বাংলা চলচ্চিত্রে জয়া বচ্চন অভিনয় করেছেন, আমারও আপত্তি থাকবে না

মু খো মু খি হেমা মালিনী। বলিউডের ড্রিমগার্লখ্যাত এই তারকা গত ২৭ জুন বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন একটি পণ্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে। একটি সংবাদ সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন শেষে হেমা মালিনী নিজের ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান বাংলাদেশে সম্পর্কে আপনার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা জানতে চাইছি। বাংলাদেশ তো আমাদের পাশের দেশ। স্বাভাবিকভাবেই অনেক শোনা হয়, তারচেয়ে বেশি আনন্দের বিষয় হচ্ছে আমাদের চলচ্চিত্রের বিশাল একটা ভক্তের অংশ বাংলাদেশে। তাই স্বাভাবিকভাবে তারাও আমার প্রিয় মানুষ। তারা আমাদের চলচ্চিত্র দেখে, পছন্দ করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমি বাংলা ভাষাটা জানিনা। ছবিও খুব একটা দেখা হয়নি। তবে সত্যজিত্ রায়ের বেশ কিছু ছবি আমি দেখেছি। এ দেশের কণ্ঠশিল্পীদের অনেককেই চিনি আমি, আমার সমবয়সী এ দেশের বেশ ক’জন অভিনয়শল্পীকেও আমি চিনি। তারমধ্যে খুব সহজেই বলতে পারব রাজ্জাক-ববিতার কথা। তবে এ প্রজন্মের নায়ক-নায়িকাদের খুব একটা চিনিনা। যদি এ দেশের চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পান তাহলে? আমাদের দেশের অনেকেই তো এ দেশের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, করছেন। আমি শুনেছি জয়া বচ্চনও নাকি এ দেশের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সেই হিসেবে আমারও কোনো আপত্তি থাকবে না। পরিচালকের কাজ ও তার ছবির গল্প যদি সুন্দর হয়, বিশেষ করে আমার বয়সটাকে ভেবে যদি করে তাহলে অবশ্যই করব। ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে আপনার প্রেমের গল্পটা শুনতে চাই। কীভাবে সহশিল্পী থেকে জীবনসঙ্গীনী হয়ে উঠলেন? আসলে আমি ধর্মেন্দ্র ও অমিতাভজি-এর অভিনয়ের ভক্ত ছিলাম। তখন তো তারাই সেরা ছিলেন। অভিনয়ের অনেক কিছু শেখার ছিল তাদের কাছে। তবে তাদের সবার সঙ্গে সখ্যতা বাড়ে ‘শোলে’ ছবিতে অভিনয় করার সময়ই। আর সেই সখ্যতা থেকেই ধর্মেন্দ্রকে ভালোলাগা, মনে মনে তিনিও আমাকে খুব পছন্দ করতেন। বরাবর যা হয় আরকি, মনে পছন্দের ঝড় আর বাহিরে শুধুই বন্ধুত্ব। দু’জনের ভেতরেই এটা ছিল। সব কিছু এই ছবির শুটিং চলা ও মুক্তিকালীন সময়েও ছিল। কিন্তু বিষয়টি আরও সহজ হয় মুক্তির কিছুদিন পর, যখন ছবিটি ব্যাপক আলোচিত ও প্রশংসা হয়। আমি বলব ছবিটির সাফল্যই আমাদের দু’জনকে একসঙ্গে করতে সাহায্য করেছে। সেই সংসার আজও খুব সুন্দর ও গোছানোভাবেই চলছে। আমি মনে করি, শ্রেষ্ঠ সুখের সংসারটিই আমার। আপনি তো একজন অভিনেত্রীর চেয়ে কত্থক নৃত্যশিল্পী হিসেবে শুরুরদিকে বেশি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। নৃত্যশিল্পীর ক্যারিয়ারটা অনেকটাই দূরে ঠেলে অভিনয়ে আসার কারণ কী? আসলে ক্যারিয়াটার দূরে ঠেলে দেওয়া না। আমার তো নিজের নৃত্যের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও আছে। এখন ভারতে নৃত্যের যতটা মূল্য, তখন এতটা মূল্য কিংবা চাহিদা ছিল না। বিশেষ করে কত্থকের। যা ছিল সেটা অভিনয় শিল্পের মতো এতটা এগিয়ে ছিল না। আমি অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নিজের কত্থকটাকে চলচ্চিত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম। এটাও একটা উদ্দেশ্য ছিল। আর নৃত্যের পাশাপাশি অভিনয়ের প্রতিও খানিকটা দুর্বলতা ছিল। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমি তো ধর্মেন্দ্রর ভক্ত ছিলাম। সেই খায়েশটাও মিটেছে অভিনয়ে এসে। আপনার কত্থক নৃত্যচর্চাকেন্দ্র সম্পর্কে একটু শেয়ার করুন। এই বিহার কলাকেন্দ্রের সহযোগিতা, উত্সাহ সবকিছুই আমার মায়ের। আমার মায়ের জন্যই তো আজ আমি এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। আমার এখানে নিয়মিত অনেক শিক্ষার্থী নৃত্যচর্চা করছে। শুধু কত্থকই নয়, কুচিপুরি, ওডিসিসহ আরও বিভিন্ন ধরনের নাচ শেখানো হয় এখানে। আমার মতো আমার দুই মেয়েকেও আমি নৃত্যে পারদর্শী করে তুলেছি। মাঝে মাঝে আমরা তিন মা-মেয়ে বিভিন্ন নৃত্যানুষ্ঠানে অংশও নিই। নাচের প্রতি আমার আগ্রহটা এত বেশি যে, অনেক স্ক্রিপ্ট আমি ফিরিয়ে দিই কিন্তু নাচের ভালো কোনো অনুষ্ঠান পেলে ফেরাতে চাই না। আমি যতদিন এ দেহে শক্তি পাব, ততদিনই নাচের চর্চাটা করতে চাই। একজন ড্রিমগার্ল হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতিবীদ হওয়ার গল্পটা একটু শেয়ার করুন। রাজনীতিটাও আমার কাছে একটা শিল্প, মানুষ ও দেশ গড়ার একটা শিল্প। রাজনীতি যে করব এমন কোনো উদ্দেশ্য বা ইচ্ছে আগে খুব একটা ছিল না। কিন্তু আমার আশপাশের মানুষের অনুরোধ ও তাদের চাওয়া-ভালোবাসা আমাকে রাজনীতিবীদ বানিয়ে দিয়েছে। জানিনা একজন রাজনীতিবীদ হিসেবে কতটুকু সফল আমি। তবে ওই জায়গাতেও আমি একজন শিল্পীর মতো করে ভেবেই মানুষের প্রয়োজনটা বুঝে কাজ করার চেষ্টা করেছি।