প্রতিকূলতাকে পিছনে ঠেলে প্রতিষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তারা
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৩, ১৯:৪৫
সব বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে এগিয়ে চলছে নারী। বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে এসে আধুনিকতার উত্কর্ষতা চরমে পৌঁছালেও পুরুষের মানসিকতা এখনো সব জায়গায় পরিবর্তন হয়নি। নারীরা এখনো পুরুষতান্ত্রিকার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সংগ্রাম করছে। নারী জয় করছে এভারেস্ট, পুরুষের সাথে সমানতালে প্রতিযোগিতা করে ছিনিয়ে এনেছে বিজয় মুকুট। ব্যবসা ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই নারী। সারাবিশ্বের ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে নারী উদ্যোক্তারা। গত ২৮ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের সম্মেলন সোস্যাল বিজনেস ডে-২০১৩। এই সোস্যাল বিজনেস একটি উদ্যোগের নাম। যার প্রতিপাদ্য ‘ট্রেনিং ভিশন উইথ রিটেইলস’। এই ধারণাকে পুঁজি করে সফল নারী উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন তাদের সফলতার গল্প। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন— মিজানুর রহমান
সাসকিয়া ব্রুয়েসটেন
কো-ফাউন্ডার এবং সিইও, ইউনুস সোস্যাল বিজনেস
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক এন্ড পলিটিক্যাল সাইন্স থেকে ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করেন সাসকিয়া ব্রুয়েসটেন। ২০০৩ সালে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন লন্ডন স্কুল অব বিজনেস থেকে। এই তরুণী কর্মজীবন শুরু করেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপে। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর কো-সিইও হিসেবে যোগ দেন জার্মানীতে অবস্থিত গ্রামীণ ক্রিয়েটিভ ল্যাব-এ। মূলত এটি একটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালে কো-ফাউন্ডার এবং সিইও হিসেবে যোগ দেন জার্মানীর এই সামাজিক ব্যবসায়। সাসকিয়া ব্রুয়েসটেনে’র হাত ধরেই জার্মানীতে কার্যক্রম শুরু করে সামাজিক ব্যবসার উদ্যোগ। ৩৩ বছর বয়সের সুদর্শনা এবং মিষ্টভাষী সাসকিয়া ২৮ বছর বয়স থেকেই সামাজিক ব্যবসার ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। সামাজিক ব্যবসার ধারণাকে পৌঁছে দিতে চান বিশ্বের প্রত্যেকটি ঘরের প্রতিটি মানুষের কাছে। সাসকিয়ার মতে, মূলত সামাজিক ব্যবসার এই উদ্যোগকে কোন নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় ফেলা যায় না। কিন্তু এই উদ্যোগ নেয়ার পর থেকে প্রচলিত ধারার ব্যবসায়ীরাও এই ধারণার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। কর্পোরেট অথবা এনজিও যে কোন জায়গা থেকেই সামাজিক ব্যবসার (সোস্যাল বিজনেস) বৃহত্ সম্ভাবনা রয়েছে। সাসকিয়া বলেন, আমি চাই এখন যেমন মানুষ এনজিও বললে বুঝতে পারে এটা কোন ধারার ব্যবসা, তেমনি সামাজিক ব্যবসা বললেও যাতে বুঝতে পারে এটা কী। সাসকিয়া সামাজিক ব্যবসার এই কার্যক্রমকে জার্মানীসহ ৫টি ইউরোপিয়ান দেশে সম্প্রসারিত করার কাজ করছেন। ইউরোপ ছাড়াও আফ্রিকান দেশ তিউনেশিয়া ও উগান্ডাতেও কার্যক্রম শুরু করেছে এই প্রতিষ্ঠান।
===
সোফি আইজেনমেন
কো-ফাউন্ডার এবং সিএফও
ইউনুস সোস্যাল বিজনেস
জার্মান, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ এবং ইংলিশ ভাষায় পারদর্শী সোফি আইজেনমেন ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন ২০০৩ সালে। সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে সিমেন্স ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং এ যোগদান করেন ২০০৫ সালের এপ্রিলে। পরিচালক হিসেবে গ্রামীণ ক্রিয়েটিভ ল্যাব এ যোগ দেন ২০০৯ সালে। ইউনুস সোস্যাল বিজনেস-এ যোগ দেন ২০১১ সালের অক্টোবরে। একজন কো-ফাউন্ডার এবং সিএফও হিসেবে জার্মানীতে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সফলতার সঙ্গে। সামাজিক ব্যবসার ধারণাকে কাজে লাগিয়ে ‘ইউনুস সোস্যাল বিজনেস’ প্রতিষ্ঠা করেন সাসকিয়া ব্রুয়েসটেন, সোফি আইজেনমেন এবং হেন্স রিট্জ। সামাজিক ব্যবসা বা সোস্যাল বিসনেজ উদ্যোগের সদস্যরা ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়তা পাওয়া নতুন ধারার এই ব্যবসা পদ্ধতিকে বিশ্বময় পরিচিত করতে কাজ করছেন। ইউনুস সোস্যাল বিজনেস ইনকিউরেটর তহবিল স্থাপন করে এবং কোম্পানি, সরকার, ফাউন্ডেশন, এনজিওদেরকে পরামর্শ দিয়ে নিজেই ব্যবসা হিসেবে সঞ্চালিত হয়।
==
তাহসিনা খাতুন
সদস্য
গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালক পর্ষদ
১২ বছর আগে মাত্র ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সেলাই ব্যবসা শুরু করেছিলেন তাহসিনা খাতুন। সামান্য পরিমাণের সেই টাকা এখন ৩০ লাখে পৌঁছেছে। অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শক্ত মনোবলের কারণে শুধু মূলধনই বাড়েনি, সম্মানও বেড়েছে ময়মনসিংহের এই গৃহিণীর। তাহসিনা খাতুন গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নিজের ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে রড এবং সিমেন্ট ব্যবসায়ীকে সহায়তা করেছেন। সেই ব্যবসা এখন অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দুই মেয়ে এবং এক ছেলে লেখাপড়া করছে। বড় মেয়ে তানি উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতক, ছোট মেয়ে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ও অপরাধ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক এবং একমাত্র ছেলে নিহাল নবম শ্রেণিতে পড়ছে।