চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রবাসী দুই ফুটবলার এখন ঢাকায়
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৩, ২২:২২
দুই অনাবাসী বাংলাদেশি ফুটবলার জামাল ভুঁইয়া ও আনন্দ রহমান গতকাল রবিবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ডাকা জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। প্রাথমিক তালিকায় থাকা অপরজন জার্মান প্রবাসী রিসাত এখনো এসে পৌছাননি। তবে এদের খেলা নির্ভর করবে সাফ ক্যাম্পে ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফের কাছে ট্রায়াল দেয়ার পর।
ডেনমার্ক প্রবাসী ফুটবলার জামাল ভুঁইয়া গতকাল ভোরে ঢাকায় পৌঁছান। আর দুপুরে আসেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আনন্দ রহমান। সাফ ক্যাম্পে ট্রায়াল দিবেন দু’জন। বাংলাদেশ ফুটবল দলের হয়ে খেলার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা ঢাকায় এসেছেন। কতটা পারবেন তা এখনই বলা না গেলেও উভয়েই জানিয়েছেন তারা চূড়ান্ত দলে টিকে থাকার জন্য প্রাণপণ লড়াই করবেন।
জামাল ভুঁইয়া ভ্রমণক্লান্তির কারণে সকালে কথা বলতে পারছিলেন না। চোখে মুখে ঘুম নিয়ে কথা বললেন তিনি। ডেনমার্কে জন্ম জামালের। বাবা ইনসান ভুঁইয়া। কিশোরগঞ্জ তাদের বাড়ি। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জামাল ডেনমার্কের দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে হেলেরুপ ইডরেটস ক্লাবে খেলেছেন বলে জানান। গত লিগে রানার্সআপ হয়েছে তার দল। ফিলিপাইনেও খেলেছেন এই তরুণ। জামাল বাংলা খুব একটা বলতে পারেন না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, ‘একটু একটু পারি। সাবাশ। এর চেয়ে বেশি কিছু পারি না।’ তবে বাংলা কিছুটা বোঝেন তিনি। মা-বাবা বাংলাদেশি। সেই সূত্রে বাংলা বুঝতে পারেন। এদেশের প্রতি তার অনেক ভালবাসা। মা-বাবার মুখে বাংলাদেশের কথা শুনেছেন। এদেশের ভালো-মন্দ দিকগুলো জেনেছেন। শুনতে শুনতে এদেশের প্রতি তার ভালোবাসা প্রগাঢ় হয়।
এদেশের ফুটবলের জন্য জামাল খেলতে চান। জাতীয় পতাকা মাথায় জড়িয়ে ফুটবল মাঠে দেশের জন্য লড়তে চান। জামাল বললেন, ’আমি টিকব কিনা সেটা বলতে পারছি না। তবে এটা আমার জন্য একটা পরিক্ষা।’ কথা বলতে বলতে ঘুমাতে চলে গেলেন জামাল ভুঁইয়া। এর আগেও তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন ট্রায়াল দিতে। কিন্তু পাসপোর্ট জটিলতায় খেলা হয়ে উঠেনি তার।
আনন্দ রহমান দুপুরে বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবনে পৌঁছান। ছোটখাটো গড়নের এই ফুটবলার সিডনীতে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে খেলেছেন বলে দাবি করেন। মিডফিল্ড পজিশনের এই ফুটবলার ২৪ ম্যাচে ৯ গোলও করেছেন তিনি। বয়স তার বিশ। বাড়ি রাজশাহী হলেও জন্ম ঢাকায়। এক বছর বয়সে বাবা-মায়ের সাথে অস্ট্রেলিয়া চলে যান। এর মধ্যে চারবার ঢাকা ঘুরে গিয়েছেন। এবার এসেছেন ফুটবল মাঠে নিজের যোগ্যতা যাচাই করতে।
ডাচ কোচের কাছে পরিক্ষা দিতে চান সিডনী ইউনিভার্সিটির হয়েও খেলা ফুটবলার আনন্দ রহমান। ইন্টারনেটে ইউটিউবে দিল্লী সাফ চ্যাম্পিয়নশীপে বাংলাদেশের খেলাগুলো দেখেছেন। নিজেদের বাংলাদেশের জার্সি গায়ে কল্পনাও করেছেন। তাতে অনুভব করেন বাংলাদেশ ফুটবলের খেলার যোগ্যতা রয়েছে তার। বিশ্বাস করেন নিজের সামর্থ্যে। দুপুরে বাফুফে ভবনে বসে আনন্দ রহমান বললেন, ‘আমি নিজের সামর্থ্যকে বিশ্বাস করি। যোগ্যতা দিয়ে জাতীয় দলে খেলতে চাই। দেশের জন্য প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।’
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে ভালোমানের খেলোয়াড়ের প্রয়োজন রয়েছে। একটা শক্তিশালী দল গড়ার লক্ষ্যে ভালো মানের খেলোয়াড় জোগাড়ের চিন্তা থেকেই প্রবাসী বাঙ্গালি ফুটবলার খুঁজছিলেন ডাচ কোচ। প্রবাসী বাঙ্গালি ফুটবলাররা অনেকেই ক্রুইফের সাথে যোগাযোগ করলে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি এবং ডেনমার্কের তিনজন প্রবাসী ফুটবলারকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানান তিনি।