তুরস্কে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে একজন নিহত

তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কুর্দি অধ্যুষিত দিয়ারবাখির প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১০ জন। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এক কুর্দি আইনপ্রণেতা এ খবর জানিয়েছেন। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন দিয়ারবাখিরের গভর্নর জাহিত খিরাচ। তবে হতাহতের খবর নিশ্চিত করেননি তিনি। দিয়ারবাখিরের কায়াজিজ গ্রামে একটি নতুন পর্যবেক্ষণ ফাঁড়ি নির্মাণ করছিল নিরাপত্তা বাহিনী। এই নির্মাণের প্রতিবাদে একদল মানুষ সেখানে বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের লক্ষ্য্ করে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে বলে জানান কুর্দিশ পিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (বিডিপি) আইনপ্রণেতা গুলতান জিসানাক। গত মার্চে কুর্দি বিদ্রোহী দল কুর্দিস ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) ও তুরস্কের মধ্যে অস্ত্র-বিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর এ ঘটনাকে ওই এলাকার সবচেয়ে সহিংস ঘটনা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। গভর্নর খিরাচ জানান, শুক্রবার প্রায় ২শ’ প্রতিবাদকারী নির্মাণস্থলে মিছিল করে যায়। মিছিলকারীদের কয়েকজন নির্মাণস্থল লক্ষ্য করে পেটো্রল বোমা নিক্ষেপ করে ও নির্মাণকর্মীদের তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। “এই সময় সেনারা সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলিবর্ষণ করলে দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। সেখানে একজন নিহত ও দু’জন গুরুতর আহতসহ ছয়জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে তথ্যগুলো নিশ্চিত করা হয়নি, আমরা তদন্ত শুরু করেছি,” বলেন খিরাচ। এই ঘটনার প্রতিবাদে ইস্তাম্বুলের কেন্দ্রীয় দু’টি এলাকায় কয়েকশ’ মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। সামপ্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগে কুর্দি এলাকায় সংঘটিত ঘটনা নিয়ে ইস্তাম্বুলে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করার কথা ভাবাও যেত না। সরকারবিরোধী ওই বিক্ষোভের সঙ্গে ‘কুর্দি সমস্যার’ কোনো সংযোগ ছিল না। কিন্তু এর মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তুর্কি সমাজের একটি অংশের গুণগত পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।