিশীল হতে হলে লেনদেন স্থিতিশীল ও বাড়ার বিকল্প নেই। এদিকে ২০১১-১২ অর্থবছরে পুরো বছরই লেনদেন নিম্নমুখিতার মধ্য দিয়ে গেছে। সূচকও বড় ধরনের পতন ঘটে। সব মিলিয়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২০১১-১২ অর্থবছরে শেয়ারের দর ও লেনদেনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই আগের অর্থবছরের তুলনায় অবনতি হয়েছে।
তথ্যে দেখা গেছে, ডিএসইতে ২০১১ সালের ৩০ জুন ২৩২টি কোম্পানি ও ৩৫টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ছিল। যা ২০১২ সালের ৩০ জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৮টি কোম্পানি ও ৪১টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। আর ২০১১-১২ অর্থবছরের শুরুতে বাজার মূলধন ২ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা হলেও বছর শেষে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি বা ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ব্যাপক হারে কমে যায়। ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৮৫৭ কোটি ৯৭ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়। যার দর ১ লাখ ১৭ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে লেনদেন হয় ১৯৬৯ কোটি ৫২ লাখ শেয়ার। যার দর ৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। লেনদেনের ক্ষেত্রে শেয়ারের পরিমাণে খুব একটা পার্থক্য না থাকলেও মহাধসের কারণে দর প্রায় ৭০ ভাগ কমে যায় ২০১০-১১ অর্থবছরে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৩৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। সেখানে ২০১১-১২ অর্থবছরে দৈনিক গড় লেনদেন হয় মাত্র ৪৯২ কোটি ২০ লাখ টাকা। এমনকি এ অর্থবছরে বাজারে দুয়েকদিন এমন লেনদেন হয়েছে যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাজারে লেনদেন কমে যাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, বাজারে দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সঙ্কট ছিল। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আস্থার সঙ্কট। যে কারণে ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে আসার পরিবর্তে বিনিয়োগ তুলে নেয়ার ক্ষেত্রেই বেশি সচেষ্ট ছিল। তাছাড়া বাজারে লেনদেন ও সূচকের নিম্নগতির আরেকটি বড় কারণ ছিল মার্জিন লোন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা মার্জিন লোন দিয়ে আটকে গেছে। যে টাকা বিও অ্যাকাউন্টগুলোতে আটকে গেছে। লেনদেন না হওয়ার পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়ে তারাও আটকে গেছে। অতি সমপ্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের মুনাফা থেকে ৯০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়নযোগ্য তহবিল গঠন করে এ আটকে যাওয়া টাকাগুলো লেনদেনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে গত অর্থবছরে সূচকের নিম্নগতিও ছিল ব্যাপক। ২০১১-১২ অর্থবছরের শুরুতে ৬ হাজার ১৫৭ পয়েন্ট নিয়ে ডিএসই’র সাধারণ সূচক শুরু হলেও ২০১২ সালের ৩০ জুন সূচক ১ হাজার ৫৮৪ পয়েন্ট বা ২৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৭২ পয়েন্টে নেমে আসে। আর ২০১১-১২ অর্থবছরের শুরুতে মার্কেট পিই রেশিও (প্রাইস আর্নিং রেশিও) ১৬ দশমিক ৫৫ থাকলেও ৩০ জুন ২০১২ সালে ১২ দশমিক ৫৩ তে নেমে আসে। পিই রেশিও কমে গেলেও বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তেমন কোনো আস্থা দেখা দেয়নি। এর মূল কারণ হলো অব্যাহত দরপতনের পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর আয় কমে যাওয়া।
এদিকে ২০১১-১২ অর্থবছরে ডিএসই’র আয়ের পরিমান আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকের চেয়েও কম হয়েছে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হলেও প্রতি বছর ডিএসই কোটি কোটি টাকা আয় করে। ধ্বসের কবলে পড়ে ২০১১-১২ অর্থবছরে আয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবনমন হলেও ব্যয় প্রায় আগের মতোই রয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে ডিএসই ১৭০ কোটি টাকা আয় করলেও তা ২০১১-১২ অর্থবছরে হয়েছে মাত্র ৭৫ কোটি টাকা। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে সুদ ও বিবিধ খাতে ৪৯ কোটি ও ২০১১-১২ অর্থবছরে ৬৪ কোটি টাকা আয় হয়। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে ব্যয় হয় ৪৪ কোটি ও ২০১১-১২ অর্থবছরে হয় ৪৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে আয় থেকে ব্যয় বাদ দেওয়ার পরে নীট আয় হয়েছে ১৭৫ কোটি টাকা ও ২০১১-১২ হয়েছে ৯৪ কোটি টাকা। এদিকে ২০১১-১২ অর্থবছরে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনকে কেন্দ্র করে অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষে বিভিন্ন দেশে ভ্রমনবাবদ ৯৫ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।