দুই নেত্রীর বাকযুদ্ধ

প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদ নেত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদে ক্ষুরধার বাক্যবানে পরস্পরকে অস্থির করে তোলেন। আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করলেও তারা দুজনেই যুক্তি ও প্রমাণ উত্থাপন করেন দক্ষতার সঙ্গে। তাদের আক্রমণের বিষয়বস্তুর মধ্যে বরাবরের মত কিছু কিছু পারিবারিক বিষয় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) স্থগিত, সাম্প্রতিক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গ, গত ৫ মে মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযানসহ বিভিন্ন বিষয় ঠাঁই পায়। সাম্প্রতিক সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গ তুলে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, এই নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু হয়নি। সুষ্ঠু হলে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হত বলে তিনি দাবি করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা বাতিল করার সুপারিশ করে তিনি কোন চিঠি দেননি বলেও খালেদা জিয়া দাবি করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি চিঠির কপি হাতে নিয়ে উঁচু করে তুলে ধরেন। তখন খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ চিঠি আমার লেখা নয়।’ গত ৩০ জানুয়ারি ‘ওয়াশিংটন টাইমস’ নামের একটি পত্রিকায় খালেদা জিয়ার লেখা একটি নিবন্ধ ছাপা হয়েছিল। তাতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর দমন-নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল। সেই নিবন্ধ সম্পর্কে গতকাল খালেদা জিয়া বলেন, ঐ লেখা তার নয়। তিনি তার বক্তব্যে মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানেরও কঠোর সমালোচনা করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়াশিংটন টাইমসে লেখা নিবন্ধটির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘এটা আমি লিখিনি’ বললে তো হবে না। তিনি বলেন, আমার সমালোচনা করুন, কিন্তু দেশের বিরুদ্ধে কেন লিখলেন! প্রধানমন্ত্রী কিছু আলোকচিত্র দেখিয়ে হেফাজতের সমাবেশ নিয়ে বিশেষ একটি মহলের মিথ্যাচারের কড়া সমালোচনা করেন। গতকালের অধিবেশনে দুই নেত্রীই যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে আসেন এবং তুখোড় বাক্যবানে পরস্পরকে বিদ্ধ করেন।