আদমজী বন্ধের ১১ বছর কান্না থামেনি শ্রমিকদের

আজ ৩০ জুন। ২০০২ সালের এই দিনে অব্যাহত লোকসানের অজুহাতে তত্কালীন চারদলীয় জোট সরকার এশিয়ার বৃহত্তম জুট মিল আদমজী জুট মিলটি বন্ধ করে দিলে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়ে পথে বসে। বন্ধের ১১ বছর পরও বেকার অসহায় শ্রমিকদের কান্না থামেনি। আদমজীতে ইপিজেড স্থাপন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের চাকরির আশ্বাস দিলেও গত ১১ বছরেও তাদের ভাগ্যের কোন উন্নতি হয়নি। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদমজীর ২ নং মিলটি চালু হওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছে শ্রমিকরা। ১৯৫১ সালের ১২ ডিসেম্বর ১৭শ’ হেসিয়ান এবং ১ হাজার সেকিং লুম দিয়ে উত্পাদনে যায় আদমজী জুট মিল। মিলে উত্পাদিত চট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। প্রতি বছর প্রায় ৬০ কোটি টাকা আয় হতো। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৪ সালের ২৬ মার্চ আদমজী জুট মিলকে জাতীয়করণ করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন কারণে ২০০০ সাল পর্যন্ত লোকসান দেয় সাড়ে ১২শ’ কোটি টাকা। চারদলীয় জোট সরকার ২০০২ সালের ৩০ জুন আদমজী বন্ধ করে দেয়। বন্ধ হওয়ার সময় আদমজীতে শ্রমিক সংখ্যা ছিল স্থায়ী ১৭ হাজার ৩১ জন ও অস্থায়ী ৬ হাজার ২৫২ জন। এছাড়াও ১ হাজর ৯৯২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। প্রতি বছর ৩০ জুন এলেই আদমজীর শ্রমিকরা কর্মস্থলের নানা স্মৃতি মনে করে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলেন। কাউকে কাউকে কান্নাকাটি করতেও দেখা যায়। এমনই কয়েকজন শ্রমিক জানান, কতিপয় শ্রমিক নেতার আধিপত্য বিস্তারের জন্য শ্রমিক অসন্তোষ ও তাদের মধ্যে গোলযোগ সৃষ্টি, মিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে লাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। সরকার ঐ লুটেরাদের বিচারের ব্যবস্থা না করেই মিলটি বন্ধ করে শ্রমিকদের পথে বসায়। ২০০২ সালে আদমজী বন্ধের পর ২০০৬ সালের ৬ মার্চ তত্কালীন সরকার উদ্বোধন করে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (এইপিজেড)। এইপিজেডে ১ লাখ লোকের কর্মসংস্থান এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আদমজীর শ্রমিকদের চাকরি দেয়া হবে বলে তত্কালীন সরকার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু বন্ধের ১১ বছরেও আদমজীর শ্রমিকরা কোন কাজ পায়নি। কর্মসংস্থান না হওয়ায় আজও আদমজীর সাবেক শ্রমিকদের কান্না থামেনি। ২ নং মিলটি চালুর দাবি বর্তমান মহাজোট সরকার আদমজী জুট মিলের ২ নং মিলটি চালুর ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ৪ বছরেও এটা চালু করা হয়নি। তবে মিলটি চালুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩টি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল যার মধ্যে ৩ নং প্রস্তাবে ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন রূপে আদমজী ২ নং মিলটি চালু করা হলে প্রতি শিফটে ১ হাজার ৭১৬ জন করে দুই শিফটে ৩ হাজার ৪৩২ জনের কর্মসংস্থান হবে এবং প্রতিদিন ৫০.৭০ টন পাটজাত পণ্য উত্পাদন হবে। উক্ত প্রস্তাবটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক বিধায় ২০১০ সালের ৩০ মে মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটির সম্মতি দেয়। ২০১৩ এর মাঝামাঝি এসেও প্রস্তাবটি আলোর মুখ দেখেনি। বন্ধ আদমজী জুট মিল চালু সংগ্রাম পরিষদের নেতারা ২ নং মিলটি শিগগিরই চালু করার দাবি জানিয়েছেন।