সৈয়দপুরে বন্ধের পথে ক্ষুদ্র শিল্প-কারখানা

উত্তরের বাণিজ্যিক শহর নীলফামারীর সৈয়দপুরে রয়েছে বিমানবন্দর, সেনানিবাস, রেলওয়ে পুলিশের জিআরপি কার্যালয়, দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা, ২০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন, বিসিক শিল্পনগরী প্রভৃতি। ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও সুযোগের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প- কলকারখানা। এর মধ্যে বেশ কিছু কারখানা পুঁজির অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এসব কল-কারখানা রুগ্ন অবস্থায় পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০/১৫টি ক্ষুদ্র কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নীলফামারী জেলার অধিকাংশ ক্ষুদ্র মিল-কল-কারখানা বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরে অবস্থিত। এসব শিল্প-কারখানা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা, বেসিক ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক হতে প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য পরিমাণ আর্থিক সহায়তা নিয়ে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু অব্যাহত বিদ্যুত্ বিভ্রাট, বাজারজাতকরণে সমস্যা ও জমির মালিকানা বিষয়ক জটিলতায় শিল্প-কারখানা এগুতে পারছে না। কারণ সৈয়দপুরের সিংহভাগ জমিই রেলওয়ের। সেখানে গড়ে উঠা বাসাবাড়ি ও শিল্প-কারখানার কাগজপত্র প্রায় ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রহণ করে ঋণ দিতে চায় না। যদিও এই সৈয়দপুরের মতো একটি উপজেলা শহরে প্রায় ২২টির মতো বাণিজ্যিক ব্যাংক কাজ করছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প-কল-কারখানার মালিকরা প্রতিষ্ঠান চাঙ্গা করার লক্ষ্যে ব্যাংকে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু ফল হচ্ছে না। ব্যাংক ঋণের চক্রবৃদ্ধি সুদের জন্য সার্টিফিকেট মামলার হুমকির জ্বালায় অস্থির হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র শিল্পের মালিকরা। এসব কারণেই কর্মরত শ্রমিকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছে।