বিচারকের আসন ছাড়লেন আইয়ুব বাচ্চু
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৩, ২০:১৩
‘বাংলাদেশ আইডল’-এর প্রথম পর্বের প্রচার শুরু হয় গত শুক্রবার থেকে। আর প্রথম পর্বেই বিচারকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন আইয়ুব বাচ্চু। সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমানের সঙ্গে মতবিরোধই বাধ্য করে গিটার লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চুকে বিচারকের আসন ছাড়তে। সব প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে শুধুমাত্র ক্ল্যাসিক গানের শিল্পীদেরই বাছাই করা হচ্ছে, কোনো ব্যান্ডের গানের শিল্পীকে বাছাই করছিলেন না কেউ, আর এটাই আঘাত হানে আইয়ুব বাচ্চুর মনে। এক পর্যায়ে ফেরদৌসী রহমান ব্যান্ডকে খানিকটা তাচ্ছিল্যও করেন। যা আইয়ুব বাচ্চুর কাছে খুবই খারাপ লাগে। এতে তত্ক্ষণাত্ আইয়ুব বাচ্চু আসন ছেড়ে উঠে যান এবং জানান এই আসনে আর বসবেন না তিনি। এ প্রসঙ্গে আইয়ুব বাচ্চু বলেন, ‘ফেরদৌসী রহমান এ দেশের অন্যতম একজন গুণী শিল্পী। তাকে আমি অনেক শ্রদ্ধা করি। তার সঙ্গে ঝগড়ায় যাব বা কথা কাটাকাটি হবে এমনটা কখনোই ভাবিনি। তবে সেদিনের ঘটনাটা হঠাত্ করেই আমার খুব খারাপ লেগেছিল। একটা বাজে ঘটনা হিসেবেই আমি একে আখ্যায়িত করব। আমরা তো শুধু একই ঘরানার শিল্পী বাছাই করার জন্য সেই চেয়ারে বসিনি। শুধুমাত্র ক্ল্যাসিক গানকেই তারা প্রাধান্য দিচ্ছিলেন। গিটার ও ব্যান্ডের কোনো গানকে পাত্তাই দেওয়া হচ্ছিল না। বিশেষ করে যখন গিটার ও ব্যান্ডকে নিয়ে তিনি তাচ্ছিল্য করেন তখন মনে হলো এখানে বোধহয় আমার আর কিছু করার মতো নেই। যদি কিছু করারই না থাকে সেই চেয়ারে বসে কী লাভ! ‘বাংলাদেশি আইডল’-এর প্রস্তুতিটাও ব্যাপক ছিল। এবং আমি মনে করি এই অনুষ্ঠানটা বিশাল আকারের একটি অনুষ্ঠান। আন্তর্জাতিকমানের অনুষ্ঠানে বসলে আমাদের অনেক কিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কিন্তু প্রথম পর্ব থেকেই শুধুমাত্র ক্ল্যাসিক সিঙ্গার বাছাই করা, ব্যান্ড ও গিটারকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করাটা আমার কাছে মোটেও সহনীয় মনে হয়নি। তাই আমি আর এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছি না।’
অন্যদিকে ফেরদৌসী রহমানও ভীষণ ক্ষেপেছেন তাদের দু’জনার বাক-বিতণ্ডের পর্বটি চ্যানেলে প্রচার হওয়ায়। তিনি জানান, যেহেতু এই পর্বটি প্রচার হয়েছে তাই হয়তো পরবর্তী পর্ব থেকে তিনিও থাকবেন না। তবে গিটার বা ব্যান্ডকে তাচ্ছিল্য কিংবা এই বিবাদ সম্বন্ধে কিছুই বলতে নারাজ ফেরদৌসী রহমান। উল্লেখ্য, এই পর্বটি এসএ টিভিতে গত শুক্রবার রাত ৮টায় প্রচার হয় এবং শনিবার ৩টা ৩০ মিনিটে পুনঃপ্রচার হয়।