মানসিক চাপ জয় করবেন কিভাবে

আধুনিক জীবনে যেকোন বিপর্যয় অথবা নেতিবাচক ফলাফলের জন্য দায়ী করা হয় স্ট্রেচ বা মানসিক চাপকে। সোনার সংসার থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে পর্যন্ত ধ্বংস করে দিতে পারে এই মানসিক চাপ। অফিসে যাবার সময় ট্রাফিকজ্যাম, বাজারের ফর্দের সামান্য ভুল থেকে স্ত্রীর বকুনি, প্রিয়জনের আঘাত, পাওনাদারের চাপ, এলোমেলো জীবন, এমনকি বিদ্যুত্ বিল, ট্যাক্স পে বিলম্বের কারণেও হতে পারে স্ট্রেচ। হূদরোগ, হার্ট এ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত স্ট্রেচ থেকে। অথচ ওষুধ ছাড়াই আপনার মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন অতি সহজে। থাকতে পারেন সুন্দর, সাবলীল, হতে পারেন প্রিয়জনবান্ধব। আর এই মানসিক চাপ কমানোর ১১টি পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। আর এসব পরামর্শ হচ্ছে এক: মন খুলে হাসাকে বলা হয় স্ট্রেচের এন্টিডট। কঠিন সমস্যায়ও যদি প্রাণ খুলে হাসতে পারেন তবে বেঁচে গেলেন। হাসি মানসিক ও শারীরিক টেনশন কমায়। দুই: প্রিয় শিল্পীর গান শুনুন। সঙ্গীতকে বলা হয় মানসিক চাপ, উদ্বেগ, টেনশনের দাওয়া। এতে আপনার মন উজ্জীবিত হতে পারে। তিন: বন্ধুকে নিয়ে কোন নির্জন দ্বীপ, সমুদ্র সৈকত অথবা লংড্রাইভে যান। খানিকটা সময় একেবারে অন্য জগতে থাকতে চেষ্টা করুন। এতে মন ভালো হতে পারে। আসতে পারে যেকোন নতুন আইডিয়া। চার: জনপ্রিয় লেখকের বই পড়ুন। এতে আপনার ভাবনার পরিবর্তন এনে দিতে পারে। পেতে পারেন সমস্যা জয়ের কোন কৌশল। প্রিয় কোন লেখক না থাকলে বেস্ট সেলার বা সর্বাধিক বিক্রীত বই পড়ুন। পাঁচ: নিয়মিত ব্যায়াম করুন। বিশেষ করে হূদবান্ধব ব্যায়াম যেমন: হাঁটুন বা সুইমিং করুন। এতে এন্ডরফিন হরমোন নিঃসরিত হবে বেশি। যা মুড ভালো করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। স্ট্রেচ কমাতে দীর্ঘ সময় সুইমিং সবচেয়ে বেশি কার্যকর। ছয়: সম্ভব হলে বডি ম্যাসাজ বা ফেসিয়াল ম্যাসাজ নিন। এতে রিল্যাক্সড ফিল করবেন। কমবে মানসিক চাপ। তবে ম্যাসাজ হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত, সুন্দর পরিবেশে। সাত: জীবনের চলার পথটাকে একটু সাজিয়ে-গুছিয়ে নিন। অফিস বা বাসার বিলগুলো ঠিকঠাক মত রাখুন এবং যথাসময়ে পে-করুন। থাকতে চেষ্টা করুন শৃঙ্খলার মধ্যে। আট: কফি কম পান করুন। গ্রিন টি খেতে চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন ক্যাফেইন স্ট্রেচ হরমোন নর-এপিনেফ্রিন নিঃসরণ বাড়ায়। এতে মানসিক চাপ বাড়ে। পক্ষান্তরে গ্রিন টি বা সবুজ চায়ের এল-থিয়েনিন মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। নয়: পর্যাপ্ত ঘুমানোর অভ্যাস করুন। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। রাতে ভালো ঘুম হলে পরে ভালোভাবে দিনটা শুরু করা যায়। বেশি রাত জেগে পড়াশুনা বা অফিসের কাজ করবেন না। রাত জেগে দেখা যাবে না টিভি। দশ: আপনার জীবনসঙ্গী অথবা পোষা প্রাণীর সঙ্গে কিছু সময় একান্তে কাটান। পরিচর্যা করুন বাগানের। এতে মন ভালো হতে পারে। একান্তে সময় কাটানোর অর্থ এই নয় কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। প্রিয়জনের সঙ্গে হালকা বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। এগার:দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি বা জীবনসঙ্গী-সঙ্গীনীর একে অপরের আস্থার ঘাটতি অথবা অপ্রাপ্তি থেকেও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। মনে রাখতে হবে মানসিক চাপ যখন অতিমাত্রায় খারাপের দিকে যায় তখন অবশ্যই কোন সংশ্লি¬ষ্ট চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। লেখক:চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ