শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৩, ২১:৪৪
সময় নষ্ট না করে ক্ষমতা হস্তান্তরের সুষ্ঠু উপায় নিয়ে ভাবুন
প্রতিবারই কোন দলের ক্ষমতায় যাওয়া এবং ব্যর্থ হওয়া যেন নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবুও জনগণ একটু শান্তির আশায় নির্বাচনে ভোট দেয় ও তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে। কিন্তু জনগণের এই সরলতার সুযোগ নিয়ে সরকার পক্ষ বার বার ক্ষমতার অপব্যবহার করে। পবিত্র আমানতের খেয়ানত করে। এ প্রতারণা আর কতদিন চলবে? অতীতের ন্যায় বর্তমানেও ঠিক একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সেই আগের মত হরতাল, ভাংচুর, সংঘাত ইত্যাদি। তাহলে এর প্রকৃত সমাধান কোথায়? হ্যাঁ, সমাধান আছে যেটা সকলেই চায়, তা হল—দল মত নির্বিশেষে সকলের সংলাপে বসা। কিন্তু সংলাপ, সেটা যেন তাদের ক্ষেত্রে কাকতালীয় ব্যাপার। বরং সংলাপকে ঘিরে তাদের সমালোচনা হচ্ছে এই যে, সংলাপ করে কি হবে আর না করলেই বা কি হবে? একথা সত্য যে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন যোগ্য নেতৃত্ব এবং ক্ষমতার সঠিক ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল। তাই দেশের বর্তমান অবস্থার কথা ভেবে, দেশ রক্ষার সংকল্পে সর্বোপরি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা ভেবে ক্ষমতা হস্তান্তরকরণ প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু উপায় খুঁজে বের করতে হবে। সেক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে এবার শিক্ষাবিদদের গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে।
মো. ফয়সাল ইমাম,
বিজ্ঞান বিভাগ,
নটরডেম কলেজ, ঢাকা
--
অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য
অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা একটি গণতান্ত্রিক দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধক। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য ‘অর্থনৈতিক মুক্তি’ অগণতান্ত্রিক পরিবেশের কারণেই সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি তার স্বাধীনতার চার দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত করার পরও অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি স্বাবলম্বী হতে পারেনি। প্রতিটি রাজনৈতিক দল অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসলেও স্বীয় ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয় এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করে না। ফলে দেশের অর্থনীতিতে চেপে বসে এক বিভত্স অশরীরী (ভূত)। কথায় বলে “ভূতের পা থাকে পেছনের দিকে, যত সামনে এগিয়ে যেতে চায় ততই পেছনে চলে যায়”। একইভাবে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চাকাকে কামড়ে ধরে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বৈধ শাসনকাল শেষ হওয়ার পরও ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি একটি নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা যা দুঃখজনক। একটি দল যখন বিরোধী দলে থাকে তখন সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলকে বার বার হুঁশিয়ার করে। আবার সে বিরোধী দলই যখন ক্ষমতার মসনদে আসীন হয় তখন সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি নানা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সুতরাং একথা হলফ করে বলা যায় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও যুগোপযোগী কোড অব কনডাক্ট জরুরি হয়ে পড়েছে। কেননা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অদৌও সম্ভব নয়।
শাকির আহমেদ শোয়েব
স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
--
রাজনৈতিক দুর্যোগ ও দুর্ভিক্ষ আসতে পারে
যখন কোন দল ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যায় তখন তারা ক্ষমতায় টিকে থাকারও চেষ্টা করে নানাভাবে। এভাবে সংঘাত তৈরি হচ্ছে। আর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নজিরবিহীন অবনতির কারণে আমাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে সমূলে ধ্বংস করছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা না রেখে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার পেছনে অর্থ ঢালছে। দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ। সরকার নির্বাচনমুখী হলেও জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে কতটুকু করতে পারবে তা নিয়ে জনগণের রয়েছে সন্দেহ। তাই দু’দলের সংঘাতের পথ পরিহার করতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সরকারকেই অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। এতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হবে, নতুবা ওয়ান ইলেভেনের ন্যায় আরেকটি রাজনৈতিক দুর্যোগ ও দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশের মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে।
মো. জাহাঙ্গীর আলম
মানবিক বিভাগ, নটরডেম কলেজ, ঢাকা
--
ক্ষমতার অপব্যবহার
বন্ধ করুন
বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনেকটা গতিহীন হয়ে পড়েছে। কারণ এদেশের ক্ষমতাসীন দল ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে যেন সতীনের সম্পর্ক বিদ্যমান। এই প্রধান দুই দলের মধ্যে এরূপ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকার কারণে জাতি আশা করতে পারছে না একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। দেশে ক্রমাগত বেড়েই চলছে হরতাল, গুমহত্যা, রাহাজানি, ভাংচুর, সন্ত্রাসীসহ নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতা যা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিপন্থী।
চলতি মাসের ১৫ জুন দেশের চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেই প্রধান বিরোধী দল জয় লাভ করেছে। ক্ষমতাসীন দল পরাজয়ের কারণে সংসদে নবনির্বাচিত চার মেয়রের গেজেট ঘোষণা করা হচ্ছে না। তাদের উপযুক্ত পদমর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের গেজেট ঘোষণা সম্পর্কে দুই-চারটি কথা বিরোধী দল সংসদে উপস্থাপন করলেই তাদের মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়। এটা কেমন ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা? কিন্তু সরকারের এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা অসম্ভব, অবাস্তব ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই দেশের সকল অপকর্ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার বাদ দিয়ে বিশুদ্ধ ও কুলষমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হোক। সমঝোতায় বসে আলোচনার মাধ্যমে আয়োজন করতে হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। আর এ নির্বাচনের মাধ্যমেই জাতি তার ফল অর্থাত্ অর্থনৈতিক উন্নয়নের মুখ দেখতে পারবে।
মাইদুল ইসলাম (নয়ন)
বি.বি.এ অনার্স ব্যবস্থাপনা, ২য় বর্ষ,
ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
কলেজ, গাজীপুর