শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৩, ২০:৫৬
রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তর ভাল হোক
একটা প্রবাদ আছে, অন্তর ভাল করার চেষ্টা করে, বাহ্যিক জীবন এমনিতে ভাল হবে। কিন্তু তার সাথে অদৃষ্টের পরিহাস বলেও একটি কথা আছে। আমরা যতই ভাল হতে চায় না কেন, ভাগ্য আমাদের ভাল হতে দেয় না। কি ভাবে ভাল হবে যদি আমাদের অন্তর ভাল না হয়। গত ২০-০৬-১৩ ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার বাজেটের উপর ভিত্তি করে সংসদ অধিবেশনে রাজনৈতিক দুদলের সংসদ সদস্যরা যে ভাষায় কথা বললেন, এতে মনে হয় তারা বাজেটের উপর আলোচনা নয়, একদল অন্য দলের যাবতীয় ময়লাকে পচা সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করছেন। আর বেশিদিন নেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। এই অল্প সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। কিন্তু তারা যদি পারস্পরিক কলহে লিপ্ত থাকেন ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে একে অপরের তীব্র সমালোচনা করেন তা হলে কিভাবে শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন হবে? কিভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে? তবে কি আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে হারিয়ে যাবে? তা হলে ১৬ কোটি মানুষের কি হবে? দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই তুলনায় কর্মসংস্থান কম। তাই বেকারত্বের হার বেশি। যদি তাদেরকে সমঝোতার মধ্যে আনা না যায়, তাহলে দেশ তিমির আঁধারে তলিয়ে যাবে। কিন্তু অন্ধকারকে আলোকিত করতে দিপশিখা নিয়ে কোন একজনকে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু কে আসবেন? প্রধান দুদল তো এক ক্ষুরে মাথা মুড়ায়। তাদের নিকট ভাল সংবাদ আশা করার অর্থ হলো ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধার মতো। তারপরও আমরা আশা করি, তারা ক্ষমতার অন্ধ লোভকে ত্যাগ করে জনগণের কল্যাণের জন্য ভালবাসার হাত বাড়াবেন। আর জনগণও তাদের ভালবেসে ভোট দিয়ে নির্বাচনে জয়ী করবে। সুতরাং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের যাদুর কাঠি।
মো. আব্দুর রহমান সুমন
সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়
নারায়ণগঞ্জ
---
শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর ও লুটপাট বন্ধের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব
বাংলাদেশে ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়টি আমার কাছে তেমন গুরুত্ব বহন করে না। ক্ষমতা হস্তান্তর মানেই যেন জনগণের জন্য আরেকটি ব্যর্থ সরকার, ৫ বছরের জনসম্পদ লুটপাট ও তছরূপ করার ট্রাম কার্ড হাতিয়ে নেয়া। পালাক্রমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয় কিন্তু হয় না জনগণের ক্ষমতায়ন ও অর্জিত হয় না কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন। এতদসত্ত্ব্বেও ক্ষমতা নামক অতি আশ্চর্যজনক জিনিসটি যদি শান্তিপূর্ণ উপায়ে হস্তান্তর হতো তাহলেও দেশ ও জনগণের জন্য কিছুটা হলেও ভাল হতো। ক্ষমতায় পুনঃঅধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সব সময়ই বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে হারার পরদিন থেকেই শুরু করে জ্বালাও পোড়াও ও হরতালের আন্দোলন। অথচ একদিনের হরতালে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয় অর্থনীতির। ব্যাহত হয় মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ। যা অর্থনীতিকে অন্ধকার গুহার দিকে ঠেলে দেয়। সরকার এই বিষয়ে নির্বিকার। অথচ ১৯৯৬ সালে যখন বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মেনে নিতে চায়নি তখন তারাই (বর্তমান সরকার) বাংলাদেশের স্মরণকালের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড সংখ্যক হরতাল দিয়েছিল। সর্বোপরি ইতিহাসের খেরো খাতা খুললেই দেখা যাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নানান ধরনের ফন্দি ফিকির থাকে। অপরদিকে বিরোধী দল এটাকে ইস্যু বানিয়ে দেশের অভ্যন্তরে মাত্স্যনায় অবস্থা সৃষ্টি করে দেশকে স্থবির করে দেয়। তাই ক্ষমতা হস্তান্তরের বিকল্প শুধু শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরই যা অর্থনীতির গতি প্রবাহকে ব্যাহত করবে না।
ধৈর্য
ইংরেজি বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ
সরকারি সাদত কলেজ, করটিয়া টাঙ্গাইল
---
অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় এলে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি আবার ভেঙ্গে পড়বে
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে না তোলা যায় তাহলে ফখরুদ্দীন ও মঈনউদ্দীন মার্কা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে ৩ মাসের জায়গায় ২ বছর ক্ষমতায় থাকার পাঁয়তারা করবে। তাই আমাদের দুই বড় রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই আগামী নির্বাচন সংবিধান সম্মতভাবে করুন, না হলে দেশ ও দেশের জনগণ গণতান্ত্রিক ধারা থেকে পিছিয়ে পড়বে। ওয়ান ইলেভেনের মতো দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজবে।
এস এম হূদয় রহমান
এইচএসসি ফলপ্রার্থী
জুরানপুর আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
---
রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমাধান
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। চলমান জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধান দু দল অংশগ্রহণ করলেও তা কোন সুফল বা সমাধান বয়ে আনছে না। দুদলের এমপিরা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যেসব অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন তা দারুণভাবে জাতিকে হতাশাগ্রস্ত করছে। দুদলের এই দলাদলি কাদা ছুঁড়াছুঁড়ি ও হিংসাত্মক মনোভাব যদি চলতে থাকে তাহলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোনমতে সম্ভব নয়। অনেকে আবার সংবিধানের কথা বলেন। সংবিধান জনগণের জন্য, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে শীতল যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, বিরোধী দলের হরতাল, অরাজকতা ও সংঘাত এবং বিরোধী দলের প্রতি সরকারি দলের উগ্র মনোভাব এদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে এক হয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
মো. সাইদুর রহমান (রিপন)
প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি এলএলবি,
(অনার্স) আইন
বিভাগ, বনানী, ঢাকা