বিশ্বকাপের ‘ডেডলাইন আগস্ট’

বাংলাদেশে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে যে শঙ্কা সত্যি সত্যি ছিল, সেটা অন্তত নিশ্চিত করল এবার আইসিসি। একই সঙ্গে লন্ডনে শনিবার শেষ হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী বিভিন্ন কমিটির সভা ও সাধারণ সভা শেষে পাঠানো বিবৃতিতে তারা নিশ্চিত করেছে, ভেন্যুর সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না আইসিসি। বরং বাংলাদেশকে আগামী আগস্ট পর্যন্ত একটা চূড়ান্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই সংস্থাটি। এর মধ্যে বাংলাদেশকে ভেন্যু সংস্কার ও আবাসন ব্যবস্থা সন্তোষজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। তা না পারলে তখন নতুন সিদ্ধান্ত নিলেও নিতে পারে আইসিসি। বাংলাদেশে ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়ে আছে অনেক আগে থেকেই। সবসময়ই অবকাঠামোগত দিক থেকে ভালো পারফরম্যান্স করা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর আস্থার অভাব দেখানোরও কখনো প্রয়োজন বোধ করেনি আইসিসি। বিশেষ করে মাত্র তিন বছর আগেই ওয়ানডে বিশ্বকাপ উপলক্ষে দুইটি মূল ও দুইটি বিকল্প ভেন্যু প্রস্তুত রাখা বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ করার কারণ ছিল না। কিন্তু সন্দেহটা তৈরি করে দেয় সিলেট ও কক্সবাজারের দুইটি সম্ভাব্য ভেন্যু। পুরুষদের বিশ্বকাপ উপলক্ষেই সিলেট স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক রূপ দিয়ে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল বিসিবির। আর মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হওয়ার কথা ছিল কক্সবাজারে পরিকল্পিত নতুন স্টেডিয়ামে; কিন্তু কার্যত দুইটি কাজই নানান আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। সর্বশেষ আইসিসির ভেন্যু-উপদেষ্টাদের একটি দল বাংলাদেশ সফর করে কাজের এই ধীরগতি নিয়ে আইসিসিকে উদ্বেগজনক রিপোর্ট দেয়। যে রিপোর্টের কথা জানতে পেরে লন্ডন সভায় যাওয়ার আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। আইসিসির বিবৃতিতে বলছে, আশঙ্কাটা অমূলক ছিল না। তারা বিবৃতিতে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেই বাংলাদেশকে এই ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিল, ‘আইসিসি ভেন্যু-উপদেষ্টাদের রিপোর্ট দেখেছে আইডিআই বোর্ড (আইসিসি ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট বোর্ড)। এই রিপোর্ট দেখে কক্সবাজার ও সিলেটের নির্মাণ, সংস্কার ও খেলোয়াড়ি সুবিধা নিয়ে আইসিসি যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। বোর্ড এখন জানাচ্ছে যে, আগামী আগস্টে পরবর্তী একটি পরিদর্শন হবে, যার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের অন্তত ছয় মাস আগে ভেন্যুগুলোকে পুরো প্রস্তুত থাকতে হবে এবং আবাসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে হবে। এখন বিসিবির সামনে চ্যালেঞ্জ যে, আগস্টে সেই তৈরি থাকার ব্যাপারটা পরিদর্শকদের নিশ্চিত করতে পারতে হবে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আশাবাদী। এই যে এক মাস সময় পাওয়া গেছে, এই সময়ে কাজের গতি বাড়িয়ে পরিদর্শকদের সন্তুষ্ট করা যাবে বলেই মনে করছেন তিনি। লন্ডনে সাংবাদিকদের পাপন বলছিলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনোরকম সন্দেহই নেই যে, কাজ যথাসময়ে শেষ হবে। সিলেট স্টেডিয়ামে সরকারই কাজ দেরী করে শুরু করেছে; তবে এখন কাজ চলছে সর্বোচ্চ গতিতে। আমি সর্বশেষ কাজের পরিকল্পনা দেখে এসেছি। তাতে আমি সন্তুষ্ট যে, কাজ সময়মতো শেষ হবে। কক্সবাজারের ক্ষেত্রে মূল ইস্যুটা হল জমি। এখন আমাদের হাতে জমিটা চলে এসেছে। ফলে আমরা সব শর্ত পূরণ করতে পারবো বলেই মনে করছি।’ সবচেয়ে বড় কথা হল, পাপন বলছেন, তিনি আইসিসিকে এটা বোঝাতে পেরেছেন যে, যদি বিকল্প ভেন্যু দরকারই হয়, সেটাও বাংলাদেশেই দেয়া সম্ভব। এর আগে আইসিসি সহ-সভাপতি ও বিসিবির সাবেক সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল যেটা বলেছিলেন, সেটাই এবার আইসিসিকে বলেছেন পাপন, ‘আমাদের তো আগেরই পরীক্ষিত ভেন্যু আছে। সিলেটের বিকল্প হিসেবে ফতুল্লায় আন্তর্জাতিক ভেন্যু আছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের বিকল্প হিসেবে বিকেএসপিতে আইসিসির গাইডলাইন মেনেই দুইটি ভেন্যু তৈরি করা হচ্ছে।’ ভেন্যু সংকট মিটলে বাকী থাকবে আবাসন সমস্যা। আবাসন সমস্যাও এই সময়ের মধ্যে মিটে যাবে বলে মনে করছেন পাপন। বিশেষ করে রূপসী বাংলা হোটেলটির সংস্কার হলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে বিশ্বাস বিসিবি সভাপতির।