বাংলাদেশের প্রতি ওবামার মনোভাব কঠোর
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৩, ২৩:২০
বাংলাদেশের প্রতি ওবামার কঠোর মনোভাব প্রতীয়মান হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করার পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, পোশাক কারখানার প্রভাবশালী মালিক পরিবারগুলোর কাছে অজনপ্রিয় হয় এমন নীতিতে পরিবর্তন শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্বদানকারীরা আনবেন বলে মনে হয় না। নীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করা হলেই কেবল তারা তা করবেন। এ বিষয়ে চাপ দিতে আমেরিকান ও ইউরোপীয় নেতাদের হাতে খুব কম অস্ত্রই রয়েছে। তবে যেখানে লাখ লাখ দরিদ্র কর্মীর জীবন হুমকিতে রয়েছে, সেখানে হাতে থাকা সীমিত অস্ত্রকেই ব্যবহার করতে হবে।
বাংলাদেশের ৪০ লাখ কর্মীর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে চাপ দিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করা হয়েছে। ‘ওবামা গেটস টাফ অন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিকাশমান পোশাকশিল্পে সাম্প্র্রতিক বছরগুলোতে অগ্নিকাণ্ড, ভবন ধসসহ বিভিন্ন প্রতিরোধযোগ্য দুর্ঘটনায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এ রকম ঘটনার উদাহরণ দিতে গিয়ে গত এপ্রিল মাসে সাভারে রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক এবং গত বছরের নভেম্বরে তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ১১০ জনের বেশি শ্রমিক নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরাজীর্ণ কারখানাগুলো সংস্কারে এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করতে চাপ দিতে বলা হলেও এ ক্ষেত্রে মৌলিক দায়িত্ব বাংলাদেশের নেতাদের ওপরেই বর্তায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কারখানাগুলোতে পরিদর্শন বাড়ানো এবং কর্মীদের ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ দেয়ার কথা বার বার বললেও বাস্তবে তেমন কিছুই করা হয়নি।
অবশ্য তামাকজাত দ্রব্য, খেলাধুলা ও চীনামাটির সামগ্রীর মতো পণ্যের ক্ষেত্রেই কেবল জিএসপি সুবিধা ছিল। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রকার জিএসপি সুবিধা দেয় না। তাই ওবামা প্রশাসনের ওই পদক্ষেপ পোশাককর্মীদের সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করবে না বলেও জানানো হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস-এর ওই সম্পাদকীয়তে। বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করতে ওবামা প্রশাসনের পদক্ষেপ দেশটিকে দেয়া একই ধরনের সুবিধা প্রত্যাহার করে নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও উত্সাহ জোগাবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে সম্পাদকীয়তে।