হলিউড

গ্রেটা গার্বো

হলিউডের প্রথম মহাতারকা গ্রেটা গার্বো। তাকে বলা হয় বিউটি অব দ্য বিউটি’স। হলিউডের প্রথম দিকের জনপ্রিয় নায়িকা তিনি। গ্রেটা হঠাত্ করেই ১৯৪১ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে খ্যাতির শীর্ষে অবস্থানকালে চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নেন। তার অভিনীত শেষ ছবি ছিল ‘টু ফেসড ওম্যান’। এই নায়িকা ১৯৯০ সালের ১৫ এপ্রিল নিউইয়র্কের এক হাসপাতালে পরলোকগমন করেন। তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ চিরকাল চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন তিনি। নির্বাক চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত সারা দুনিয়ার সিনেমা দর্শকদের স্বপ্নের দেবী ছিলেন গ্রেটা গার্বো। ১৯০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সুইডেনের স্টকহোমে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৪ বছর বয়সে স্কুল ত্যাগ করেন। এরপর তিনি সেলুন ছাড়াও টুপি, চুলের ফিতা ইত্যাদি বিক্রির দোকানে কিছুদিন কাজ করেন। হঠাত্ করেই একদিন সুইডিস ছবির পরিচালক এরিখ ফেসলারের চোখে ধরা পড়লেন গ্রেটা। এরিখের কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। তার শৈশব কেটেছিল সুইডেনের স্টকহোমে। বয়স যখন ১৭ তখন চিত্র পরিচালক মরিস স্টিলার তাকে হলিউডে নিয়ে যান। গ্রেটা ছিলেন অপূর্ব সুন্দরী। ১৯২৬ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত ছিল তার অনুকূলে। এ সময় তার অভিনীত ছবিগুলো হলো দি টরেন্টো (১৯২৬), ফ্লেশ এ্যান্ড দি ডেভিল (১৯২৭), দি ডেভিন ওম্যান (১৯২৮), অ্যানা ক্রিশটাই (১৯৩০), রোমান্স (১৯৩০), মাতাহারি (১৯৩১), গ্র্যান্ড হোটেল (১৯৩২), কুইন কৃস্টিন (১৯৩৩), দি রেইনটেড ডেইলি (১৯৩৪), অ্যানা কারেনইনা (১৯৩৫), ক্যামিলি (১৯৩৭), কনকোয়েস্ট (১৯৩৭), নোনোভস্কায় (১৯৩৯) প্রভৃতি। ১৯২৭ সালে ‘ফ্লেশ এ্যান্ড দি ডেভিল’ ছবিতে গ্রেটা গার্বো জন গিলবার্টের সঙ্গে জুটি বেঁধে সারা বিশ্বের তরুণ দর্শকদের বুকে ঝড় তুলেছিলেন। এ ছবির ‘লিও আর ফেলিসিটা’ দান্তে বিয়েত্রিচ, রোমিও জুলিয়েট, এ্যান্তনি ক্লিওপেট্রার মতো স্মরণীয় হয়ে থাকল। এ ছবিতে অভিনয়কালে তিনি আর জন গিলবার্ট একে অপরের প্রেমে জড়িয়ে পড়লেন। হঠাত্ করেই তাদের সম্পর্কটা ভেঙ্গে যায়। গ্রেটার জীবনে আরো কয়েকজন পুরুষ এসেছিলেন। এদের মধ্যে মরিস স্টিলার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বারবার প্রেমে জড়িয়েও গ্রেটা বিয়েতে রাজি হননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বরাবর একটা কথাই বলেছেন, ‘নিঃসঙ্গ জীবন যত কষ্টকর হোক না কেন, আমার কাছে তা অত্যন্ত মধুময়।’ গ্রেটা গার্বো গোটা বিশ্বের উল্লেখযোগ্য স্থান ঘুরে দেখেছিলেন সেই যৌবনে আর বার্ধক্যে। কখনও তিনি স্থায়ীভাবে কোনো আবাসস্থল গড়েননি। কখনও সুইজারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, কখনও আমেরিকার নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন শহরে কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করেছেন। সারা বছর তিনি হোটেলে কিংবা ভাড়া করা বাড়িতে থেকেছেন। শেষ জীবনে তিনি বহুবার বলেছেন, ‘অবচেতনভাবে আমি সর্বদা সুখের সন্ধান করেছি, কিন্তু সুখ কোথাও পাইনি। সুখী জীবন অন্তত আমার জন্য নয়।’ হলিউডে তার ষোল বছরের চলচ্চিত্র জীবনে ১১ বার আবাসস্থল বদল করেছিলেন। গ্রেটা কখনই কোনো সাক্ষাত্কার দেননি কোনো সাংবাদিককে। পত্র-পত্রিকায় সাংবাদিকরা যা লিখেছিলেন তা বানিয়েই লিখতেন। গ্রেটা তা পড়ে নীরবে হাসতেন। গ্রেটার আসল নাম ছিল গ্রেটা লভিসা গুস্টাফসন। একই সময় গ্রেটা কয়েকটি বিজ্ঞাপনে মডেল হন। এমজিএম চিত্র প্রতিষ্ঠানের ‘দি টরেন্টো’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করে খ্যাতির শীর্ষে আরোহণ করলেন। হলিউডের পত্র-পত্রিকায় লেখা হলো:‘রূপালি পর্দার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ দেবীদের অন্যতম নবাগতা গ্রেটা গার্বো অপূর্ব অভিনয় করেছেন’।