উন্নয়নের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি আজমত উল্লাহ খানের
মুজিবুর রহমান, কাজী রফিক ও আসাদুজ্জামান সাদ গাজীপুর থেকে
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৩, ২৩:০২
বিজয়ী হলে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বৃহত্তর পরিকল্পনার একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খান। গতকাল ‘গাজীপুর নগরী: উন্নয়ন পরিকল্পনা’ শীর্ষক তার ১০ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি তার নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘নগর উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি’ গঠন করে সকল স্তরের মানুষের সমন্বয়ে উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে। সেই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন, নগরীর আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি নগর ভবনকে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অঙ্গীকার করে দোয়াত কলাম প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
গতকাল রবিবার দুপুরে জেলা শহরের দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকার ট্রাস্ট কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতিমুক্ত জবাবদিহিমূলক স্বচ্ছ প্রশাসন ও সকল জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সিটি কর্পোরেশনকে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল জোন, রেসিডেন্সিয়াল জোন ও কমার্শিয়াল জোনে ভাগ করে পরিকল্পিত নগর প্রতিষ্ঠা, গাজীপুরের নগর ভবনকে আধুনিক করে গড়ে কাশিমপুর-কোনাবাড়ি, বাসন-কাউলতিয়া, গাছা-পূবাইল, সাবেক গাজীপুর পৌরসভা ও টঙ্গী পৌর এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের পাঁচটি আধুনিক মানের আঞ্চলিক অফিস প্রতিষ্ঠা করে নাগরিক সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।
যোগাযোগ ব্যবস্থা : সিটি কর্পোরেশনের চারদিকে বিশেষ করে কহর দরিয়া, তুরাগ ও চিলাই নদীর তীর ঘেঁষে টঙ্গী, গাছা, কাশিমপুর, কোনাবাড়ি, বাসন, কাউলতিয়া, জয়দেবপুর, পূবাইলসহ সকল এলাকাকে সংযোগ করে প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ, জয়দেবপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত রেললাইনের পাশে প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ, জয়দেবপুর রেলক্রসিংয়ের উপর ফ্লাইওভার, পর্যায়ক্রমে চৌরাস্তা বাইপাস মোড়, পূবাইল মিরের বাজার, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, টঙ্গী, কাউলতিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণ, নগরীর যানজট নিরসন করার জন্য সরকারি সহযোগিতায় অত্যাধুনিক আরটিকুলেটেড বাস সার্ভিস চালু, প্রতিটি ওয়ার্ডে বিদ্যমান রাস্তার উন্নয়ন, নতুন রাস্তা নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্রীজ ও কালভার্ট ও ফুট ওভারব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগে নেয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
নাগরিক সেবা : প্রতিটি ওয়ার্ডে কবরস্থান, কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক, পাঠাগার, খেলার মাঠ, শিশুপার্ক, বিনোদন কেন্দ্র ও মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, নিরাপত্তাসহ সার্বিক ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করাসহ সিটি কর্পোরেশনের সকল এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেবেন তিনি।
এছাড়া, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দাতাগোষ্ঠী, এনজিও এবং কর্পোরেশনের নিজস্ব আর্থিক সহায়তায় গোসলখানা, টয়লেট, রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা, দরিদ্র মহিলাদের আত্মনির্ভরশীল করা লক্ষ্যে অর্থ সহায়তা প্রদান, নারী ও শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচী গ্রহণ করা, পোশাক শিল্পের শ্রমিক ভাইবোনদের জন্য সরকার ও মালিক পক্ষের সহযোগিতায় বাসস্থান, বেতন ভাতাদি, নিরাপত্তা ও অন্যান্য অধিকার বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়ার উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
এর বাইরে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি, ইভটিজিং, বাল্য বিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতনসহ অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধের লক্ষ্যে সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে নগর উন্নয়ন ও আইন-শৃংখলা কমিটি গঠন, কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিটি ওয়ার্ডে স্যাটেলাইট ক্লিনিট, সুবিধা বঞ্চিত ওয়ার্ড মাতৃসদন বা মা ও শিশু সদন স্থাপন, নিজস্ব এম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবস্থা ইত্যাদির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।