নীলকরের নির্যাতনের সাক্ষী ক্যারল ব্লুমের জরাজীর্ণ ভবন

মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ভাটপাড়ার চারপাশে আগাছার মধ্যে জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে একটি দোতলা ভবন। দর্শকের দৃষ্টি কাড়ার মত এমন কিছু নেই এ ভবনে। কিন্ত এর ভয়ংকর ইতিহাস বিবশ করে দেবে মানুষকে। এ ভবনের কড়ি বর্গা বহন করে চলেছে নির্যাতন আর উত্পীড়নের কাহিনী। সেই উত্পীড়ক একজন ইংরেজ। নাম ক্যারল ব্লুম। ষোড়শ শতকের শেষদিকে এ দেশে শুরু হয় নীলচাষ। সে নীল চালান হতো ইংল্যান্ডে। বিপুল লাভজনক ব্যবসা ছিল তখন। ইংরেজরা তখন জমিদারী কিনে শুরু করে নীলচাষ। নীলকর সাহেবদের নিপীড়ন আর নির্যাতন নিয়ে দীনবন্ধু মিত্র লেখেন নীলদর্পণ। এই নিপীড়ক জমিদারদের একজন ক্যারল ব্লুম। ১৭৯৬ সালের দিকে তত্কালীন নদীয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমায় নীলচাষ শুরু হয়। এই সময় বর্গী দস্যু নেতা রঘুনাথ ভোসালীর সঙ্গে সম্মুখ সমরে গোয়ালী চৌধুরী নিহত হলে মেহেরপুর রানি ভবানীর জমিদারীভুক্ত হয়। পরবর্তীতে রানি ভবানীর হাত থেকে কাসিমবাজার হরিণাথ কুমার নন্দী ক্রয় করেন। হরিণাথ নন্দী ইতিহাসে কুখ্যাত নীলকর জেমস হিলের কাছে মেহেরপুর ইজারা দেন। কিন্ত জমিদার মথুরানাথ মুখার্জী নীলকর জেমস হিলের নীলচাষ বন্ধ করার জন্য প্রচেষ্টা চালান। ফলে জেমস হিলের সঙ্গে তার বিবাদ হয়। তার প্রতিশ্রুতিতে জমিদার মথুরানাথ মুখার্জী জেমস হিলকে মেহেরপুরের কর্তৃত্ব নিতে দেননি। পরে তার পুত্র চন্দ্র মোহন মোটা অংকের অর্থের নজরানা দিয়ে মেহেরপুর জেমস হিলের হাতে তুলে দেন। চন্দ্র মোহনের পুত্র মহেশ মুখোপাধ্যায় জেমস হিলের মন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনিই নীলদর্পণ নাটকে গুপে দেওয়ান নামে খ্যাত হয়েছেন। ১৮১৫-২০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মেহেরপুরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মধ্যে নীলকুঠি ও আমঝুপি নীলকুঠি প্রধান। এছাড়াও গাংনীর কাথুলী, সিন্দুর কোটা, বামন্দী, সাহেবনগর, মহম্মদপুর, ষোলটাকা, বেতবাড়িয়া, কাজীপুর, গোয়ালগ্রাম নীলকুঠি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নীল গাছ দেখতে অনেকটা ভাং বা গাঁজা গাছের মত। এই গাছ সাধারণত ৪/৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। বছরে দু’বার নীল গাছের চাষ করা হতো।