ড্রেসিংরুমে ইন্টারনেটের বিরুদ্ধে আকসু!

আইসিসি’র দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট (আকসু) খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিরুদ্ধে। যদিও ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া এর পক্ষে। তবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরুর দু’মাস আগে দুবাইয়ে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আইসিসি’র বৈঠকে এর বিরোধিতা করেন আকসুর প্রধান যোগেন্দ্র পাল সিং এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি অমীমাংসিত থাকলেও ভবিষ্যতে তা পর্যালোচনা করে অগ্রগতি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। এমনটা জানিয়েছে ইএসপিএন ক্রিকইনফো। ইএসপিএন ক্রিকইনফো গত ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য হাতে পেয়েছে । তারা জানিয়েছে, সেই বৈঠকে ক্রিকেটের ‘এলিট’ শ্রেণীর তিন সদস্য ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে ইন্টারনেট সুবিধা দেয়ার জন্য প্রস্তাব করা হয়। তখনই আকসুর পক্ষে যোগেন্দ্র পাল এর বিরোধিতা করেন। কারণ, ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে কেউই চাইলে ড্রেসিংরুমের খবর বাইরে পাচার করতে পারে। ক্রিকইনফো জানায়, মূলত প্রস্তাবটা আসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া’র (সিএ) পক্ষ থেকে। আর এই প্রস্তাবে সমর্থন দেয় দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ড (সিএসএ) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বিসিসিআইয়ের পক্ষে এই মত দেন তত্কালীন বোর্ড সভাপতি এন শ্রীনিবাসন। বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ‘আকসুর সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে যোগেন্দ্র পাল সিং বিরোধিতা করলেও এন শ্রীনিবাসন ও ফল (সিএসএ’র ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রধান) ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাবে নিজেদের সম্মতির কথা জানান।’ আকসুর কপালে চিন্তার ভাঁজ মুছতে একটি বিকল্প প্রযুক্তি’র দ্বারস্থ হতে বৈঠকে নির্দেশ দেয়া হয়। আর এর ভিত্তিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) ও ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) কে আকসুর সাথে মিলে এই ব্যাপারে পরীক্ষামূলক ভাবে কাজ করতে আর ‘যথোপযুক্ত সময়ের মধ্যে’ এই ব্যাপারে তাদের কাজের অগ্রগতি জানানোর জন্য বলা হয়। এর আগে ২০১০ সালে পি সারা ওভালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার একটি টেস্ট ম্যাচে ইন্টারনেট নিয়ে বেশ জল ঘোলা হয়। ক্রিকেটারদের ড্রেসিংরুম ও প্রেস বক্স খুব কাছাকাছি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আকসুর কর্মকর্তাদের নির্দেশে ওয়াই-ফাই সংযোগে পাসওয়ার্ড দিতে বাধ্য হন শ্রীলঙ্কা দলের মিডিয়া ম্যানেজার। আইসিসি’র বৈঠকে বিশেষ একজন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যোগেন্দ্র পাল সিং। মিটিংয়ের কার্যবিবরণীতে আরও বলা হয় যে, ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা পদ্ধতিতেও নিজের আপত্তির কথা জানান আকসুর এই প্রধান কর্মকর্তা। এসবের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকদের মধ্যে যথেষ্ট স্বচ্ছতার অভাবের দিকেই গুরুত্ব দেন তিনি।